Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা রোগী বেড়ে ১৭৪ ॥ মোট সুস্থ ৯২ ॥ ঝুঁকির মধ্যে জেলা

♦স্টাফ রিপোর্টার 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ৪দিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ৪ দিনে জেলায় নতুন আক্রান্ত হয়ে রোগী বেড়েছে ৭৪জন। জেলায় সুস্থ্য হয়েছেন মোট ৯২ জন। বর্তমানে জেলায় রোগী ৮২ জন। কয়েকদিনে করোনা সংক্রমনে জেলা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। শুক্রবার ১০ জুলাই ঢাকার সাভার ল্যাব থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত পাঠানো ২৭৮টি নমুনার সর্বশেষ রেজাল্টে ১৭জনের করোনা পজেটিভ আসে। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১০ জন, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩, নাচোলে ৩ এবং ভোলাহাটে ১ জন। এর আগে বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব থেকে আসা রিপোর্টে ৯১ জনের মধ্যে পজেটিভ আসে ৩৫জন। গত ৭ জুলাই ৭০টি নমুনা পরীক্ষায় রেজাল্টে পজেটিভ আসে ১৬জন এবং ৮ জুলাই ৯টি নমুনা পরীক্ষায় রেজাল্টে পজেটিভ আসে ৬জন। সব মিলিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তারপরও সচেতন হচ্ছেনা সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ীরা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকগন। আক্রান্তদের মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মিডিয়াকর্মী, পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ব্যাংকার, রাজমীস্ত্রী, সেলসম্যান, ইউপি সচিব, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, গাড়ী চালক, শিক্ষার্থী, গৃহিণী, বিদ্যুৎ বিভাগের নেসকো কোম্পানির কর্মকর্তা ও শিশু রয়েছে। নতুন আক্রান্তরা সকলেই সুস্থ্য ও ভালো আছেন। সকলকে নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। জেলায় করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন জেলার সিভিল সার্জন। শুক্রবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বিষয়গুলো নিশ্চিত করে বলেন, জেলায় হঠাৎ করেই করোনা নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ৪ দিনে জেলায় নতুন আক্রান্ত রোগী বেড়ে হয়েছে ৭৪জন। জেলায় সুস্থ্য হয়েছেন মোট ৯২ জন। বর্তমানে জেলায় রোগী ৮২জন। কয়েকদিনে করোনা সংক্রমনে জেলা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি উৎকন্ঠার সাথে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে না। মাস্ক পরছে না, সামাজিক দূরত্ব মানছে না, ভীড় জমিয়ে বাজার করা, ব্যাংকে টাকা উঠানোর জন্য লাইন দিয়ে ভীড় করা, যত্রতত্র স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাফেরা করছেন। ফলে জেলার অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। আগামীতে কোরবানীর ঈদে হয়তো সংক্রমনের হার আশংকাজনক হারে বাড়তে পারে। সকলকে সরকারী স্বাস্থ্য বিধি মেনে সচেতনতার মাধ্যমে এই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কাজ করার অনুরোধ জানান সিভিল সার্জন

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *