Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুমোদন ছাড়াই চলছে মাধ্যমিক স্কুল \ সাধারণ শিক্ষার আড়ালে উগ্রবাদ শিক্ষার অভিযোগ

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর কলেজ মোড়ে কর্তৃপক্ষের কোনপ্রকার অনুমোদন ছাড়াই চলছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল”। সাধারণ শিক্ষার আড়ালে উগ্রবাদ শিক্ষা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের পরিচালক মো. শাহ আলম ও অন্যান্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠানের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে (২২ ডিসেম্বর/১৯) ইউপি চেয়ারম্যান আসজাদুর রহমান মান্নু কে সভাপতি করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অননুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সাধারণ শিক্ষার নামে একদিকে মোটা অংকের অর্থ উপার্জন করছেন বিদ্যালয়ের পরিচালক শিবির নেতা শাহ আলম। অন্যদিকে, উগ্রবাদী শিক্ষা দিয়ে শিবির সমর্থক তৈরী করছেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে উগ্রবাদের আদর্শ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও এলাকার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন বিভিন্ন কুৎসা রটিয়ে। প্রতিবাদ করায় জনৈক শিক্ষকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরনও করেন পরিচালক। এলাকাবাসীর দাবী বিষয়টির সরজমিন তদন্ত করে উগ্রবাদের সাথে জড়িত এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় উগ্রবাদের সৃষ্টি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর কলেজ মোড়ে কর্তৃপক্ষের কোনপ্রকার অনুমোদন ছাড়াই ২০১৬ সালে স্থানীয় মৃত রমজান আলীর ছেলে মো. সমসের আলীর জমির উপর গড়ে তোলে “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” নামে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরে সেটা নি¤œ মাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নিত করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ে কোন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেই প্রতিষ্ঠানটির। তবে, শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বই নেয়ার জন্য একটি কোড নম্বর ব্যবহার করছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। দীর্ঘদিন থেকেই কিন্ডার গার্টেন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসার পাশাপাশি উগ্রবাদ বিষয় শিক্ষা দেয়ায় স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলেও কোন কর্নপাতই করেন নি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিবির নেতা শাহ আলম। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পার্কে মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প বানিয়ে এলাকায় “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” এর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন পরিচালক। এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষানুরাগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানে প্রতিবেদক পৌছলে পরিচালক শাহ আলম নিজে প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” এর প্রধান শিক্ষককে কথা বলতে বলেন। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বাবুও প্রতিষ্ঠান চালানোর অনুমতি, শিক্ষা দেয়ার কৌশল, স্থানীয়দের অভিযোগ বিষয়ে কোন সদুত্তর না দিয়ে এলোমেলো উত্তর দেয়ার বৃথা চেষ্টা করেন। এছাড়া “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” এর সকল শিক্ষকই শিবির সমর্থক। আর অজ্ঞাত কারণে এই প্রতিষ্ঠানের পরোক্ষভাবে সহায়তা করে আসছেন ইউপি চেয়ারম্যান আসজাদুর রহমান মান্নু বলেও স্থানীয়রা অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন। এব্যাপারে গোবরাতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান, মহিপুর এস.এ.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল আলম, গোবরাতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. রহিমা খাতুন, বেহুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. মুসলেমা খাতুন, বেহুলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মো. আমিনুল ইসলাম, গোবরাতলা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড সদস্য গোলাম রাব্বানী, দক্ষিনচরি এলাকার (সরজন) মো. বজলুর রহমান “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” এর সকল অভিযোগের বিষয়ে একমত হয়ে বলেন, ২০১৬ সালে “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের শিবির নেতা মো. শাহ আলম। প্রতিষ্ঠানে প্রায় সকল শিক্ষকই শিবির মতাদর্শের। বেছেই তাঁর আদর্শের মানুষদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ওই প্রতিষ্ঠানে। যেন তাঁর আসল উদ্দেশ্য সফল হয়। প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার আড়ালে উগ্রবাদী শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এলাকায় তাদের আদর্শের মানুষ তৈরীর চেষ্টা করছে। এলাকার মানুষকে ধোকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করলেও পরে প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি বুঝে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” থেকে ভর্তি বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁরা আরও জানান, “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” গড়ে তুলে একদিকে মোটা অংকের অর্থ কামাচ্ছেন পরিচালক। অন্যদিকে, শিবিরের আদর্শ মোতাবেক উগ্রবাদ শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যও কাজে লাগানো হচ্ছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মানের কথা লেখে “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” এর পরিচালক ও শিক্ষকরা ৩০ দিনে ইংরেজী শিক্ষা ও কম্পিউটার শিক্ষা প্রদানসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাচ্ছে। কিন্তু আসলে এগুলো শিক্ষার নামে একটি প্রতরণা। এখানেই শেষ নয়, অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মগজ ধোলাই করে “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” এ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন না থাকায় পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” এর শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে। এভাবে একটি অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে যেসব প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করে আসছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়েও সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁরা অভিযোগের সুরে আরও জানান, শিবির অধ্যুশিত এলাকা থেকে এসে নিজ এলাকার বাইরের মানুষকে উগ্রবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার এই কৌশল চলতে থাকলে, একসময় এলাকাটি জঙ্গীবাদ ও উগ্রবাদের ঘাঁটি হিসেবে পরিনত হওয়ার আশংকাও রয়েছে। এদিকে, ২০১৬ সাল থেকে কোন অনুমতি ছাড়া একপ্রকার অবৈধভাবে গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর মোড়ে “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” নামে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান চলছে এবং এই প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, এবিষয়ে জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দপ্তরের কাছে কোন প্রকার তথ্য নেই বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” এর পরিচালক মো. শাহ আলম জানান, “প্রত্যাশা ক্যাডেট স্কুল” পরিচালনার জন্য ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত বই নেয়ার একটি অনুমিত নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন নেয়া হয়নি। উগ্রবাদসহ অন্য সকল অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, এলাকার মানুষ তাঁর উপর মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবেই শিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন না থাকায় অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের বই সরবরাহ ও পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *