Sharing is caring!


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রয়াত কৃতি সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সমাজ সেবক, ক্রীড়া সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় উপনেতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘ছোট নবাব’ নামে খ্যাত মরহুম এহসান আলী খাঁ’র স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। রবিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগার চত্বরে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটি। নাগরিক কমিটির আহবায়ক সৈয়দ হোসেন আহম্মেদ বাদশা’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন প্রবীন রাজনীতিদ ও আইনজীবী একরামুল হক, প্রবীন আইনজীবী সাদিকাতুল বিনা, প্রবীন সাংবাদিক তালেবুন্নবী, মোহিত কুমার দাঁ, অব. অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, নবাবগঞ্জ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম জাকারিয়া, আলহাজ্ব মোঃ শামসুল হক, এ্যাড. শাহনেওয়াজ খান পান্না, সাবেক মেয়র মাওলানা আব্দুল মতিন, ¯^াধীন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক তুফান, নয়মুল বারী। প্রথিতযশা এই রাজনীতিবিদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মোনিম উদ দৌলা চৌধুরী, সফিকুল আলম ভোতা, এ্যাড. হাসিব, মিজানুর রহমান মিজু, সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলক, নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মোঃ মনিরুজ্জামান মনিরসহ অন্যরা। এসময় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। শেষে প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেতার কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল মতিন। উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পাঠানপাড়ায় ২৯৩১ সালের জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন এহসান আলী খাঁ এবং ২৯১৭ সালের ১০ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য, এহসান আলী খাঁ দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে বিএনপি দল ও চতুর্থ জাতীয় সংসদে ¯^তন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৪৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসন হতে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বিরোধী দলীয় উপনেতা নির্বাচিত হন। তিনি হরিমোহন স্কুলে অধ্যায়নকালে মহাত্মা গান্ধির অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। দেশ বিভাগের পর আওয়ামী মুসলিম লীগের রাজনীতি করার সুযোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী প্রমূখ বরেণ্য ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ করেন। অবিভক্ত জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয়সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। বক্তরা বলেন, তিনি একজন প্রথিতযশা শিক্ষা, সাংস্কৃতি, ক্রীড়ানুরাগী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নন্দিত জনপ্রতিনিধি, নিবেদিত প্রাণ সমাজ সংগঠক। তিনি এলাকার অধিকার বঞ্চিত, গরিব অসহায় মানুষের হৃদয়ে জয় করে “৭০ দশকে গরীবের বন্ধু হিসেবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন। তৎকালিন নবাবগঞ্জ মহকুমায় খেলাধুলা, সাংস্কৃতি জগতে একজন অসাধারণ নক্ষত্র ছিলেন। এহসান আলী খান হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় নিজের জীবন বিপন্ন করে সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় সাহসী ভূমিকা পালন করেন। এলাকার মহামারি সহ যে কোন প্রাকৃতিম বিপর্যয়ে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের সেবায় সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মৃক্তিযুদ্ধের পূর্বে পৌরপতি হিসেবে তৎকালীন নবাবগঞ্জ শহরের রাস্তা-ঘাটসহ শহরের সৌন্দর্য্য বর্ধণে অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন। শহরের শহীদ সাটু হল, নিউ মার্কেট নির্মাণ করেন। তাৎকালীন সময়ে এলাকার অনগ্রসর শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নবাবগঞ্জ কলেজ এবং মহিলা স্থাপনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। শিশুদের জন্য পৌরসভার তত্ববধানে ১৯৬৬-৬৭ ইং সালে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তার মধ্যে মডেল প্রাইমারী স্কুল উল্লেখ্যযোগ্য।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *