Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অশিক্ষক হলো প্রভাষক :

নিলো প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

♦ স্টাফ রিপোর্টার

বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ও সমাজ থেকে অনিয়ম-দূর্ণীতি দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদীহীতা সৃষ্টির লক্ষে নানা কৌশল বা পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। কিন্তু এক শ্রেণীর দূর্ণীতিবাজ সরকারের এই ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করেই চলেছে। আর এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কলেজ শিক্ষক না হয়েও প্রভাষক দেখিয়ে শুক্রবারের চাঁপাইনবাবগঞ্জের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় “কক্ষ পরিদর্শক” দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয় প্রার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং সঠিকভাবে প্রশ্নপত্রের উত্তরগুলো বলে দেয়ার জন্যই এই অনিয়ম ও শিক্ষক না হয়েও প্রভাষক হিসেবে তালিকা দিয়ে পরীক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে। শুক্রবার সকালে পরীক্ষায় শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষের ছেলে হাসনাত আল মাহমুদ (ডন) শিক্ষক না হয়েও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে ছিলেন এবং পরিচিত প্রার্থীদেরকে তার কক্ষে সিট বসিয়ে আলাদাভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এছাড়াও শুক্রবার সকালে পরীক্ষায় শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের ২১৯ নম্বর কক্ষে শিবগঞ্জের পরীসংখ্যান বিভাগের একজন কলেজ শিক্ষককে তালিকা ছাড়াই শুক্রবারের পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এছাড়াও তালিকা ছাড়া বেশকিছু শিক্ষক দিয়ে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। জানা গেছে, সুষ্ঠুভাবে জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কমিটি। পরীক্ষার পরিদর্শক নিয়োগ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তালিকা চাওয়া হয় কমিটির পক্ষ থেকে। প্রেক্ষিতে শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত একটি তালিকা জমা দেয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে তালিকায় শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষের ছেলে (শিক্ষক নয়) হাসনাত আল মাহমুদ (ডন)কে শুক্রবার পরীক্ষায় শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের প্রভাষক দেখিয়ে পরীক্ষার পরির্দশক এর দায়িত্ব দেয়া হয় এবং তিনি কলেজের (মনি উকিল) অডিটোরিয়ামের দ্বিতীয় তলায় ২১৫ নম্বর কক্ষে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কলেজের পরিদর্শক তালিকার ৪০ নম্বরে তার সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়েছে বলেও সুত্রে জানা গেছে। অধ্যক্ষের ছেলে (শিক্ষক নয়) হাসনাত আল মাহমুদ (ডন)কে শুক্রবার পরীক্ষায় কোন কু-মতলবে পরিদর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছে। অনেকের ধারণা সুষ্ঠুভাবে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের নেয়া ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার জন্যই এই অনিয়ম বা স্বেচ্ছাচারিতা। এদিকে, একই বিভাগের (পরিসংখ্যান) কলেজ শিক্ষক হওয়ায় তালিকায় না থাকলেও শিবগঞ্জ মহিলা কলেজের পরিস্যংখান বিভাগের শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে শুক্রবার কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। আর একাজটি করেছেন শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের শিক্ষক ও কেন্দ্রের পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. আজমল হোদা। উল্লেখ্য, অধ্যক্ষের ছেলে (শিক্ষক নয়) হাসনাত আল মাহমুদ (ডন)কে শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের শিক্ষক না হলেও কলেজের ক্লাশ ও পরীক্ষার খাতা দেখা, শিক্ষক না হয়েও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় পরিদর্শক হিসেবে পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্ব দেয়ার নিয়ম চলে আসছিলো। কিন্তু গত ফেব্রæয়ারী মাসে ‘শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষের অনিয়ম, দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা” শিরোনামে “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” একটি বিশেষ সংবাদ প্রকাশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও রাজশাহীর বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রেক্ষিতে বিগত এইচ.এস.সি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষাগুলোই কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হলেও, এই সংবাদ পরিবেশনের পর ২০১৯ সালের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় হাসনাত আল মাহমুদ (ডন)কে কোন পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। কিন্তু কথায় বলে, ‘কয়লা ধুলে, যায় না ময়লা’ তারই আবারও প্রমান হলো, শিক্ষক না হয়েও হাসনাত আল মাহমুদ (ডন)কে শুক্রবার (২৪ মে) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া বা পালন করার মধ্য দিয়ে। এদিকে, শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের কেন্দ্রে এক ভবনের কক্ষ থেকে অন্য ভবনের কক্ষে গিয়ে নিজের স্বজন বা পছন্দের প্রার্থীকে প্রশ্ন পত্রের উত্তর বলে দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করার ঘটনাও ঘটেছে। এরকমই শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক বিলকিস আরা বানু (মহুয়া) তাঁর কক্ষ থেকে ২টি ভবন ডিঙ্গিয়ে ২১৯ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে তার স্বজনকে সহযেগিতা করার চেষ্টা করে। তবে ২১৯ নম্বর কক্ষের পরির্দশকগণ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য তাঁর এই সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। শেষে কক্ষ থেকে চলে যান তিনি। এব্যাপারে শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষের ছেলে (শিক্ষক নয়) হাসনাত আল মাহমুদ (ডন) শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক পরীক্ষায় শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে পরির্দশক এর দায়িত্ব পালনের কথা স্বীকার করেন এবং সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ২ মিনিট পর ফোন করার কথা বলে ফোন কেটে দেন। কিছুক্ষন পরে ফোন করে পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে কোচিং এর দায়িত্ব পালনসহ নানান টালবাহানার কথা বলেন তিনি। প্রথমে সত্যটা স্বীকার করার পর সত্য বিষয়টিকে চাপা দেয়ার জন্য নানা মিথ্যার আশ্রয় নেন হাসনাত আল মাহমুদ (ডন)। পরে অবশ্য অনেক কথায় একমত হন তিনি। এবিষয়ে শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের উপধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে তালিকা দেন কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়। শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের কক্ষ মোতাবেক প্রায় ৯০জন শিক্ষক প্রয়োজন। শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের মোট শিক্ষক ৭৭জন। তাই বাইরের কলেজ থেকে শিক্ষক নিয়ে তালিকা দেয়া হয়েছে। ২৩ মে বিকেল পর্যন্ত তালিকা হালনাগাদ জমা দেয়ার কাজও চলেছে। তালিকার বাইরে কোন শিক্ষককে পরিদর্শকের দায়িত্ব দেয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন পাশ্ববর্তী বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন কলেজে ‘উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ এর পরীক্ষার কারণে সেখানে ছিলাম আমি। তিনি আরও বলেন, হাসনাত আল মাহমুদ (ডন)কে শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের কেন্দ্রে দায়িত্ব দেয়া ঠিক হয়নি। সে যেহেতু শিক্ষক নয়, সেহেতু এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া ঠিক নয়। এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিও) মো. আব্দুল কাদের জানান, কোন অশিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শক হতে পারবেন না। কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা শিক্ষক হলে তিনি কক্ষ পরিদর্শক হতে পারবেন। যদি কেউ অনিয়ম করেন, তাহলে অবশ্যই অন্যায় করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের প্রভাষক দেখিয়ে শাহনেয়ামতুল্লাহ কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে বলেন, অবশ্যই এটা অনিয়ম। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *