Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষির অতীত ও বর্তমান

♦ শফিকুল ইসলাম 

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে বরেন্দ্র অঞ্চলের ফসলেও পরিবর্তন এসেছে। এ জনপদে কৃষির ইতিহাস ব্যাপক। অতি সংক্ষেপে বলতে গেলে, ব্রিটিশ কর্মচারী রেনেলা তার ১৭৭১ সালের বর্ণনায় বরেন্দ্র অঞ্চলের অনেক বন জঙ্গলে আচ্ছাদিত ধ্বংসস্তূপের বর্ণনা দিয়েছেন। পরবর্তীতে কার্টারের রিপোর্টেও বরেন্দ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু পাকা দালানের ধ্বংসাবশেষ এবং ভরাট হয়ে যাওয়া বড় বড় দীঘির উল্লেখ প্রমাণ করে এককালে এ এলাকায় সমৃদ্ধ বসতি এবং সুগঠিত কৃষি ব্যবস্থা ছিল। তবে ব্রিটিশ কর্মচারী সাইমন ১৮৮৬ সালের বর্ণনায় বরেন্দ্র অঞ্চলকে প্রধানত কৃষি বহির্ভূত, খরাপীড়িত, উঁচুনিচু কাঁটাবন হিসেবে দেখিয়েছেন। এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে কার্টারের ১৯২৮ সালের সেটেলমেন্ট রিপোর্টে উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলকে উঁচু, উন্মুক্ত এবং বন্ধুর ভূমি, উপত্যকার মাঝ দিয়ে সরুনালা প্রবাহিত গ্রীষ্মকালে শুধু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রাম ও বনের ভগ্নাংশ ব্যতীত সমগ্র বরেন্দ্র ছায়াহীন ধু-ধু প্রান্তর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ অঞ্চলে শুধু বৃষ্টি নির্ভর আমন ধান ব্যতীত তেমন কোনো ফসল চাষ হতো না। এ কারণে বছরে প্রায় ৭-৮ মাস জমি পড়ে থাকত। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সেচ সুবিধার প্রবর্তন করায় রোপা আমন ছাড়াও উফশি বোরো ধান এবং শাকসবজি ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। ফলে কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে। কিন্তু অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। নলকূপগুলো থেকে আজ আর সেভাবে পনি পাওয়া যাচ্ছে না। বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রচুর খাড়ি (খাল) এবং পুকুর ছিল কিন্তু বর্তমানে এগুলো বেশির ভাগ মাছ চাষে লিজ দেয়া হয়েছে। এর কারণে সেখান থেকে পানি নিয়ে সেচকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ফারাক্কা বাঁধের জন্য নদীর পানি শুকিয়ে সেচ কাজে বিঘœ হচ্ছে। তবে আশার কথা এ অঞ্চলে বর্তমানে প্রচুর ফল বাগান তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান প্রধান ফল হচ্ছে আম, লিচু, কলা, কুল, পেয়ারা উল্লেখযোগ্য। তবে কয়েক বছর ধরে স্ট্রবেরির চাষ এ অঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবজি চাষে এরই মধ্যে এ অঞ্চল অনেক অগগ্রতি লাভ করেছে। এর মধ্যে আগাম শিম, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, পেঁপে, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, আলু, করলা, শসা উল্লেখযোগ্য। অতি স¤প্রতি বরেন্দ্র অঞ্চলের গোদাগাড়ী উপজেলায় লতিরাজ কচু, মাচায় তরমুজ চাষ, ফুল চাষ শুরু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় পলিব্যাগ দ্বারা পেয়ারা উৎপাদন, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, মাল্টা, ড্রাগনফল, মুগডাল ব্যাপকভাবে আবাদ শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *