Sharing is caring!

গোদাগাড়ী থেকে সফিকুল ইসলাম \ পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে গোদাগাড়ী থানার কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক বেলাল হোসেনকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে ওই কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্তব্যরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, বেলাল হোসেন তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, কাঁকনহাট তদন্ত কেন্দ্রের আবাসিক কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলায় বেলাল এবং তৃতীয় তলায় কনস্টেবল (ওয়ারলেস অপারেটর) সাইদুল ইসলাম বউ নিয়ে থাকেন। সোমবার রাতে দাফতরিক কাজে সাইদুলকে ঢাকায় পাঠান ইন্সপেক্টর বেলাল। কিন্তু রাজশাহী রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেন না পেয়ে কাঁকনহাটে ফিরে আসেন সাইদুল। কোয়ার্টারে ফিরে সাইদুল দেখতে পান তার স্ত্রী ঘরে নেই। বিষয়টি সন্দেহজনক হলে তৃতীয় তলায় যান। এ সময় বাইরে থেকে তার স্ত্রী এবং ইন্সপেক্টর বেলালের হাসির শব্দ শুনতে পান। পরে তিনি কোয়ার্টারের বাইরের দরজায় তালা দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল এএসপি এবং গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি ঘটনাস্থলে যান। এসময় ওই কোয়ার্টারের মধ্যে ইন্সপেক্টর বেলাল এবং সাইদুলের স্ত্রীকে দেখতে পান তারা। ইন্সপেক্টর বেলাল ওই কোয়ার্টারে একাই থাকেন। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী নগরীতে ভাড়া বাসায় থাকেন। সাইদুলকে মাঝে-মধ্যেই দাফতরিক কাজে রাজশাহী ও ঢাকা পাঠান ইন্সপেক্টর বেলাল। এ সুযোগে তার স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাতেও মাদকের নমুনা নিয়ে তিনি ওই কনস্টেবলকে ঢাকায় পাঠান। কিন্তু রাতে ওই কনস্টেবল রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে পোঁছার আগেই ট্রেনটি প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে যায়। ওই কনস্টেবল রাত ২টার দিকে তদন্ত কেন্দ্রের কোয়ার্টারে ফিরে যান। এসময় তিনি দেখেন-নিচতলায় তার স্ত্রী ঘরে নেই। পরে তিনি দ্বিতীয় তলায় গিয়ে বেলালের সঙ্গে তার স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। ওই কনস্টেবল এই সময় বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এরপর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী, সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার একরামুল হক ও গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে বেলালের ঘরের তালা খুলে দুজনকে একসঙ্গে পান। এরপর সঙ্গে সঙ্গে বেলালকে প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা ওই রাতেই বেলাল হোসেনকে জেলা পুলিশ লাইনে নিয়ে যান। তবে ওই কনস্টেবল এবং তার স্ত্রীকে তদন্ত কেন্দ্রেই রাখা হয়। জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, এটা নৈতিক অবস্থায়। পুলিশ বাহিনীতে এ ধরনের অপরাধ সহ্য করা হয় না। বেলালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা। মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে কথা বলতে চাননি সহকারী পুলিশ সুপার একরামুল হক।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *