Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ আম পঞ্জিকা মোতাবেক বৃহষ্পতিবার আম উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। একটি গোপালভোগ গাাছ থেকে পাঁকা আম পাড়ার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান। এ উপলক্ষে বিকেলে পৌর এলাকার সোনার মোড়ের একটি আম বাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে সঠিক সময়ে আম সংগ্রহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমে বানিজ্যিক ভিত্তিতে গাছ থেকে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক (ডিডি) মঞ্জুরুল হুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সলেহ মাহতাব, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হাকিম, পৌর কাউন্সিলর আব্দুল বারেক, মাসকুরা বেগম, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াসের নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন, জেলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্টরা। আম সংগ্রহ অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনিস্টিটিউটের শিল্পীরা। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিন শামীমের সভাপতিত্বে আম বাগানে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনায় প্রধান ও বিশেষ অতিথি সঠিক সময়ে আম সংগ্রহ ও ম্যাংগো ক্যালেন্ডারের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তাঁরা নিরাপদ কেমিক্যালমুক্ত আম উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের উপর জোর দেন। বিদেশে আম রপ্তানী, সকল পর্যায়ে ৪০ কেজিতে ১ মন হিসেবে আমের ওজন চালু করে কৃষক পর্য়ায়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে নেয়া উদ্যেগের কথা জানান। তাঁরা কৃষকের মুনাফা বাড়ানোর কথা বলেন। এদিকে  চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই শুরু হয়েছে বানিজ্যিকভিত্তিতে আম সংগ্রহ। তবে সকালে দেশের বৃহত্তম আমবাজার কানসাটে আম তেমন ক্রয় বিক্রয় হয়নি বলে জানান শিবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকার বাগান মালিক শফিউর রহমান। একই অবস্থা জেলা শহরের প্রধান বাজার সদরঘাট আমবাজারেও। সেটাও ছিল প্রায় ক্রেতা বিক্রেতা শুন্য। আম তেমন সরবরাহ হয়নি। গোপলভোগ আম বিক্রি হচ্ছে দু’হাজার টাকা মন দরে। তবে বাজারের বিক্রেতা আরিফ হোসেন ও মতিউর রহমান জানান, বিকেল থেকে সরবরাহ বাড়বে। সবাই আম পাড়া শুরু করেছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই আমে ভরে উঠবে বাজার। এরই মধ্যে চাষি, ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা উৎসবের আমেজে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। আম আড়ৎদাররাও তাঁদের আড়ৎ ঘর তৈরী মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অবশ্য জেলায় গুটি আম পাড়া ও বাজারজাত শুরু হয়েছে গত ২০ মে থেকে। উল্লেখ্য, গত ৪ মে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিস্ট সকল পক্ষের অংশগ্রহণে প্রনীত ম্যাংগো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গুটি আম ২০মে, ২৫মে গোপালভোগ, হিমসাগর ও ক্ষিরসাপাত ২৮মে, লক্ষণভোগ ১জুন, ল্যাংড়া ও বোম্বাই ৫জুন, ফজলী ও সুরমা ফজলী ১৫জুন, আ¤্রপালি ১৫জুন, আশ্বিনা আম ১জুলাই গাছ থেকে সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের সময় বেঁধে দেয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *