Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার ও রিপন আলি রকি \ অবশেষে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার আবু তালেবের ছেলে মো. সাদ্দাম মৃত্যুর রহস্য বেরিয়ে এসেছে। সাদ্দাম বিভিষন সীমান্ত এলাকা দিয়ে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হলেও সাদ্দামের পরিবারের করা মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে দিন কাটাচ্ছে  গোমস্তাপুরের ২ যুবক। এরা হচ্ছে, গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের জশৈইল গ্রামের ইসমাইল আলীর ছেলে নয়ন ও একই গ্রামের একরাম আলীর ছেলে হচ্ছে তুষার আলী। মিথ্যা অভিযোগের হয়রানী থেকে বাঁচতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে মিমাংসা হলেও আবারও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করা অভিযোগে এঘটনা ঘটে। মিথ্যা অভিযোগ থেকে অব্যহতির মাধ্যমে দায় থেকে মুক্ত হতে চাই আটক ২ যুবকের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিএসএফ’র গুলিতে সাদ্দাম নিহত হলেও পরিবারের করা মিথ্যা অপহরণ মামলায় নয়ন আলী ও তুষার আলী কারাগারে দিন কাটাচ্ছে। প্রায় একমাস যাবত মিথ্যে মামলার দায়ে এই দুই যুবকের দিন যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে। অনুসন্ধান ও সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিবিষণ বিওপি সীমান্তে বরাবরের মত চোরাই পথে জশৈইল বিভিষণ গ্রামের ১২/১৩ জনের একটি দল রাত ৩টার দিকে ভারতীয় গরু আনতে যায়। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে। এতে মো. মাসুম (১৯), মো. তালেব (২২) ও মো. রবিউল (২০) নামের তিন যুবককে আটক করে বিএসএফ। বর্তমানে তারা ভারতের কারাগারে বন্দি রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আটককৃতদের পরিবার। বাকিরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরিয়ে পালিয়ে আসলেও ঐ দলে থাকা আবু তালেবের ছেলে মো. সাদ্দাম মিয়া ফিরে আসেনি বা তার কোন সন্ধানও ছিলনা দীর্ঘদিন। ঘটনার পরেই সাদ্দামের লাশ এলাকার অনেকেই নদীতে ভাসতে দেখে গ্রামের লোকজন লাশ আনতে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যদের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান রাধানগর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান নুহু। তিনি আরও জানান, সাদ্দামের সাথে থাকা যুবকগুলোর কাছ থেকে শুনেছি সাদ্দাম বিএসএফ’র গুলিতে মারা গেছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার ৩ দিন পর ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সাদ্দামের স্ত্রী তাজরিন বেগম বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিজ্ঞ আমলী আদালত (ঘ) অঞ্চলে বিভিষণ গ্রামের নয়ন, ¯^পন, তুষার, ইসমাইল, বাবু, আকতারুলসহ মোট ৬ জনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা (২৮৮/১৭ গোমঃ) দায়ের করে। মামলার ৬ জন আসামির মধ্যে একই পরিবারের রয়েছে ৩ জন, জশৈইল গ্রামের ইসমাইল এবং তার ছেলে নয়ন ও ¯^পন। মামলা চলার কিছুদিন পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সাদ্দামের অবর্তমানে থাকা তার অসহায় পরিবারকে কিছু অর্থ দিয়ে বাদী ও আসামী উভয় পক্ষের মাঝে মিমাংশা করে দেয় এবং মামলা প্রত্যাহার করে নেয় সাদ্দামের স্ত্রী বাদী তাজরিন বেগম। কিন্তু হটাৎ আবারো ১ মাস ১৯ দিন পর ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর সাদ্দামের পিতা আবু তালেব বাদী হয়ে পূর্বের এজাহার দিয়ে ঐ ৬জনকেই আসামী করে পুনরায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত (ঘ) অঞ্চলে (৩৫৩ পি/১৭ গোমঃ) মামলা দায়ের করে। আর এই মামলার কারণেই নয়ন ও তুষার বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। মিমাংশা হওয়ার প্রায় দেড় মাস পরে আবারো কেন মামলা করা হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাধানগর ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান মামুনর রশিদ বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্রমুলক ঘটনা ও মিথ্যে মামলা। কে বা কারা সাদ্দামের পরিবারকে দিয়ে গ্রামের অসহায় এ লোকগুলোকে হয়রানি করাচ্ছে। এলাকার সকলেই জানে সাদ্দামসহ এলাকার অনেক যুবক টাকার লোভে দীর্ঘদিন যাবত চোরাই পথে গরু আনতে যেত। আর সাদ্দাম গরু আনতে গিয়েই নিখোঁজ হয়েছে অথবা মারা গেছে। ঘটনাটি মিমাংশা হওয়ার পরও এসব মিথ্যে মামলা মোকর্দমা করে শুধু শুধু হয়রানি করছে বলে তিনি জানান। তবে, সাদ্দাম অবৈধ্য পথে গরু আনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে সাদ্দামের বিরুদ্ধে বিজিবি’র বিবিষণ বিওপি’র করা দুটি মামলায়। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই  ১২নং মামলার ১৬নং আসামী হিসেবে চিহ্নিত মো. সাদ্দাম মিয়া এবং ৪ আগাস্ট ২০১৭ তারিখের ২নং মামলার ১১নং আসামীও সাদ্দাম। এ বিষয়ে জশৈইল বিবিষণ গ্রামের আলহাজ্ব মঞ্জুর বিশ্বাষ, জামাল উদ্দিন, বদিউজ্জামান, মিজানুর রহমান, জিয়াউর রহমানসহ অনেকের কাছে জানতে চাইলে সকলেই বলেন, সাদ্দামসহ ১২/১৩ জন মিলে সীমান্তে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়েছে সাদ্দাম এবং একসাথে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়া ৩ জন এখনও ভারতের কারাগারে আছে। এছাড়াও কথা হয় ভারতের কারাগারে বন্দি থাকা জশৈইল গ্রামের মাসুমের পিতা আব্দুস সাত্তারের সাথে। তার কাছ থেকেও জানা যায় ঘটনার একই বিবরনণ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *