Sharing is caring!

Chapai Pic 2. 30-08-16চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্যামলী হত্যার মুল আসামী মাইনুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর রাত ৪টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি অর্গানাইজ ক্রাইম হুমিসাইডাল স্কোয়ার্ড টীম রাজশাহীর পুলিশ পরিদর্শক শাহীন আকন্দের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। গ্রেফতারকৃত মাইনুল ইসলাম সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর বাদুড়তলার মোখলেশুর রহমানের ছেলে। মামলার বিবরণ দিয়ে সিআইডি’র পরিদর্শক শাহীন আকন্দ জানান, ২০১০ সালের ২৩ এপ্রিল বিয়ে হয় শহরের আলীনগর মুন্সিপাড়ার বাবলু আলীর মেয়ে শ্যামলী খাতুন (২২) এর সাথে সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর বাদুড়তলার মোখলেশুর রহমানের ছেলে মাইনুল ইসলামের। বিয়ের পর শ্যামলীর গর্ভে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে সিয়ামের বয়স সাড়ে ৩ বছর। ঘটনার সময় শ্যামলী ৪ মাসের অন্ত¯^ত্তা ছিলো বলেও জানা যায়। এরমধ্যেই গোপনে মাইনুল ইসলাম শিবগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ে করে। দ্বিতীয় বিয়ের পর পারিবারিক কলহ শুরু হলে মাইনুল শ্যামলীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে বাবার কাছ থকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতো। টাকা নিয়ে যেতে না পারায় তার ওপর পাষন্ড ¯^ামী মাইনুল নির্মম নির্যাতন চালাতো প্রায়শই। গত ২৯ মে রাতে মাইনুল শ্যামলীকে শারিরিক নির্যাতন করার পর এক পর্যায়ে গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহের ষড়যন্ত্র করে শ্যামলীর লাশ ঘরের তীরে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে মাইনুল ¯^পরিবারে পালিয়ে যায়। এঘটনায় সদর মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। কিন্তু মৃত শ্যামলীর শরীরের বিভিন্ন অংশে এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকলেও রহস্যজনক কারণে গত ৩০মে সদর মডেল থানা পুলিশ হত্যা মামলা না নিয়ে ইউডি মামলা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে শ্যামলীর মা আলেয়া বেগম সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়েরের জন্য ধর্ণা দিলেও ওসি হত্যা মামলা গ্রহণ করেন নি বা পলাতক ¯^ামী মাইনুলকে গ্রেফতারের কোন ব্যবস্থাও নেননি। নিরুপায় হয়ে মৃত শ্যামলীর মা আলেয়া বেগম গত ৯ জুন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ‘ক’ অঞ্চলের আদালতে মাইনুল ইসলামসহ ৭জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত হত্যা মামলা গ্রহণের জন্য সদর মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘ একমাস মামলা গ্রহণ করেননি ওসি। শ্যামলীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে অবশেষে গত ১৯ জুলাই বাধ্য হয়ে হত্যা মামলাটি রেকর্ড করেন ওসি। কিন্তু আসামীদের গ্রেফতার নিয়ে আবারও টালবাহানা করে পুলিশ। মেয়ের হত্যা মামলা নিয়ে থানা পুলিশের ভূমিকার প্রশ্ন তুলে মামলার বাদী আলেয়া বেগম পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করলে বর্তমান পুলিশ টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে গত ১৪ আগস্ট চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পড়ে রাজশাহীর সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম হোমিসাইডাল স্কোয়ার্ড পরিদর্শক মোঃ শাহিন আকন্দের উপর। পরিদর্শক শাহীন আকন্দ জানান, গত ৩০/০৫/১৬ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় শ্যামলী আত্মহত্যা করেছে মর্মে একটি ইউডি মামলা হয়। পরে ময়নাতদন্তে শ্যামলীকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমানিত হয়। গত ১৪ আগষ্ট, ২০১৬ মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। মামলা গ্রহণের পর থেকেই শ্যামলী হত্যা মামলার মূল আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর রাত ৪টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে মামলার মূল আসামী মাইনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গত ৩ মাস যাবৎ সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালালেও কোন আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি। কয়েকদিন আগে মামলার দায়িত্ব নিয়েই শ্যামলী হত্যা মামলার মূল আসামীকে গ্রেফতার করলো সিআইডি অর্গানাইজ ক্রাইম হুমিসাইডাল স্কোয়ার্ড এর রাজশাহীর দল। মঙ্গলবার সিআইডি পুলিশ গ্রেফতারকৃত মাইনুলকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শাহিন আকন্দ জানান। উল্লেখ্য, শ্যামলীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে শ্যামলীর ¯^ামী মাইনুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন। এঘটনায় শ্যামলীর ¯^ামী মাইনুল ইসলামকে প্রধান আসামীসহ মোট ৭ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *