Sharing is caring!

goda photoসফিকুল ইসলাম গোদাগাড়ী থেকে \ সব্জি চাষ  করে আলোড়োন সৃষ্টি করেছে গোদাগাড়ীর কৃষক পিয়ারুল। তার সাফল্য দেখে এলাকার বেশীর ভাগ কৃষক এখন সব্জি চাষে ঝুঁকছে। পিয়ারুল এখন গোদাগাড়ী উপজেলায় সব্জি চাষের মডেল। প্রতিদিন ২/৪ জন কৃষক আসে তার কাছে সব্জি চাষের পরার্মশ নিতে। বর্তমানে সে মাচা করে টমেটো ও শিমের চাষ করছে। মাচা করে টমেটো ও শিম চাষ করায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষকরা এসে তার সব্জি ক্ষেত দেখে উৎসাহ পাচ্ছে এবং তারাও সব্জি চাষে ঝুকছে। সব্জি চাষি পিয়ারুলের সাফল্যে এলাকার সে সব্জি পিয়ারুল হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। সব্জি পিয়ারুল না বললে এলাকায় কেউ তাকে চিনতেও পারে না। সব্জি পিয়ারুল রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ধরমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বয়স এখন ৫৫ বছর। তার বাড়ীতে গিয়ে কথা হয় সব্জি পিয়ারুলের সাথে। এ প্রতিবেদককে শুনালেন তার সব্জি পিয়ারুল হয়ে উঠার কথা। ১৯৮৬ সালে বৌ-বাচ্চা নিয়ে বাবার পরিবার থেকে বাবা তাকে পৃথক করে দেয়। সংসারের তাগিদে পিয়ারুল শুরু করে সব্জির ব্যবসা। হাটে হাটে সব্জি বিক্রি করে কোন রকম পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করতো। এতে তার সংসারের অভাব অনটন লেগেই থাকতো। সংসারের চাপ সামলাতে হিমসিম খেতো সে। তারপরও সন্তানদের মানুষ করার ভাবনা তাকে কুরে কুরে খেতো। ১৯৯০ সালে পিয়ারুল ৮ কাঠা জমি লিজ নিয়ে টমেটো চাষ শুরু করে। টমেটো চাষ করে সব খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ হয় ১৬ হাজার টাকা। এ থেকেই শুরু হয় পিয়ারুলের বিভিন্ন সব্জি চাষের সংগ্রাম। সব্জি চাষ করে পিয়ারুল সাফল্য পেয়েছে ভাল। ভুমিহীন থেকে সে এখন ৭ বিঘা আবাদি জমির মালিক। বসত ভিটা কিনে ইট গেঁথে একটি বাড়ি তৈরী করেছে। ২ ছেলে ও ১ মেয়ে। মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। বড় ছেলে শামিম হোসেন রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ছোট ছেলে সবুর হোসেন সুমন এস.এস.সি পরীক্ষার্থী। তার এ সাফল্যের পিছনে রয়েছে সব্জি চাষ।  চলতি মৌসুমে সব্জি পিয়ারুল উপজেলার কমলাপুর মাঠে মাচা করে পোনে ২ বিঘা জমিতে শিম ও ১২ কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করেছে। তার শিম ও টমেটো উঠতে শুরু করেছে। শিমের জমিতে সাথি ফসল হিসাবে লাউ গাছ লাগিয়েছে। শিম শেষ হলে লাউ উঠা শুরু করবে একই ক্ষেত থেকে। শিমের জমিতে শিম চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ২ বার শিম তুলে তার আয় হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। সে আশা করছে শিম থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে। পানি সংকটের কারনে শিমে ফলন ভালো হচ্ছে না। তবে মাচা করে ১২ কাঠা টমেটো চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। রাজশাহীর নওদাপাড়ার আমজাদের কাছ থেকে টমেটোর বীজ এনে টমেটো চাষ করেছে। টমেটোর ফলন বিঘা প্রতি ৬’শ মন হতে পারে বলে আশা করছে সব্জি পিয়ারুল। দাম পেলে ভাল লাভবান হবে সে। এছাড়াও সে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে টমেটোসহ অন্য সব্জি চাষ করেছে। তবে সব্জি পিয়ারুলের অভিযোগ তার এলাকায় দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-কৃষি সহকারী ফিরোজকে পরার্মশ করার জন্য ডাকলেও কোন দিন আসেন না তিনি।  দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-কৃষি সহকারী ফিরোজের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোজদার হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি নিজে সব্জি পিয়ারুরের সব্জি ক্ষেত পরির্দশন করবো এবং সরকারী সহায়তাসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করবো চাষী পিয়ারুলকে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *