Sharing is caring!

CIMG2216 CIMG2219স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বালুবাগান (চকটোলা) গ্রামের শারিরীক প্রতিবন্ধী নুরানীর সংগ্রামী শিক্ষা জীবন চলছে। শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়েও প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে সে বর্তমানে কারবালা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এস.এস.সি পরীক্ষা দিচ্ছে। শহরের গ্রীনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বোতলায় ২০৩ নম্বর রুমে সে পরীক্ষা দিচ্ছে। আর সব স্বাভাবিক শিক্ষার্থীর মতই সে পরীক্ষা দিচ্ছে। তাঁর দুই পা ও দুই হাত বিকলাঙ্গ। পায়ের এবং হাতের আঙ্গুল অত্যন্ত ছোট ছোট। তাই নুরানী কলম দিয়ে লিখতে অসুবিধা হওয়ায় কলমের শিস দিয়ে লিখে। স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মতই সে ছোট ছোট দুই আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষার খাতায় লিখতে দেখা গেছে। বুধবার গ্রীনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পাওয়া যায় এই শারিরীক প্রতিবন্ধী নুরানীর সংগ্রামী শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি। প্রতিদিন নুরানীর মা রেবিনা পারভিন বাড়ি থেকে নিয়ে এসে গ্রীনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কক্ষে বসিয়ে দিয়ে যায়, আবার পরীক্ষা শেষ হলে মা এসে বাড়ি নিয়ে যায়। প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের নিয়ম মোতাবেক স্বাভাবিক শিক্ষার্থীর চেয়ে তাকে ২০ মিনিট সময় বেশী দেয়া হচ্ছে তার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য বলে জানালেন গ্রীনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ রোকসানা আহমেদ।  সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বালুবাগান গ্রামের জিল্লুর রহমানের মেয়ে মোসাঃ নুরানী খাতুন প্রথম থেকেই শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়েও শিক্ষা গ্রহণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। তার উৎসাহ দেখে বাবা-মা তাকে যথাসাধ্য সাহস ও প্রয়োজনীয় কষ্ট স্বীকার করে তাকে শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে সকল ব্যবস্থা করে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান নুরানী বাড়ির পার্শ্ববর্তী কারবালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবন শুরু করে। নুরানী হাঁটতে না পারায় তার মা রেবিনা পারভীন প্রতিদিন সকালে তাকে কোলে করে স্কুলে রেখে যেত এবং স্কুল ছুটির সময় আবার তাকে বাড়ি নিয়ে যেত। নুরানী অত্যন্ত শান্ত ও লাজুক প্রকৃতির মেয়ে। বাইরের মানুষের সাথে খুব কম কথা বলে। শারিরীক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্কুলের অন্য বন্ধুরা এবং শিক্ষকরা তাকে স্নেহ করতো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাও করতো। বাড়িতে সে কষ্ট করে একটি ছোট টুলে (কাঠের তৈরী ছোট টেবিলের মত) বই রেখে পড়তো এবং একইভাবে টুলের উপর খাতা রেখে লিখতো। আর্থিক অনটন ও শত কষ্টের মাঝেও একটুও দমেনি নুরানী। মনের মাঝে ঠাঁই দেয়নি কোন দুঃখ কষ্টকে। অদম্য চেষ্টায় এবং বাবা-মায়ের উৎসাহে সে দশম শ্রেণী শেষ করে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। তার হাতের লেখাও মোটামুটি ভাল। তার এই অদম্য ইচ্ছা শক্তি তাকে এতদুর নিয়ে এসেছে, আরও অনেক দুর পথ পাড়ি দিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা তার। অনেক কষ্টে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য কারবালা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বিদ্যালয় শাখায় ভর্তি হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার পর কারবালা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সমাজ সেবা অফিস থেকে নুরানীকে একটি হুইল চেয়ার দেয়া হয়। নুরানীর মায়ের কষ্ট অনেক কমলেও প্রতিদিন তাকে হুইল চেয়ারে করে বিদ্যালয়ে রেখে যাওয়া এবং নিয়ে যাওয়ার কাজ করেন তাঁর মা। বর্তমানে হুইল চেয়ারটির অবস্থা অনেকটায় জরাজির্ণ। দরিদ্র মা জরাজির্ণ হুইল চেয়ারে করেই বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বাবা একজন শ্রমিক। প্রতিবন্ধী মেয়ের শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে রেবিনা পারভীনকে প্রয়োজনীয় উৎসাহ প্রদান করে। কোন রকমে সংসার চালিয়েও কষ্ট করে প্রতিবন্ধী নুরানীর মুখের দিকে তাকিয়ে অসহায় বাবা জিল্লুর রহমান মনের কষ্ট দূর করে তার মেয়ে নুরানীর শিক্ষা গ্রহণে অনেকটায় শান্তনা খুজে পায়। বর্তমানে নুরানীর বয়স ১৬ বছর। সমাজের কাছে এখন নুরানী একজন অনুকরনীয় শিক্ষার্থী, একজন সংগ্রামী মেয়ে। সংগ্রামী শিক্ষার্থী শারিরীক প্রতিবন্ধী নুরানী আগামী দিনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সকলের সহযোগিতা ও দোয়াপ্রার্থী।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *