Sharing is caring!

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি \ নর্থ পাওয়ার জোন কোম্পানী লিমিটেড(নওজো পাডিকো) চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর (বিদ্যুৎ ও বিতরণ বিভাগের) উদাসিনতায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। মিটার না দেখে তৈরি করা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। অভিযোগ করেও সমাধান মিলছে না গ্রাহকদের। অনুসন্ধানে জানা যায়, মিটার নং-১০৫২ এ গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ সালে দেখানো হয় ১০৫৯০ ইউনিট। কিন্তু ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ মিটারে ওঠেছে ১০২৫০ ইউনিট। প্রায় এক মাস আগেই দেখানো হয়েছে প্রায় ৬০০ ইউনিট বেশি। এছাড়া ইসলামনগর গ্রামে মিটার গ্রাহক রবিউল করিমের নামের পরিবর্তে ওবাইদুল করিম লেখা হয় তাকেও দেওয়া হয় ভূতুড়ে বিল। শুধু তাই নয় উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মোসা মালেকা খাতুনের নামে ৪ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল দেয়। বিল পরিষদের পরের মাসে দেওয়া হয় ১৪ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল। এত টাকা বিলের প্রতিবাদ করায় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন মিটার খুলে বিদ্যুৎ আদালতে মামলা করে। মামলা নং-৫৩, তাং-০৬-০৪-২০১৪। বর্তমানে ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকার মামলা কাধে নিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন গোপালনগর গ্রামের মৃত আব্দুল কাউয়ুমের ছেলে শফিকুল ইসলাম। শফিকুল বাড়িতে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও তার নামে বিদ্যুৎ চুরির মামলা করে সহকারী প্রকৌশলী সচিব। যার মামলা নং-৩৫, তাং-১৭/০৫/২০১৫। এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আলীনগর ইউনিয়নের নাদেরাবাদ গ্রামের হায়দার আলীর বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার পরও দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। গোমস্তাপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছে এলাকাবাসী। নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগে পাওয়া গেছে। দাখিলকৃত অভিযোগের অনুলিপি সূত্রে জানা গেছে, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন সংযোগ স্থাপনের নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ট্রান্সফরমার পূণঃস্থাপনের জন্য নাচোল পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামের নিকট ২৫ হাজার ঘুষ গ্রহণ করা হয়। যার অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের “জনতার মুখোমুখি” অনুষ্ঠানে উত্থাপন করা হয়। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে জরিমানাকৃত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজ পকেটে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। গোমস্তাপুর ইউনিয়নের অভিমান্যপুর মৌজায় অবস্থিত মন্ডল অটো রাইস মিলে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে সিস্টেমলস মেকাপের নামে সাধারণ গ্রাহকদের মাথার উপর অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। গ্রাহকদের নিকট থ্রি-ফেজ মিটার প্রদানের জন্য হাজার হাজার টাকা অর্থ নেয়া হয়ে থাকে বলে অভিযোগ করেছে। অনেক গ্রাহকের এ্যানালগ মিটার থাকলেও তা পরিবর্তন না করে কমবিল দেখানো হয়। স্টোর হতে নানা বিদ্যুৎ সামগ্রী স্টোর কিপার জাহাঙ্গীর ও নিরাপত্তা প্রহরী কাউসারের সহযোগীতায় অন্যত্র বিক্রয় করে তার অর্থ আতœসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও লেজার কিপার বাবলুর সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল না তৈরী করে ইষ্টিমেট বিল প্রদান করা হয়। পোল ও এলটি লাইন সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও প্রকল্প এলাকায় কাজ না করে অন্যত্র কাজ করার একটি অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও তার পূর্বে কর্মস্থল লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া বাবদ ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯ শত ৩০ টাকার স্থলে ১৮ হাজার ৯ শত ৯ টাকা জমা দিয়ে বাকী টাকা আতœসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। একটি মহল আমার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে এসব করছে বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *