Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে মানা হচ্ছে না

করোনা সতর্কতা ॥ প্রত্যন্ত অঞ্চলেই বেশী অসতর্কতা ॥

সর্বোচ্চ সতর্কতার চেষ্টা প্রশাসনের

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানেই মানা হচ্ছে না করোনা সতর্কতা। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নানা উদ্যোগ ও দিনরাত প্রচারনা চালাচ্ছেন, এমনটি শাস্তি ও জরিমানা করা হচ্ছে। তারপরও সচেতন হচ্ছে না সাধারণ মানুষ। দোকানের সামনে, বাজারে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার সতর্কতা মানছেনা সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্বাস্থ্য ঝুঁকি বা করোনা ভাইরাস নিয়ে যেন মাথাব্যথা নেই। তাঁর একটু অসতর্কতা পুরো জেলার ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেটারও কোন উপলদ্ধি নেই। সাধারণ মানুষের ভাবনাটা এমন, যেন প্রয়োজন না থাকলেও অযথাই সরকারীভাবে এসব মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। নিজের জন্য, নিজের পরিবারের নিরাপত্তার জন্যই এতসব প্রতিরোধে ব্যবস্থা, বিষয়টি যেন কোনভাবেই মাথায় ঢুকছেনা এসব মানুষদের।
এমনই চিত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর হাটে। প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত অবদি চলছে গণভীড়। সেখানে কোন সতর্কতাই মানছেন না। রামচন্দ্রপুর হাটের চিত্র দেখলে মনেই হবে না দেশে বা জেলায় করোনা ভাইরাস নিয়ে কোন সতর্কতা আছে। স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা, কেনাকাটা করছেন সকলেই। এছাড়া বুধবার সকালে সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম হেনা উচ্চ বিদ্যালয়ে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির জন্য ট্রাক পৌছলে, সেখানে প্রায় ৩ শতাধিক নারী-পুরুষ ভীড় জমায়। ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে না আনতে পারায় সদর মডেল থানা পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু অপ্রতিরোধ্য এসব নারী-পুরুষ একইভাবে ভীড় জমায়। পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে টিসিবি’র মালামাল কেনার বিষয়টি যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও স্বাভাবিক করতে পারেনি বলে স্থানীয় সুত্র জানায়।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০% মানুষ ঢাকা থেকে আসা। তবে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কোন বালাই নেই। বিষয়টি স্বীকার করেছেন নারায়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজেই। নারায়নপুর ইউনিয়নের মহারাজনগরে কিছু সতর্কতা নেয়া হলেও কোন সতর্কতা বা হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়নি ইউনিয়নের জহরপুর, নয়রশিয়া, বেলপাড়া, খলিফারচর, নারায়নপুর বাজার এলাকায়। এলাকার নারায়নপুর বাজারে দেদারসে চায়ের স্টলে ও বিভিন্ন দোকানে স্বাভাবিকভাবেই বেচা-কেনা হচ্ছে ভীড় জমিয়ে। চায়ের দোকানে রীতিমত আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছে ওইসব জেলার বাহির থেকে আসা ব্যক্তিরা ও স্থানীয়রা। এসব নিয়ন্ত্রণ করে করোনাভাইরাস সতকর্তা মানার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন স্থানে তথ্য দিলেও কোন কাজ হয়নি বলেও জানা গেছে।
এছাড়া শহরের বাতের খাঁর মোড়স্থ ইসলামি ব্যাংক এর সামনে, শহরের কাঁঠাল বাগিচাস্থ সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় গ্রাহকদের প্রচন্ড ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। সোনালী ব্যাংকে অবসর ভাতা উত্তোলন করতে আসা ষাটোর্ধ নারী-পুরুষরা স্বাভাবিক সময়ের মতই লাইন ধরে কোন সতর্কতা না মেনেই ভীড় করছেন। অথচ চিকিৎসকদের মতে এসব বয়স্ক মানুষরাই বেশী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সরকারীভাবে বিভিন্ন প্রচারণা যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কোন সতর্ক প্রচারণাই যেন কাজে আসছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন সচেতন মানুষ জানান, নারায়নপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ ঢাকা থেকে এসেছে। জহরপুর, নয়রশিয়া, বেলপাড়া, খলিফারচর, নারায়নপুর বাজার এলাকায় কোন সতর্কতা মানছেনা কেউই। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমন অবস্থা চলছে, যেন কোন কিছুই হয়নি। কোন সমস্যাও সৃষ্টি হয়নি দেশে বা জেলায়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থাই নেই এসব এলাকায়। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধও জানান।
এব্যাপারে নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো কামাল উদ্দিন বুধবার দুপুরে জানান, জহরপুর, নয়রশিয়া, বেলপাড়া, খলিফারচর, নারায়নপুর বাজার এলাকার মানুষরা অনেক আগেই ঢাকা থেকে এসেছে। তবে তাদের কাউকে হোম কোয়ারেন্টাই করা হয়নি। এলাকায় সতর্কতা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, গ্রাম পুলিশ দিয়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যকে নিয়ে স্থানীয় কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তিনি এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন প্রতিবেদককে। এমন দূর্যোগময় ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে এসব গণভীড় সামলাতে আরও কঠোর বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন ও অভিজ্ঞ মহল। অন্যথায় সরকারী-বেসরকারীভাবে এতগুলো নেয়া চেষ্টা, বিফলে যাওয়ার আশংকাও করছেন তাঁরা।
এব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বুধবার দুপুরে জানান, সরকারীভাবে সদর উপজেলার সকল স্থানেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রামচন্দ্রপুরহাট এলাকায় নিজে গিয়েই তদারকি করেছি। নারায়নপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যদি এরকম কোন গাফলতি বা সতর্কতা বিষয়ে সাধারণ মানুষের অসতর্কতা বা নিরাপত্তা উপক্ষে করে যত্রতত্র ঘোরাফেরা করা হয়, তাহলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *