Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংগঠন গাঙচিল এর ৭৪তম লেখ সম্মেলন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। গাঙচিল এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে সোমবার সকাল ১০টার দিকে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের এন.এম খান অডিটোরিয়ামে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৭৪ তম লেখক সম্মেলনে সাহিত্য আলোচনা, গুণীজন সংবর্ধণা ও গাঙচিল সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের “চাঁপাই গাঙচিল কণ্ঠ” সহ মোট ৫টি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচন করা বইগুলো হলো, ‘চাঁপাই গাঙচিল কণ্ঠ’, ‘বালুচর’, ‘আমরা ব্যস্ত আছি’, ‘অনুরণন’ ও ‘মানব বন্দনা’। সম্মেলনের শুরুতে কল্যানী শিল্পী গোষ্ঠি জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। সম্মেলনের নিবন্ধন পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল এর সৌজন্যে একটি ব্যাগ ও উন্মোচিত ৫টি করে বই দেয়া হয়। গাঙচিল সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাঃ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত কাটুনিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রফিক উন নবী রনবী। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও বাংলাদেশ গাঙচিলের সভাপতি এস.এম রইজ উদ্দিন, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দিন কলেজের অব. অধ্যক্ষ তৈমুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা গাঙচিল সাহিত্য-সংস্কৃতি সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, গাঙচিল সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রকাশনা সম্পাদক ও স্বাধীন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক তুফানসহ অন্যরা। সম্মেলনে জেলার ১৩ গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। সম্মাননা পদক প্রাপ্ত গুণীজনরা হলেন-মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরঙ্গনা সম্মাননা পদক পেয়েছেন মোসাঃ হাজেরা বেগম, বাংলা কবিতা রচনায় সম্মাননা পদক পেয়েছেন কবি মোঃ শাহজাহান আলী মিঞা, বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট হিসেবে সম্মাননা পদক পেয়েছেন রফিকুন্নবী রনবী, সমাজ হিতৈষি হিসেবে সম্মাননা পদক পেয়েছেন বিচারপতি ফজলুর রহমান ছানা (মণোত্তর), বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে সম্মাননা পদক পেয়েছেন প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া, বাংলাদেশ গাঙচিল সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সফল সভাপতি হিসেবে সম্মাননা পদক পেয়েছেন এস.এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ, উত্তরবঙ্গের সাহিত্য ক্ষেত্রে নবজাগরণ সৃষ্টিকারীর সম্মাননা পেয়েছেন খান আখতার হোসেন, কথা সাহিত্যের সম্মাননা পেয়েছেন জি.এম হারুন, বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন মোঃ ইলিয়াস আলি, বিশিষ্ট ছড়াকার হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন এনামুল হক তুফান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন আলহাজ্ব মোঃ মোস্তাক হোসেন, জেলার শ্রেষ্ঠ সাহিত্য সংগঠক হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন মোহাঃ আমিরুল ইসলাম। এসময় প্রধান অতিথি বলেন, অশিক্ষিত শিল্পীদের কাছে আমরা আঁকতে শিখেছি। এক সময় এসব চিত্র শিল্পীরা অশিক্ষিত থাকলেও তাদের হাতের নিপুন দেখে আমরা আর্বিভূত ও মুদ্ধ হই। তাঁদের কাছ থেকে হাতে খড়ি নিয়েই আমরা আজ স্ব স্ব অবস্থানে এসেছি। কবি সাহিত্যিক ও চিত্র শিল্পীরা নিজ নিজ ভাষায় তাঁদের মনের কথা ফুঁটিয়ে তুলেন। কবিরা কবিতায় এবং চিত্র শিল্পীরা রং তুলিতে। তিনি আরো বলেন, কবি এবং চিত্র শিল্পীরা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাঁদের নিজ নিজ কর্ম দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহিত করেছেন। বাঙালি জাতি আজ গৌরবিত তাঁদের অবদানে। অতীতে হারিয়ে যাওয়া ঝড়–পালকে এই মুহুর্তে আমার বিশেষ ভাবে মনে পড়ছে। এসব গুনীশিল্পীদের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করা দায়িত্ব আমাদের। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গাঙচিল সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রকাশনা সম্পাদক ও স্বাধীন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক তুফান, শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নওসাবাহ্ নওরীন নেহা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *