Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইমামদের নিয়ে জেলা

নাটাবের মতবিনিময়

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। “যক্ষা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে” আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহরের কাঁঠাল বাগিচাস্থ শিশু শিক্ষা নিকতন মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাটাবের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মনোয়ার খান চান্না। নাটাবের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মনিম উদ দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদ নজরুল চৌধূরী। প্রধান আলোচক ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মাতিন। নাটাবের সদস্য মো. আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় যক্ষা রোগের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন শান্তিমোড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা এজাবুল হক, ফকিরপাড়া জামে মসজিদের হাফেজ মো. আব্দুল বাশির, মাঝপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোসাদ্দেরুল ইসলামসহ কয়েকজন ইমাম। উপস্থিত ছিলেন নাটাবের রাজশাহী জোনের মাঠ কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন মসজিদের ৩০জন ইমাম অংশ নেয়। বক্তারা, য²া রোগ প্রতিরোধে ইমামদের বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। মাদক থেকে দূরে থাকলে অনেকটায় যক্ষèা রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। সামাজিকভাবে সচেতনতার মাধ্যমে যক্ষা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মতামত ব্যক্ত করেন আলোচকগণ ও নাটাব নেতৃবৃন্দ। আলোচকগণ বলেন, যক্ষা রোগ শুধু মানুষের ফুসফুসেই হয়না, হাড়েও হয়। হাড়ে য²া রোগ প্রায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ হয়। ৫০% লোকের মেরুদন্ডে এই রোগ হয়। ফলে আক্রান্ত রোগী সামনে বা পেছনের দিকে বাঁকিয়ে যায়। আক্রান্ত হলে হাঁটুতে এবং পায়ের গোড়ালীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা নিলে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। য²া রোগীকে সঠিকভাবে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এতে ডটস উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকার রাখে। মা সমাবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে য²া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। মতবিনিময়কালে বক্তারা বলেন, একটানা ৩ সপ্তাহের বেশী কাঁশি হলে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে হবে। হাঁচি ও কাঁশির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগ সংক্রমন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়া মানুষদের আক্রান্ত করে ফেলে। সাধারণতঃ রোগ প্রতিরোধ কমে মানুষরা এই রোগে বেশী আক্রান্ত হয়। যক্ষা রোগ দেখা দিলে নিয়মিত, পরিমিত ও ক্রমাগত এবং সঠিকভাবে ঔষধ সেবন করাতে হবে। সমাজ থেকে এই রোগ প্রতিরোধে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের সচেতনতায় পারে কঠিন রোগ য²া থেকে সমাজ তথা দেশকে রক্ষা করতে। বক্তারা আরও বলেন, মানুষের নখ ও চুল ছাড়া সব স্থানেই য²া রোগ হতে পারে। তাই সমস্যা হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিবি ক্লিনিকে আধুনিক মেশিনে মাত্র ১ ঘন্টায় য²া রোগ পরীক্ষা করা যায় এবং ফলাফল দেয়া হয়। কোন মানুষকে সন্দেহ হলেই টিবি ক্লিনিকে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে নেয়ার অনুরোধ জানান বক্তারা। বক্তারা আরও বলেন, ডটস্ এর মাধ্যমে সমাজের প্রতিনিধির তত্বাবধানে য²া রোগীকে সঠিকভাবে ঔষধ খাওয়ানো হচ্ছে। জেলার যক্ষèার চিকিৎসা পাওয়া যায়, বাংলাদেশের সকল জেলা সদর হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা টিবি ক্লিনিক, জেলা নাটাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা ব্র্যাক সেবা সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বক্ষব্যাধী ক্লিনিক ও বক্ষব্যাধী হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে। তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে, শরীরের ওজন ও ক্ষুধা কমে যাওয়া, সন্ধ্যায় বা রাতে জ্বর আসা, বুকে ব্যথা ও শাস কষ্ট হওয়া, কফের সাথে রক্ত যাওয়া, এসব লক্ষন দেখা দিলে তাৎক্ষনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়া জন্য যেতে হবে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার সেবা নিয়ে ঔষধ সেবন করলে যক্ষ্মা ভালো হয়। নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসা না নিলে পরিনতি ভয়াবহ যা এমডিআর রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলেও বক্তারা বলেন। নাটাব য²া রোগী শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক কূসংস্কার, অজ্ঞতা, অবহেলা, অর্থনৈতিক সংকট ও তথ্যের অভাবে য²া রোগীরা চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে চান না, চিকিৎসা নিলেও নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং পূর্ণ সময় চিকিৎসাও গ্রহণ করেন না। নাটাব সরবারের ডটস্ কর্মসূচির অংশীদার হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ব্যাপারে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। এর আগেও জেলা নাটাবের উদ্যোগে ইমাম, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাংবাদিক, ক্রীড়া সংগঠক, এনজিও কর্মী, সুশীল সমাজ, পরিবহন শ্রমিক ও রিক্সাচালকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় য²া নিরোধ সমিতি (নাটাব) এর জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে। প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকেই জনসচেতনার মাধ্যমে দেশব্যাপী যক্ষèা রোগ প্রতিরোধে কাজ করে আসছে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি নাটাব।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *