Sharing is caring!

ছি! ছি! কি লজ্জা!!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দূর্ণীতিবাজ অধ্যক্ষ আনোয়ার

পাচ্ছেন এ্যাওয়ার্ড

♦ স্টাফ রিপোর্টার

ছি, ছি, কি লজ্জা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের দূর্ণীতিবাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম পাচ্ছেন এ্যাওয়ার্ড। এটা জেলার জন্য, জেলার শিক্ষক সমাজের জন্য, জেলার শিক্ষানুরাগীদের জন্য একটি চরম লজ্জার বিষয়। যে অধ্যক্ষ ত্রাসের রাজ¯^ সৃষ্টিকারী, অনিয়মকরে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুটপাটকারী, স্বজনপ্রীতি করে অযোগ্য প্রার্থীকে অবৈধ নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি এর চেয়ে দ্বিগুন বা তারো বেশী অর্থ আদায়কারী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে অসাদাচরনকারী, শিক্ষকদের উপর অমানুষিক নির্যাতনকারী, নিজ ছেলেকে দিয়ে অবৈধভাবে কলেজে ক্লাশ নেয়া ও অবৈধভাবে সরকারী সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া, তাঁর দূর্ণীতি ও সকল অনিয়মের সহযোগিদের নিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের উপর অত্যাচারকারী, সেই অধ্যক্ষ কিনা পাচ্ছেন ঢাকার স্বেচ্ছাসেবী একটি প্রতিষ্ঠান “ইউনাইটেড মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস” এর এ্যাওয়ার্ড। অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলামকে শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য দেয়া হচ্ছে এই ‘এ্যাওয়ার্ড’। গত ৬ নভেম্বর/১৯ “ইউনাইটেড মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস” এর এক চিঠিতে ‘এ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিতর্কিত এই অধ্যক্ষকে শিক্ষায় অবদান রাখায় ‘এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করায় ‘এ্যাওয়ার্ড’ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে জেলার শিক্ষানুরাগীদের মাঝে। এতে প্রকৃত শিক্ষানুরাগী বা শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান প্রধান বা শিক্ষক এবং শিক্ষার জন্য কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিদের অপমানিত করা হচ্ছে। ‘এ্যাওয়ার্ড’ কি? একটি বাজারের কেনা বস্তু?। ইচ্ছে হলেই দেয়া যায়? যে কোন ‘এ্যাওয়ার্ড’ এর একটি মর্যাদা রয়েছে, সেটা যদি হয় সঠিক মূল্যায়ন। তবে এরকম দূর্ণীতিবাজ, অনিয়মের হোতা, শিক্ষার্থীদের উপর আর্থিক ও মানষিক নির্যাতনকারী অধ্যক্ষ যদি হয়, শিক্ষায় বিশেষ অবদানকারী, তাহলেতো আর কথাই নেই। দূর্ণীতিবাজরা আরও মুল্যায়িত হবে, আরও উচু গলায় কথা বলবে, আরও শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন চালাবে। সেই সার্টিফিকেটও দেয়া হচ্ছে এই দূণীতিবাজকে। এব্যাপারে জেলার শিক্ষানুরাগী ও অভিজ্ঞ মহলের গুনিজন মতামত ব্যক্ত করে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের একজন দূর্ণীতিবাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম পাচ্ছেন এ্যাওয়ার্ড। এ কথা জেনেই তো আমাদের মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে। এটা জেলার জন্য, জেলার শিক্ষক সমাজের জন্য, জেলার শিক্ষানুরাগীদের জন্য একটি চরম লজ্জার বিষয়। এটা কি করে সম্ভব? যে প্রতিষ্ঠান এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে ‘এ্যাওয়ার্ড’ দিচ্ছেন, তাঁরাই বা কোন বিবেকের মানুষ। যে জেলার সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তিকে ‘এ্যাওয়ার্ড’ দিচ্ছেন। ‘এ্যাওয়ার্ড’ শব্দটি বা সম্মানটিকেই যেন সমালোচনার মধ্যে ফেলছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। আর এই ‘এ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তি নিয়ে এই দূর্ণীতিবাজ অধ্যক্ষ শুরু করেছেন প্রচারণা। যেন এই ‘এ্যাওয়ার্ড’ টি তাঁর সকল দূর্ণীতি ও অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার একটি ধারালো অস্ত্র। এটা ব্যবহার করেই তিনি সমাজের কাছে আবারও উঁচু গলায় কথা বলতে শুরু করেছেন এবং আগামীতেও বলবেন। অবশ্য শিক্ষাবিদগণ আরও বলছেন, এসব ‘এ্যাওয়ার্ড’ তো কিছু অর্থ দিলেই পাওয়া যায়। জেলার অনেক শিক্ষানুরাগীর কাছেই এ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ‘এ্যাওয়ার্ড’ দেয়ার জন্য চিঠি এসেছে পূর্বে। তাঁরা জেনেই এসব ‘এ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণই করেননি। আসলে কিছু প্রতিষ্ঠান কোন যাচায়-বাছাই করেই কিছুর বিনিময়ে এসব ‘এ্যাওয়ার্ড’ দিয়ে থাকে। আর এই ‘এ্যাওয়ার্ড’ নিয়েই দূর্ণীতিবাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম অনিয়ম করে আবারও বড় গলায় কথা বলবেন। এটাও জেলার জন্য অপমানজনক। উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের দূর্ণীতিবাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ জাতীয় দৈনিক ‘দৈনিক মানবকন্ঠ’ পত্রিকা, জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন পত্রিকা-অনলাইন পোর্টালে ত্রাসের রাজ¯^ সৃষ্টিকারী, অনিয়মকরে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুটপাটকারী, ¯^জনপ্রীতি করে অযোগ্য প্রার্থীকে অবৈধ নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি এর চেয়ে দ্বিগুন বা তারো বেশী অর্থ আদায়কারী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে অসাদাচরনকারী, শিক্ষকদের উপর অমানুষিক নির্যাতনকারী, ছেলেকে দিয়ে অবৈধভাবে কলেজে ক্লাশ নেয়া ও অবৈধভাবে সরকারী সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া, তাঁর দূর্ণীতি ও সকল অনিয়মের সহযোগিদের নিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের উপর অত্যাচারকারীসহ বিভিন্ন দূর্ণীতি ও অনিয়মের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় প্রায় ডজনখানেক। এসব প্রতিদেবন প্রকাশের পর তৎকালিন কলেজের সভাপতি জেলা প্রশাসক মহোদয় এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নেন এবং ২ মাস প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পর্যন্ত পারেন নি এই দূর্ণীতিবাজ। অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখার তত্বাবধানে তদন্তও সম্পন্ন হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *