Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধু মুনিরা বেগম (২২) কে পালাক্রমে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা মামলায় পাঁচ আসামীকে দোষি সাব্যস্ত করে মৃতুদন্ড ও ১ লক্ষ টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করেছেন আদালত। নিহত মুনিরা বেগম শিবগঞ্জের বাখরআলী বিশ্বনাথপুর গ্রামের মো. রোজবুল হকের স্ত্রী ও একই উপজেলার সাতরশিয়া গ্রামের আইনাল হকের মেয়ে। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে, শিবগঞ্জ উপজেলার ছুটআইড়ামারি গ্রামের কয়েস আলীর ছেলে মো.জীবন ওরফে বাবু (২৫), একই উপজেলার রহিম-মৌলভীটোলা কালিগঞ্জ গ্রামের মৃত বেলালের ছেলে মো. কেতাব (৩৮), বাখেরআলী বিশ্বনাথপুরের মো. আব্দুল লতিফের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন (২৫), কাইপড়াটোলা গ্রামের ফকির মোহম্মদের ছেলে মো.নুরুল ইসলাম ডাক্তার (৩৩) ও কালীগঞ্জ কাইপড়াটোলা গ্রামের সাবের আলীর ছেলে জেনারুল ডাক্তার (৩০)। অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় একই মামলার অপর ৬ আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত। সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়াউর রহমান সকল আসামীর উপস্থিতিতে এই দন্ডাদেশ ঘোষনা করেন। এজাহার সুত্রে ও সরকারী কৌসুলী আঞ্জুমান আরা জানান, কাজের সুবাদে প্রায়ই বাড়ীতে ¯^ামী রোজবুলের অনুপস্থিতির সুযোগে গৃহবধু মুনিরা প্রধান আসামী জীবন ওরফে বাবুর সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। গত ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল ¯^ামীর অবর্তমানে ¯^ামীর বাড়ী থেকেই জীবন ওরফে বাবুর সাথে নিজের বিয়ের ইচ্ছের কথা পিতা-মাতাকে মোবাইল ফোনে জানায় মুনিরা। ওইদিনই রাত সাড়ে ১০টায় সে বাড়ী থেকে নিঁেখাজ হয়। তাঁর ¯^ামী রোজবুল রাতেই মোবাইল ফোনে বিষয়টি মুনিরার পিতা মাতাকে জানায়। এ প্রেক্ষিতে উভয় পরিবার তাঁকে খোঁজাখুজি শুরু করে। পরদিন ২১ এপ্রিল দুপুরে ছুটআইড়ামারি এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেতে মুনিরার মরদেহ পাওয়া যায়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের প্রলোভনে ২০ এপ্রিল রাতে মুনিরাকে বাড়ী থেকে বের করে নিয়ে যায় জীবন ওরফে বাবু ও সঙ্গীরা। এরপর তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রাখে। ২২ এপ্রিল এ ঘটনায় মুনিরার মা সুলেখা বেগম (৪৩) জীবন ওরফে বাবু, কেতাব ও নুরুল ইসলামকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতানামাদের আসামী করে শিবগঞ্জ থানায় দন্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা করেন। (মামলা নং-২৮ তাং-২২/০৪/১৪. নারী ও শিশু মামলা নং-৬৩/২০১৫,জিআর ১০৯/২০১৪)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার এস.আই আবুল কালাম আজাদ ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রæয়ারী আদালতে ১১ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সাক্ষ্য প্রমান শেষে সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ বিচারক ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় পাঁচজনকে মৃতুদন্ড ও একলক্ষ টাকা করে অর্থদন্ড ও অপরাধ প্রমান না হওয়ায় বাকী ৬ জনকে খালাস প্রদান করেন। খালাস প্রাপ্তরা হলো, একই এলাকার মো. আজিজুল হক, মো. আতাউর রহমান, মো. আকবর আলী, ওবায়দুল ওরফে এবাদুল, মো. আজম আলী, মো. মুকুল। আসামী পক্ষে ছিলেন জেষ্ঠ্য আইনজীবি গোলাম কবির ও অনান্যরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *