Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একই পরিবারে ৩ প্রতিবন্ধী ॥ মানবেতর জীবন-যাপন

♦মো. নাদিম হোসেন, (স্টাফ রিপোর্টার) চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বিধির লিলা-খেলা। সৃষ্টিকর্তার কি নির্মম রহস্য। জন্ম ভালোভাবে হলেও এখন একই পরিবারের ৩জনই প্রতিবন্ধী। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় দীর্ঘদিন থেকেই খেয়ে-না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এমনই এক পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিকরামপুর গ্রামের একই পরিবারের তিনজন প্রতিবন্ধী হয়েছেন। প্রথমে একজন, পরে ধারাবাহিকভাবে অপর দু’জন প্রতিবন্ধী হয়। অন্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরে যা পায়, তাই দিয়ে কোনভাবে চলে ৩ প্রতিবন্ধীর পিতা অসহায় সুলতান আলীর সংসার। হঠাৎ এমন অবস্থার কারণে সংসারের বোঝা হয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন মোঃ সুলতান আলীর পরিবার। চিকিৎসকদের ধারণা, নার্ভের সমস্যার কারণেই প্রাপ্ত বয়সে এসে এ রোগের বিস্তার ঘটে থাকতে পারে। সরজিমনে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উপজেলার টিকরামপুর গ্রামের দিনমজুর মোঃ সুলতান আলীর ছেলে রুবেল (২৮) সে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে সংসারের খরচ চালিয়েছে, বর্তমানে কর্মক্ষম নয় এবং কথাও বলতে পারে না, ২য় মেয়ে মোসাঃ মাওয়ানজেরা (২৫), ৩য় ছেলে (২২) মোহাম্মদ আলী উভয়ে কাছাকাছি ১৪ হতে ১৫ বছরে বয়সে গিয়ে প্রতিবন্ধী হয়েছে। বড় ছেলে রুবেল ১৪ বছর আগে কাজ করতেন রাজমিস্ত্রির। কিন্তু হঠাৎ করেই চলার শক্তি হারিয়ে যায়। এরপর থেকেই দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন তিনি। শুধু রুবেল নয়, বোন মাওয়নজেরা ও ভাই মোহাম্মদ আলীরও একই অবস্থা। সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিলেও ভাগ্যের নির্মমতায় এখন তারা প্রতিবন্ধী। প্রাপ্ত বয়সে এসে তাদের হাত-পা ও শরীর বিকলাঙ্গ, নেই তাদের চলাফেরার ক্ষমতা। এ অবস্থায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে সকলেই বাবা মায়ের সংসারে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, নার্ভের সমস্যার কারণে তারা প্রতিবন্ধী হয়েছেন। তবে নিয়মিত ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে কিছুটা সুস্থ থাকা সম্ভব। এদিকে, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর মোঃ তসিকুুল ইসলাম বলেন, তাদের সুচিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যবস্থা করতে পৌরসভার পক্ষ হতে সাধ্যমত চেষ্ঠা করে যাচ্ছি, যা যথেষ্ট না, তিনি আরও সহোযোগীতার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। প্রতিবন্ধীদের মা নূরপেশ বেগম জানান, একটি স্বাভাবিক সন্তান মানুষ করতেও খুব কষ্ট করতে হয়, কিন্তু পরপর তিনটি প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে তিনি যে মানষিক ও শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। তাদের পিছনে খরচ সহ তাদের বসে থাকার যে হুইল চেয়ার রয়েছে সে চেয়ারগুলোর অবস্থা নাজুক, যে কোন সময়ে ভেঙ্গে পড়ে একটা দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। যে ঘরগুলোতে তাদের নিয়ে থাকি, সে ঘরগুলোর অবস্থাও খুব ভাল নয়, ঝড় বৃষ্টি হলে খুব সহজেই পানি পড়ে। এ করুন অবস্থায় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা প্রতিবন্ধীদের মা নূরপেশ বেগম বলেন, প্রতিবন্ধী হলেও তাদের বোঝা হিসেবে না নিয়ে অন্যান্য স্বাভাবিক সন্তানের মতোই মানুষ করে যাচ্ছি। সমাজের কিছু মানুষের নানা রকম উক্তি সহ্য করেই শত দুঃখ কষ্টের মাঝে দিন পার করে যাচ্ছি। প্রতিবন্ধী হলেও প্রতিটি সন্তানকেই মায়ের মমতা দিয়ে ভালোবাসেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমার বয়স এখন প্রায় ৫৫ বছর, আমার মৃত্যুর পরে এ ছেলেগুলোর কি হবে তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করে কেঁদে ফেলেন। এদিকে সংসারের ছয়জন মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে অসহায় বাবা সুলতান আলীকে অন্যের দারে দারে হাত পেতে ভিক্ষা করতে হয়। প্রতিদিনি ভিক্ষা করা টাকা দিয়ে তার সংসার চালাতে হয়। ভিক্ষার টাকা দিয়ে ছয়জন মানুষকে দুই বেলা দু-মুঠো ভাত দেয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীর্ণশীর্ণ একমাত্র কুড়েঘড়ে একত্রে স্বামী-স্ত্রী ও তিন প্রতিবন্ধী সন্তাানকে নিয়ে বসবাস করেন। একই পরিবারের তিনজন প্রতিবন্ধী মানুষ থাকার পরও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অসচেতনতার কারণে সরকার থেকে সঠিক সুযোগ-সুবিধা পায়না তারা। এ বিষয়ে ওয়ার্ড কমিশনার মোঃ তসিকুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইনা, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোসাঃ উম্মে কুলসুম জানান, একই পরিবারের তিনজন প্রতিবন্ধী এটি ব্যতিক্রম বিষয়। ইতোমধ্যে সমাজসেবা অধিদফতর থেকে ২ জনের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে, বাকি তিনজনকেও ভাতার আওতায় আনা হবে। “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”। সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষ আছেন, যাঁদের একটু সহযোগিতা পারে সুলতান আলীর পরিবারের দুঃখ কষ্ট নিরসন করতে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *