Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি ট্রান্সপ্ল্যান্টার নিয়ে মাঠ দিবস

♦ স্টাফ রিপোর্টার

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের অংশ হিসেবে চীনে তৈরী নতুন উদ্ভাবনী যন্ত্র ‘কৃষি ট্রান্স প্ল্যান্টা’র নিয়ে মাঠ দিবস হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকার মাঠে এই মাঠ দিবস হয়। নিজের আবিস্কৃত ধানের চারা রোপন করা যন্ত্রের বিষয়ে কৃষকদের মাঝে বিস্তারিত তুলে ধরেন চীনের মি. লি। এই উপলক্ষে নাটোরের হোসেন এ্যান্ড কোম্পানীর আয়োজনে মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সালেহ আকরাম। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় অব. কলেজ শিক্ষক ড. অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। যন্ত্রের ব্যবহার ও উপকারীতা বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের জাম প্লাজম কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জহরুল ইসলাম, বেসরকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাটোরের হোসেন এ্যান্ড কোম্পানীর ¯^ত্বাধিকারী মো. শাহরিয়ার ইমন, কোম্পানীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত ব্যবস্থাপক সৈয়দ ফেরদৌস মুরাদ, একই কোম্পানীর হেড অব সেলস এ্যান্ড মার্কেটিং সালাহউদ্দিন শুভ, এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন। উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহমেদ আবু আল আমিন, মো. আমানুল্লাহ, তোফায়েল আহমেদসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় কৃষক ও গণমাধ্যমকমীরা। কৃষকরা নতুন আবিস্কৃত এই ধানের চারা রোপন যন্ত্রের বিষয়ে জানতে প্রশিক্ষন ও দাম কৃষকের হাতের নাগালে নিয়ে আসার আহবান জানান। এই যন্ত্রের ব্যবহার বিষয়ে কৃষকের ভালোভাবে ধারনা হলে অবশ্যই কৃষকদের অনেক উপকার হবে এবং শ্রমিকের সংকট অনেকটায় কমে আসবে বলেও জানান কৃষকরা। মিস্টার. লি ও অন্যান্য বক্তারা বলেন, ধানের চারা রোপনকারী এই যন্ত্রের মাধ্যমে ২ ঘন্টায় এক বিঘা ও ৬ ঘন্টায় এক একর জমিতে অনায়াসেই চারা রোপন করা সম্ভব। এক বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপন করতে যেখানে ৪জন শ্রমিক প্রয়োজন, সেখানে একজন শ্রমিক ৬ ঘন্টায় এক একর জমিতে চারা রোপন করতে পারবে। হস্তচালিত ‘কৃষি ট্র্যান্স প্ল্যান্টার’ এই মেশিনের মূল্য বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার টাকা। মাত্র ১৮ কেজি ওজনের এই মেশিনটি খুব সহজেই বহনযোগ্য এবং পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ব্যবহার করতে পারবে। এই মেশিনের জন্য আলাদাভাবে কোন ট্রেতে চারা তৈরী করতেও হবে না, সাধারণভাবে তৈরী চারা দিয়েই জমিতে রোপন করা যাবে এবং ধানের চারার গোড়ায় কোন ক্ষতি হবে না বলেও জানানো হয় মাঠ দিবসে। শ্রমিকদের মেরুদন্ডের ও শারীরিক সমস্যারও সৃষ্টি হবে না। এই মেশিনে চারা রোপনের জন্য জমিতে ৩/৪দিন আগে ৫ইঞ্চি কাদা ও ২ ইঞ্চি পরিমান পানি রাখতে হবে। এই যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত হলে কৃষি ক্ষেত্রে অনেক বড় অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি বিভাগ, উদ্ভাবক মি. লি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় কৃষি জমির পরিমান ৩২ হাজার ৩২০ হেক্টর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কৃষি জমি পরিমান প্রায় ১ লক্ষ ২৯ হাজার হেক্টর।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *