Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একসাথে জন্ম নেয়া

৪ সন্তানের দুধের ব্যবস্থা করলেন

স্থানীয় প্রশাসন

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৬ মাস আগে একসঙ্গে জন্ম নেয়া ৪ সন্তানের জন্য গাভীর দুধের ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসনের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ৫৩ বিজিবিসহ বিভিন্ন দপ্তরের যৌথ আর্থিক সহযোগিতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মহাডাঙ্গা এলাকায় ওই পরিবারের নিকট একটি উন্নতমানের সংকর জাতের গাভী প্রদান করা হয়। গাভী প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক, পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম, ৫৩ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল সাজ্জাদ সারোয়ার পিএসসি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. আলমগীর হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুস সালাম, সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. কবীর উদ্দীনসহ ওই পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উল্লেখ্য, এবছরের ৮ই জানুয়ারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহাডাঙ্গা এলাকার মো. মুনসুর রহমানের মেজ ছেলে মো. মামুনুর রশীদের (৩১) স্ত্রী নাজনীন আক্তার (২৮) একসাথে ৪ সন্তানের জন্ম দেন। রাজশাহী মহানগরীর মাদারল্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার হাসপাতালে জন্ম নেয়া ৪ সন্তানের মধ্যে দুটি ছেলে এবং দুটি মেয়ে জন্ম দেন নাজনীন আক্তার। ৪ সন্তানের নাম হলো- সাজিদ রহমান আয়ান, সাইমন রহমান নেহাল, নাজিফা তাসনিম ওয়াসিয়া, নাজিয়া তাসনিম ওয়াফিয়া। এসময় জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, মহাডাঙ্গায় একসাথে চার শিশুর জন্ম নেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ইতো:পূর্বে এই পরিবারকে সহযোগিতার জন্য ১৬ হাজার টাকাসহ খাবার প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে শিশুদের জন্য সহযোগিতা করা হয়। একসাথে চার শিশুর লালন পালন কষ্টসাধ্য হওয়ায় শিশুগুলোর পুষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি দুগ্ধবতী উন্নত সংকর জাতের গাভী প্রদান করা হলো। গাভীটি প্রতিদিন ৪ থেকে সাড়ে ৪ কেজি দুধ দেবে। আশা করা হচ্ছে, একই সাথে মা ও শিশুদের খাবার যোগানের পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হবে। এই পারবারটিকে গাভী প্রদানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদেরও অবদান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, কাউকে পেছনে ফেলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান সকল মানুষের উন্নয়ন। তারই অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবারটিকে গাভীটি প্রদান করা হলো। জেলা প্রশাসনের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এই ৪ সন্তানের জনক মো. মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, গত ৬ মাস ধরে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে বাজারে পাওয়া যায় এমন প্যাকেটজাত দুধ কিনতে গিয়ে অসহায় হয়ে গেছি। আর এটি করতে গিয়ে প্রতিদিন দুই প্যাকেট দুধ কিনতে ১ হাজার করে টাকা খরছ হচ্ছে। কিন্তু কি করার, নিজে না খেয়ে হলেও তাদেরকে খাবার দিতেই হবে। তিনি আরো জানান, ৪ সন্তানের দেখাশুনা করার জন্য নিজের একটি রাইস মিলের চাকুরিও এখন আর নেই। তাছাড়াও প্রাইভেট ক্লিনিকে বাচ্চা প্রসব হওয়ায় মোটা অংকের টাকা সেখানেই খরচ করতে হয়েছে। তাই এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহব্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *