Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের একটি গ্রামের প্রায় এক হাজার ভোটার ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জাতীয় পরিচয় পত্র না পাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ন কাজে জাতীয় পরিচয়পত্র অবশ্যই প্রয়োজন। এসব জাতীয় পরিচয়পত্র না পাওয়া মানুষগুলো বিভিন্ন সরকারি সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সকল কাজেই বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন। সকল সমস্যা দূর করে বৃহৎ একটি গ্রামের এত বিপুল সংখ্যক ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগিরা। সাথে সাথে বিষয়টির রহস্য উদঘাটন করে কোন হীন স্বার্থ পুরণের জন্য এই কার্ডগুলো বিতরণ না হয়ে থাকলে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সরজমিন তদন্তে তারাপুর মিস্ত্রিপাড়ার বদিউজ্জামানের ছেলে গাজিউর রহমান, ফজলু রহমানের ছেলে নাসিরুদ্দিন, জয়েদ আলীর ছেলে নূর ইসলাম ও দাউদ মাষ্টারের ছেলে আব্দুর রহিম জানান, ২০০৮ সালের জাতীয় পরিচয় পত্র দেওয়ার লক্ষে তাদের ছবি তোলা হয়। কিন্তু ৮নং ওয়ার্ডের তারাপুর মিস্ত্রিপাড়া, বড়গীপাড়া, শুকতাপাড়া ও দাড়িপাড়া এলাকার কিছু কিছু ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র পেলেও ওই এলাকার প্রায় এক হাজার ভোটার ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এন.আই.ডি) পায়নি। এব্যাপারে মনাকষা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও ৮নং ওয়ার্ডের ইউ.পি সদস্য সমির আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্যে ছবি তোলা হয়। ছবি তোলা হলেও এখন পর্যন্ত ওই এলাকার প্রায় এক হাজার ভোটার তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পায়নি। কিন্তু ওইসব নাগরিকের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তার বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট প্রয়োগও করছে। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সেজারুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যারা এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র পায়নি তারা, জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলার সময়ের দেয়া টোকেন, ভোটার তালিকার নাম ও ভোটার নম্বর উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন অফিসে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই আবেদন করবেন। তবে, যদি কোন ভোটারের টোকেনটি হারিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে থানায় জি.ডি করার পর জিডির কপিসহ ভোটার তালিকার নাম ও ভোটার নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দিলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, ২০০৮ সালে সোনবাহিনীর দেয়া জাতীয় পরিচয়পত্র গুলো দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের হাতে বিতরণের জন্য দিয়ে দেয়া হয়। বিতরনের পর তালিকাও জমা দেয়া হয়েছে পরিষদের পক্ষ থেকে। বিতরণ তালিকায় কিছু কিছু মানুষের স্বাক্ষর নেই। ওই এলাকার কিছু কিছু লোক তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পায়নি বলে পরবর্তীতে জানায় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের। তখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিচয়পত্রগুলো পৌছে দেয়ার কোন ব্যবস্থা ছিল না। চেয়ারম্যান বা মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে নিজের পরিচয়পত্র নিয়ে গেছেন এবং টোকেনটি জমা দিয়েছেন। এবিষয়ে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ওই সময়ের দায়িত্বরত চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টি পরিস্কার হওয়া যাবে। বর্তমানে নির্বাচন অফিসের কর্মচারীর মাধ্যমে কার্ডধারীর কাছেই জাতীয় পরিচয়পত্র পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই এলাকার যে সকল মানুষ কার্ড পাননি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলার সময়ের দেয়া টোকেন, ভোটার তালিকার নাম ও ভোটার নম্বর উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন অফিসে আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে, যদি কোন ভোটার টোকেন হারিয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানায় জি.ডি করে জিডির কপিসহ আবেদন করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রটি অনেক মূল্যবান। কারো জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে যেমন, জিডি করতে হবে, অনুরুপভাবে ছবি তোলার সময়ের টোকেনটিও হারিয়ে গেলে জিডি করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। নিজের নিরাপত্তার জন্যই জিডি করা প্রয়োজন বলে তিনি মতামত দেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *