Sharing is caring!

চলমান রয়েছে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে অভিযান

প্রশ্নফাঁস বাংলাদেশে নতুন কিছু না। বহু বছর আগে থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় অহরহ প্রশ্নফাঁস হয়ে আসছে। বিভিন্ন সরকার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসলেও বন্ধ হয়নি প্রশ্নফাঁস। দেশে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সময় হলেই নড়েচড়ে বসে বেশ কিছু কুচক্রী মহল। যাদের টার্গেট থাকে ভুয়া প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে প্রশ্নসহ পুরো পরীক্ষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা। অল্প কিছু অর্থের বিনিময়ে তারা আকৃষ্ট করে আসছে পরীক্ষার্থীদেরকে। আর এতে পরীক্ষার্থীরা আকৃষ্ট হয়ে পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন পেয়ে দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে শত শত বছর।

তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে প্রশ্নফাঁসকারীদের কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। ২রা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার আগেই দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরু করেছে তাদের অভিযান। এদিকে পরীক্ষা শুরুর আট দিনের মাথায় দেশের কোথাও এখনো শোনা যায়নি প্রশ্নফাঁসের কথা। ভুয়া প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত চলবে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে অভিযান।

এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে থেকেই পরীক্ষায় যাতে কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস কিংবা ভুয়া প্রশ্ন ছড়াতে না পারে সেজন্য সাইবার দুনিয়ায় নজরদারি শুরু করেছে র‌্যাব। এই অপতৎপরতা বন্ধে আন্ডার কাভার অপারেশন শুরু করেছে তারা। প্রশ্নফাঁস রোধে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেছে র‌্যাব। সেই সাথে চলছে সাইবার পেট্রোলিং। প্রশ্নফাঁস বন্ধে র‌্যাবের নেয়া এমনই পদক্ষেপের কথা জানিয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, র‌্যাব নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি অন্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে তৎপর রয়েছে। প্রত্যেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে র‌্যাব মনিটরিং করেছে। পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাই শত প্রলোভনের মধ্যেও অভিভাবক, ছাত্র ও শিক্ষকদের সযত্নে এ ধরণের অপকর্ম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে এবারো বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি আমরা। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে শিক্ষক-ছাত্র কিংবা দাগী অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এদিকে গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন -২০০৬ (সংশোধনী-২০১৩) এর অধীনে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *