Sharing is caring!

ঘূর্ণিঝড় `বুলবুল` মোকাবেলায় প্রস্তুত সরকার

শক্তি বাড়িয়ে অতি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ধেয়ে আসছে ‘বুলবুল’। আজ শনিবার রাত থেকে রবিবার সকালের মধ্যে যেকোনো সময় বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের সুন্দরবনের ব-দ্বীপ অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে এটি। প্রতি মুহূর্তে শক্তি সঞ্চয় করে বুলবুল সুন্দরবন উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে খুলনা ও বরিশাল জেলার উপকূলীয় অঞ্চল। বুলবুলের প্রভাবে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সারাদেশে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। উপকূলীয় এলাকায় বইছে দমকা হাওয়া। ১০ বছর পর এই প্রথম কোনও ঘূর্ণিঝড়ের বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। প্রাকৃতিক সূর্যোগ মোকাবেলায় খুলনায় ৩৪৯টি, বরিশাল জেলায় ২৩২টি, পটুয়াখালীতে ৪০৩ টি, পিরোজপুর ২২৮টি সহ সকল সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রয়েছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে সরকারের তরফ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১শ’ মেট্রিকটন চাল, ২লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৬৬ বান্ডিল টিন এবং ৩ হাজার ৫শ’ টি কম্বল মজুদ রাখা হয়েছে। ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় ২২টি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে সরকার। শনিবারের জেএসসি-জেডিসি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দেশের ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রয়েছে। উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এনজিও কর্মী, রোভার ও স্কাউট সদস্যরা।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে জরুরি সেবা দিতে উপকূলীয় বেশিরভাগ উপজেলায় স্থাপন করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

বুলবুলের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায় জানান, এটি শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৫০ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৭৫ কি. মি.  দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের নিকট দিয়ে) অতিক্রম করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *