Sharing is caring!

Prachyo Palash
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান প্রাচ্য পলাশ। দেশের একজন প্রতিশ্রæতিশীল তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা। ইতোমধ্যে তিনি বেশকিছু ধারাবাহিক নাটক, একক নাটক, টিভিসি, ডকুমেন্টারী নির্মাণ করে প্রশংসিত হয়েছেন। বর্তমানে পূর্ণদৈর্ঘ্য রোমান্টিক চলচ্চিত্র ‘তুমি তুলনাহীনা’ ও এটিএন বাংলার জন্য প্রতিদিনের ধারাবাহিক নাটক ‘মীরা’ নির্মাণের কাজ করছেন। ইতোপূর্বে তিনি দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের একজন সম্মানীত আজীবন সদস্য। এ চলচ্চিত্র নির্মাতার সাম্প্রতিক কাজ ও দেশের চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে আলোচনায় নানান তথ্য ওঠে এসেছে। দৈনিক চাঁপাই দর্পণ এর পক্ষ থেকে সাক্ষাতকারটি গ্রহন করেছেন, সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু। পাঠকদের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সাক্ষাতকারের চম্বুক অংশ তুলে ধরা হলো।
* চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে আসায় আপনাকে অভিনন্দন।
** চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলো-বাতাস, মাটি, মহানন্দা-পদ্মা নদী, বিস্তৃর্ণ আমবাগানের কাছে আমি অনেক বেশি ঋনী। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রকৃতির সাথে মিশে থাকা সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
* বাংলা চলচ্চিত্রের অতীত গৌরব যখন কেবলই ইতিহাস তখন চলচ্চিত্র নির্মাণে কেন এগিয়ে এলেন?
** বাংলা চলচ্চিত্রের এমন ইতিহাস যেমন সত্য, ঠিক তেমনই প্রতিকূলতা জয় করা যে বাঙালি তরুণের ইতিহাস, একথাও সত্য। এদেশের তরুণরা যুগে যুগে ইতিহাসের বাঁকচিহ্ন সৃষ্টিতে অনবদ্য অবদান রেখেছেন, ভবিষ্যতেও রাখেবে।
* বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থাকে আপনি কেমন দৃষ্টিতে দেখছেন।
** বাংলা চলচ্চিত্রের মন্দা কাটিয়ে ওঠার সময় শুরু হয়েছে। বর্তমানে বাংলা চলচ্চিত্র সম্পূর্ণরূপে অশ্লীলতামুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এফডিসি’র আধুনিকায়নের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নির্মাতারা বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের চিন্তা করতে পারছেন।
* বাংলা চলচ্চিত্রের গল্প সংকট ও শিল্পী সংকটকে আপনি কিভাবে দেখেন।
** বাংলা চলচ্চিত্রের গল্প সংকট কখনো ছিল বলে আমি বিশ্বাস করি না। বরং ভাল গল্প নিয়ে কাজ করার প্রবণতায় সংকট ছিল। আর শিল্পী সংকট কাটিয়ে ওঠা নির্ভর করে ইণ্ডাষ্ট্রির বাজার কতো বড় সেটার ওপর। আমি মনে করি, বাংলা চলচ্চিত্রে বিনিয়োগের সুস্থ্য পরিবেশ আবার ফিরে আসছে। বিশেষ করে, স্যাটেলাইট পদ্ধতিতে প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র প্রদর্শনে সরকারি উদ্যোগ ও ডিজিটাল পদ্ধতির টিকিট বিক্রয় পদ্ধতি অচিরেই বাস্তবায়ন হতে চলেছে। ফলে একদিকে ভিডিও পাইরেসির কোন ঝুঁকি থাকছে না, অন্যদিকে প্রেক্ষাগৃহ সংশ্লিষ্ট কেউ দুর্নীতি করতেও পারবে না। এ পদ্ধতির ফলে চলচ্চিত্রে বিনিয়োগের ঝুঁকি শুন্যের কোঠায় নেমে আসছে।
* কবে নাগাদ এর সুফল বিনিয়োগকারীরা পাবেন?
** সরকার যেভাবে কাজ করছে তাMeera-01তে আগামী ৬ মাসের মধ্যেই এ পদ্ধতি নিশ্চিত হবে। অর্থাৎ এখন থেকে যারা চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করবেন তারা সবাই ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের আওতায় পড়বেন।
* সাম্প্রতিক সময়ের যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ ও দেশে হিন্দী চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
** দুই দেশের শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক একত্রে কাজ করা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে এক্ষেত্রে নির্মাণে দু’দেশীয় ‘রেসিও’ সমান থাকাটা নিশ্চিত করা দরকার। আর হিন্দী চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে বাণিজ্যিক ভাবে প্রদর্শন সম্প্রতি শুরু হয়েছে। এ নিয়ে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গণে বিরূপ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। তবে আমি মনে করি, ভিনদেশী চলচ্চিত্র প্রদর্শন হলো কি না- তা নিয়ে সময় অপচয় না করে বরং বর্হিবিশ্বে বাংলা চলচ্চিত্রের বাজার সৃষ্টি ও সম্প্রসারণে সরকার এবং বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযোজক ও নির্মাতাদের অনেক বেশি মনোযোগী হওয়া দরকার।
* বর্তমানে আপনি কি কি কাজ করছেন?
** সম্প্রতি দেশের সুনামধন্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলা ৫২০ পর্বের প্রতিদিনের ধারাবাহিক ‘মীরা’ নির্মাণের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে। ডেইলী সোপ মীরা’র স্ক্রীপ্ট রচনা করেছেন আজম খান। পারিবারিক কলহ ও সংকট বিষয় নির্ভর গল্প নিয়ে নির্মিতব্য ‘মীরা’র সম্ভাব্য শিল্পী হলেন- জাকিয়া বারী মম, রওনক হাসান, মৌসুমী হামিদ, আফরান নিশো, ইশানা, শ্যামল মওলা, কে.এস ফিরোজ, দিতি, ড. ইনামুল হক, শর্মিলী আহমেদ, আব্দুল্লাহ রানাসহ আরো অনেকে। এছাড়া রোমান্টিক ঘরনার একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের গান রেকর্ডিং-এর কাজ চলমান রয়েছে। ডেইলী সোপ ও চলচ্চিত্র দুটো কাজেরই প্রি-প্রডাকশন চলমান রয়েছে।
* চাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বমহলে আপনার অনেক শুভাকাক্সিখ ও ভক্ত রয়েছেন। তারা আপনার সর্বশেষ কাজের খবরা খবর কিভাবে পেতে পারেন?
** সার্বক্ষনিক আপডেট জানানোর প্রক্রিয়াটি শুরু করছে অল্পকিছুদিন সময় আরো লাগবে। তবে আমার ফেইসবুক-এ (Prachyo Palash) যুক্ত হয়ে অনিয়মিতভাবে হলেও কিছু কিছু খবর আপনারা পেতে পারেন। ইউটিউব-এ প্রাকৃত (PRAKRITA)  নামে একটি চ্যানেল চালু রয়েছে। খুব শীঘ্রই Prachyo Palash  নামে একটি ফেসবুক পেইজও চালু করা হবে। এছাড়া আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমেও যতোটা সম্ভব সর্বশেষ কাজের খবরাখরব জানাবো।
* চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল সম্পর্কে কিছু বলুন।
** চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ অত্যন্ত সাংস্কৃতিকমনা। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি পছন্দ করে না এ জেলার মানুষ। এ অঞ্চলের লোকসঙ্গীত ‘গম্ভীরা’ গানের রয়েছে বিশ্বব্যাপী নন্দিত গ্রহণযোগ্যতা। তাই সময়োচিত উদ্যোগ, যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলে আরো অনেক নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলেই আমার বিশ্বাস।
* “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” পত্রিকাকে সময় দেবার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
** আপনাকে, পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের ও সর্বপরি পাঠদের জন্য অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *