Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গলদা চিংড়ি চাষ করে সফল হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীনগর গ্রামের মাছ চাষী মোঃ নওসাদ আলী। লবনাক্ত পানিতে গলদা চাষ হলেও মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ জেলায় এই প্রথম। জেলা মৎস্য দপ্তরের পরামর্শে ৬-৭ মাস আগে শুরু করে চিংড়ি চাষ। এক একরের একটি পুকুরে কার্পের সাথে চাষ করে গলদা চিংড়ির। প্রায় ৪ হাজার চিংড়ি পোনা ছাড়ে পুকুরে এবং প্রায় শতভাগ মাছের পোনা বেড়ে ওঠে। প্রথম হলেও চিংড়ি চাষে ব্যাপক সাফল্য হওয়ায় অন্য চাষীরাও এগিয়ে আসছে গলদা চিংড়ি চাষে। চিংড়ি চাষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং গলদা চিংড়ি চাষ করে বিপ্লব গড়ে তোলার আশাবাদ জেলা মৎস্য দপ্তরের। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ির চাষ দেখতে বুধবার আলীনগরের একটি পুকুরে সরজমিনে উপস্থিত হন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিন শামীম। এসময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা, জেলা মৎস্য দপ্তরের প্রধান সহকারী মোজাম্মেল হকসহ স্থানীয়রা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাছ চাষী নওসাদ আলী জানান, দীর্ঘদিন থেকেই মাছের চাষ করছেন তিনি। প্রবাদ ছিল লবনাক্ত পানি ছাড়া গলদা চিংড়ির চাষ হয় না। কিন্তু সেই প্রবাদ ভেঙ্গে চরম ঝুঁকি নিয়ে এবছর প্রাথমিকভাবে গলদা চিংড়ি মাছের চাষ শুরু করে। জেলা মৎস্য দপ্তরের সহায়তায় তার এই উদ্যোগ নেয়া। প্রথম হলেও খুব ভালভাবেই সফল হয়েছেন তিনি। প্রায় ৪ হাজার গলদা চিংড়ি পোনা ছাড়েন তার পুকুরে। এর মধ্যে সবগুলো পোনায় ভালভাবেই বেড়ে ওঠে। দামও ভাল পাচ্ছেন। জেলা অনেকেই তাকে চিংড়ি নওসাদ বলেও জানে। মিশ্রভাবে চিংড়ি চাষে অনেক সফলতা এসেছে। অনেকেই চিংড়ি চাষে এগিয়ে এসেছেন। জেলার সকল মাছ চাষীদেরও গলদা চিংড়ি চাষে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি। জেলায় মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ করে বিপ্লব ঘটবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামছুল আলম শাহ বলেন, মিঠা পানিতে চিংড়ি চাষ প্রকল্পের আওতায় ১০১৫-১৬ অর্থবছরে (জুন/২০১৬) পরীক্ষামূলকভাবে ১০ হাজার চিংড়ি পোনা নার্সারী করা হয়। মোট ১০ হাজার পোনা উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে নওসাদ আলী ৪ হাজার পোনা ছাড়ে তার পুকুরে। বাকি পোনা পোনা অন্যান্য চাষীরা চাষ করে। মাত্র ৬/৭ মাসে এক একটি গলদা চিংড়ির ওজন হয় ১’শ থেকে দেড়’শ গ্রাম। চিংড়ির দামও ভাল। জেলায় প্রায় মাছ চাষ যোগ্য ১০ হাজার পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরে অন্যান্য মাছের পাশাপাশি মিশ্রভাবে গলদা চিংড়ির চাষ করে ভাল লাভবান হবেন চাষীরা। নওসাদ ও অন্যান্য চাষীরা মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ির চাষ করে সফল হয়েছেন। অন্যান্য মাছের চেয়ে লাভও বেশী গলদা চিংড়ি চাষে। আগামীতে জেলার মাছ চাষীরা বিপুল পরিমান গলদা চিংড়ির চাষ করে সাড়া ফেলবে বলে আশা করেন তিনি। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে গলদা চিংড়ি চাষ করে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা আয় করেছেন মাছ চাষী নওসাদ আলী। নওসাদ আলীর চিংড়ি চাষে সফলতা দেখে অনেকেই এগিয়ে আসছেন গলদা চিংড়ি মাছ চাষে। জেলার ১০ হাজার মাছ চাষযোগ্য পুকুরে চাষ করলে ব্যাপকভাবে চাষ হবে চিংড়ির এবং জেলার চাষীরা অনেক লাভবান হবে। মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গে এক বিল্পব ঘটাবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *