Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক সময়ের খরস্রোতা মহানন্দা নদী খনন, দূষন ও দখলমুক্ত করার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মহানন্দা নদীতে পড়া চরে দাঁড়িয়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শহরের রেহায়চার এলাকায় নদীর বুকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সামাজিক সংগঠন ‘সেভ দ্য নেচার’ এর উদ্যোগে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ নানান শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে সেভ দ্যা নেচারের সমš^য়ক রবিউল হাসান ডলারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সমাজ সেবক সফিকুল আলম ভোতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দীন, সেভ দ্য নেচার সমš^য় কমিটির সদস্য শহীদুল হুদা অলক, পৌর কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান আরমানসহ অন্যরা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, এক সময়ের খর¯্রােতা নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ চলতো, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নৌকাযোগে আম ঢাকায় যেত। কিন্তু কালর পরিবর্তনে মহানন্দা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নাব্যতা না থাকায় এখন নদীর পেটেই চাষ হচ্ছে ধানসহ অন্যান্য ফসল। সমাবেশে বক্তরা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫ কিলোমিটার। হিমালয়ের পাদদেশে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বিপুল পরিমান পলি আসে উজান থেকে। কিন্তু ভারতীয় অংশে মহানন্দা নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির প্রবাহ সারাবছরই কমছে। ¯^াভাবিক প্রবাহ ব্যহত হওয়ায় ভরাট হয়ে মহানন্দা এখন মৃতপ্রায়। একটি নদী শুধু পানিই সরবরাহ করে না, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় যেমন মহানন্দা নাব্যতা হারিয়েছে, তেমনই নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী জাতের মাছ, শুশুকসহ নানা মেরুদন্ডী ও অমেরুদন্ডী প্রাণি এবং জলজ উদ্ভিদ। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে মহানন্দা। মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পরিবেশের উপর পড়বে বিরুপ প্রভাব। আরো উদ্বেগের বিষয়, নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় নদী তীর দখল করছে একশ্রেণীর অসাধু মানুষ। এছাড়া পৌরসভার সব ড্রেনের মুখ গিয়ে মিলেছে মহানন্দায়। ড্রেনের পানিতে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। বাংলাদেশের সংবিধানে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র সংর¶ণ ও উন্নয়ন-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যত নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংর¶ণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংর¶ণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন। এছাড়াও জাতীয় নদী র¶া কমিশন-২০১৩ নামে একটি আইন সংসদে পাস হয়।  কিন্তু দুর্ভাগ্যের সাথে আমরা ল¶্য করছি যে, সংবিধানের ১৮ কঃ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় নদী র¶া কমিশন আইন ২০১৩ অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরি ভূমিকা পালন করছেনা। বক্তরা আরও বলেন, সংবিধানে জীব-বৈচিত্র-জলাধার সংর¶ণ এবং নদী র¶ার কমিশনের তৃতীয় অধ্যায়ে ১২ নম্বর ধারায় নদী অবৈধ দখলমুক্ত এবং পূনঃদখল রোধ করা, নদী তীর দূষণমুক্ত রাখা এবং বিলুপ্ত বা মৃতপ্রায় নদী খননের বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ প্রদান করবে কমিশন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। অবিলম্বে জেলার মিঠা পানির উৎস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ র¶ায় গুরুত্বপূর্ণ মহানন্দা নদী খনন করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে নিয়ে আনা, নদীর তীর দখল বন্ধ, সুয়েরেজের পানিতে নদী দূষণ বন্ধ করতে হবে। জেলার মিঠা পানির উৎস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মহানন্দা নদী খনন করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীর তীর দখল বন্ধ ও নদী দূষণ বন্ধ করার দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *