Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কলেজ শিক্ষকদের নিয়ে

জেলা নাটাবের মতবিনিময়

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কলেজ শিক্ষকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। “যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে” রবিবার দুপুরে শহরের কাঁঠাল বাগিচাস্থ শিশু শিক্ষা নিকতন মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা হয়। নাটাবের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মনিম উদ দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

প্রধান আলোচক হিসেবে জাতীয় যক্ষèা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী ডট্স বিষয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন জেলার গোমস্তাপুর মেকিকেল অফিসার ডা. নুসরাত শারমিন। বক্তব্য রাখেন নাটাবের রাজশাহী জোনের মাঠ কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও সভা সঞ্চালনা করেন নাটাব চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য ও শিশু শিক্ষা নিকতনের অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহমান। সভায় যক্ষ্মা রোগের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফাসহ জেলার

বিশিষ্ট শিক্ষকগণ। মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে জেলার ৩০জন কলেজ শিক্ষক অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের আরবী বিভাগের প্রভাষক হাবীবুল্লাহ। মতবিনিময় সভায় অংশ নেন নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা, মহাঃ শহিদুল ইসলাম, মোসা. ফাতেমা পারভিন ও প্রভাষক মোঃ বশির আলী, হাবীবুল্লাহ। শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের শিক্ষক মো. মাহফুজুল হাসান, মো. শাহজামাল, নওসাবাহ নেহা, মো. ইসমাইল হোসাইন, মো. শফিকুল ইসলাম। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজের প্রভাষক মো. আনিকুল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম,

মো. মজিবর রহমান, প্রদর্শক মো. রাহ-বার-ই-খালিদ, শরীরচর্চা শিক্ষক মো. ইব্রাহীম আলী। নামোশংকরবাটী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মিঞা মো. আলী আফজাল আজিজি, মো. গোলাম ফারুক (মিথুন), মোহা. কামরুজ্জামান, প্রভাষক মো. মতিউর রহমান ও মো. আব্দুল খালেক। নবাবগঞ্জ সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ও মো. আব্দুস সালাম, প্রভাষক মো. রাইহানুল মনিরুল ইসলাম, ড. নজরুল ইসলাম ও মো. মোয়াজ্জেম আলী। বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের প্রভাষক মো. ইলিয়াস আলী, মো. মেরাজুল ইসলাম, মো. মিজানুর রহমান, শামিমা আখতার, প্রদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক। বক্তারা, যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে জেলার শিক্ষকগণের বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সামাজিকভাবে সচেতনতার মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও মতামত ব্যক্ত করেন আলোচকগণ ও নাটাব নেতৃবৃন্দ। যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে জেলার শিক্ষকগণ ক্লাশে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যক্ষèা রোগ থেকে অনেকটায় রক্ষা পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। বক্তারা বলেন, যক্ষ্মা রোগ শুধু মানুষের ফুসফুসেই হয়না, হাড়েও হয়। হাড়ে যক্ষ্মা রোগ প্রায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ হয়। ৫০% লোকের মেরুদন্ডে এই রোগ হয়। ফলে আক্রান্ত রোগী সামনে বা পেছনের দিকে বাঁকিয়ে যায়। আক্রান্ত হলে হাঁটুতে এবং পায়ের গোড়ালীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা নিলে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। যক্ষ্মা রোগীকে সঠিকভাবে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এতে ডটস উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকার রাখে। মতবিনিময়কালে বক্তারা আরও বলেন, একটানা ৩ সপ্তাহের বেশী কাঁশি হলে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে হবে। হাঁচি ও কাঁশির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগ সংক্রমন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়া মানুষদের আক্রান্ত করে ফেলে। সাধারণতঃ রোগ প্রতিরোধ কমে মানুষরা এই রোগে বেশী আক্রান্ত হয়। যক্ষ্মা রোগ দেখা দিলে নিয়মিত, পরিমিত ও ক্রমাগত এবং সঠিকভাবে ঔষধ সেবন করাতে হবে। সমাজ থেকে এই রোগ প্রতিরোধে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের সচেতনতায় পারে কঠিন রোগ যক্ষ্মা থেকে সমাজ তথা দেশকে রক্ষা করতে। বক্তারা আরও বলেন, মানুষের নখ ও চুল ছাড়া সব স্থানেই যক্ষ্মা রোগ হতে পারে। তাই সমস্যা হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিবি ক্লিনিকে আধুনিক মেশিনে মাত্র ১ ঘন্টায় যক্ষ্মা রোগ পরীক্ষা করা যায় এবং ফলাফল দেয়া হয়। কোন মানুষকে সন্দেহ হলেই টিবি ক্লিনিকে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে নেয়ার অনুরোধ জানান বক্তারা। বক্তারা আরও বলেন, ডটস্ এর মাধ্যমে সমাজের প্রতিনিধির তত্বাবধানে যক্ষ্মা রোগীকে সঠিকভাবে ঔষধ খাওয়ানো হচ্ছে। জেলার যক্ষèার চিকিৎসা পাওয়া যায়, বাংলাদেশের সকল জেলা সদর হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা টিবি ক্লিনিক, জেলা নাটাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা ব্র্যাক সেবা সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বক্ষব্যাধী ক্লিনিক ও বক্ষব্যাধী হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার সেবা নিয়ে ঔষধ সেবন করলে যক্ষ্মা ভালো হয়। নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসা না নিলে পরিনতি ভয়াবহ যা এমডিআর রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলেও বক্তারা বলেন। নাটাব যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক কূসংস্কার, অজ্ঞতা, অবহেলা, অর্থনৈতিক সংকট ও তথ্যের অভাবে যক্ষ্মা রোগীরা চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে চান না, চিকিৎসা নিলেও নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং পূর্ণ সময় চিকিৎসাও গ্রহণ করেন না। নাটাব সরবারের ডটস্ কর্মসূচির অংশীদার হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ব্যাপারে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। এর আগেও জেলা নাটাবের উদ্যোগে ইমাম, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাংবাদিক, ক্রীড়া সংগঠক, সাংস্কৃতিক কর্মী, এনজিও কর্মী, সুশীল সমাজ, পরিবহন শ্রমিক ও রিক্সাচালকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) এর জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে। জন্মলগ্ন থেকেই জনসচেতনার মাধ্যমে দেশব্যাপী যক্ষèা রোগ প্রতিরোধে কাজ করে আসছে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি নাটাব।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *