Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের আমারক গ্রামে শিউলী রানী (১৪) নামে এক কিশোরীকে যৌন হয়রানী করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়েরকৃত  মামলায় ৩ আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামীদের উপস্থিতিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক জিয়াউর রহমান মামলার তিন আসামী ওই গ্রামেরই মো. হোসেনের ছেলে মো.খাইরুল (২৪) কে ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড, মো.সাজ্জাদের ছেলে মো. ফারুক (২৩) কে ৫ বছর সশ্রম করাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও সাইফুদ্দিনের ছেলে মো. রনি (২৪) কে ৫ বছর সশ্রম করাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। এজাহার সুত্র ও অতিরিক্ত সরকারী কৌসুলী আঞ্জুমান আরা জানান, ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর দুপুরে জমি থেকে খড় নিয়ে বাড়ী ফেরার সময় শিউলীকে নানা ভাবে যৌন হয়রানী করে। শিউলী তাৎক্ষনিক এর প্রতিবাদ করে ও ঘটনাটি বাড়িতে জানায়। এর মধ্যে আসামীরা পালিয়ে যায়। শিউলীর পিতা-মাতা ঘটনাটি গ্রামবাসীকে জানায়। গ্রামবাসী এব্যাপারে মামলা মোকদ্দমা না করে মীমাংসার জন্য বলে। কিন্তু বিকেলে শিউলী ঘটনার লজ্জায় ও ঘৃনায় কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে। প্রেক্ষিতে শিউলীর পিতা ইন্দ্রজিত রায় তাঁর মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগে পাঁচজনকে আসামী করে ওই দিনই সদর থানায় মামলা করেন। মামলা নং-২৫ এবং নারী ও শিশু-১৫৫/১৩,ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ ‘ক’/৩০। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এস.আই জাহাঙ্গীর আলম ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। চার্জশীটে এজাহার নামীয় এক আসামীকে বাদ দেওয়া হয় ও একজনকে যুক্ত করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানী শেষে আদালত ৩ আসামীকে দন্ড প্রদান করেন ও দুই আসামীকে বেকসুর খালাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *