Sharing is caring!

SAM_3723চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নয়লাভাঙ্গা ইউনিয়নের গৃহবধু রিতা খাতুনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন রিতার পিতা ও আত্মীয় স্বজন। স্বামী জাহাঙ্গীর আলম (জুয়েল) এর পরিবার রিতা’র স্বাভাবিক মৃত্যু বললেও কৌশলে হত্যার অভিযোগ রিতার পিতা একই এলাকার মীরাটুলী বাবুপুরের আব্দুল হামিদের। রিতার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ এবং রিতা মৃত্যু ঘটনা নিয়ে রিতার স্বামী জুয়েল এবং জুয়েলের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন আচরণের কারণেই রিতাকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন রিতার পিতা। রিতা মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আইনানুগভাবে তৎপর রয়েছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ বলে জানিয়েছেন শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এম.এম ময়নুল ইসলাম। রিতার পিতা আব্দুল হামিদ সুত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৩ই মে ইসলামী শরিয়ামতে শিবগঞ্জ থানার নয়ালাভাঙ্গার মোঃ রুহুল আমিনের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (জুয়েল)(২২)’র সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার রানীহাটি এলাকার মৃত নাইমুল হকের ছেলে আব্দুল হামিদের মেয়ে মোসাঃ রিতা খাতুন (২০) এর। বিয়ের পুর্বে রিতাকে পথে উত্যক্ত করার এক পর্যায়ে জুয়েলের সাথে কিছুটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠে রিতার। পরে পরিচিত হিসেবে পরিবারিকভাবে কথা পাকাপাকি করেই আয়োজন করে বিয়ে হয় রিতা-জুয়েলের। সুখেই কাটছিল রিতার দিন। জুয়েল চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালে প্যাথলজী বিভাগে চাকুরী করতো। গত ১ অক্টোবর থেকে সে চক্ষু হাসপাতালে চাকুরীতে যোগদান করে। চাকুরীর আগে সে বেকার থাকায় বিভিন্নভাবে রিতাকে তার বাবার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে তার উপর মানষিক নির্যাতন শুরু করে জুয়েল ও তার পরিবারের লোকজন। টাকা না পেয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে জুয়েল। যৌতুকের টাকা না পেয়ে জুয়েল তার এক বন্ধুকে দিয়ে (০১৭৭০৫৩২১০০) মোবাইল ফোন থেকে রিতার পিতা আব্দুল হামিদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং চার হাত-পা কেটে নিয়ে হত্যার হুমকী দেয়। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামায় জুয়েলকে বিভিন্নভাবে বোঝায় শশুর হামিদ। কিন্তু জুয়েল রিতাকে প্রায়শই নির্যাতন করতো। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তার উপর শারিরীক নির্যাতন চালায়। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে রিতা পিতার বাড়িতে থাকাকালে মোবাইলে ম্যাসেজ করে জুয়েল রিতাকে জানায়, সে যেন তাদের বাড়ি না আসে, আসলে সে আত্মহত্যা করবে। বিষয়টি রিতার পিতা জুয়েলের পরিবারকে জানালে জুয়েলের বাবা-মা বিষয়টি আমলে না নিতে অনুরোধ জানায় হামিদকে। শেষে ১৫ নভেম্বর বিকেলে চক্ষু হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিছু খাবার নিয়ে যায় জুয়েল। একসাথে খাবার খায় রিতা-জুয়েল। খাবার খাওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যে রিতার শরীরের ভেতর প্রচন্ড ছটপটি শুরু হলে তাকে ইনজেকশন দেয় জুয়েল। পর পর কয়েকটি ঔষধও খাওয়ায়। রিতার অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকলে তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসে জুয়েল ও তার পরিবারের লোকজন। কিন্তু এত কিছুর পরও রিতার পিতা বা তার কোন আত্মীয় ¯^জনকে রিতার অসুস্থতার কথা না জানিয়ে রিতার মৃত্যুর পর রিতার লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জুয়েল এবং তার পরিবারের লোকজন। মৃত্যুর পর রিতার পিতাকে রিতা অসুস্থ বলে জানালে হামিদ তার পরিবারের লোকজনকে হাসপাতালে পাঠিয়ে জানতে পারে রিতা আর বেঁচে নেই। এমনকি রিতার মৃত্যুর পর জুয়েল বা তার পরিবারের কোন লোকজনই রিতার দাফন কার্যক্রমে বা সমবেদনা জানাতেও যায়নি। এসব ঘটনা নিয়েই সন্দেহ হয় রিতার পিতার, তার মেয়ে রিতাকে যৌতুকের কারণে কৌশলে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে চলে যায় জুয়েল ও তার পরিবার। বর্তমানে জুয়েলের পক্ষে বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ী না করে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভাল হবে না বলেও হুমকী দেয়া হচ্ছে বলে জানায় রিতার পিতা আব্দুল হামিদ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিতা মৃত্যুর সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন শোকাহত রিতার পিতা আব্দুল হামিদ। এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের অবৈতনিক প্রকৌশলী একেএম খাদেমুল ইসলাম জানান, গত নভেম্বর মাসে চক্ষু হাসপাতালে জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল চাকুরীতে যোগদান করলেও তার চাকুরীর যোগদান ১লা অক্টোবর থেকে নিয়মিত করা হয়েছে। কিন্তু তার পারিবারিক ঘটনার পর থেকেই সে অনুপস্থিত রয়েছে। কোনভাবে অবহিত না করেই সেদিন থেকেই সে হাসপাতালে আসেনা। এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এম.এম ময়নুল ইসলাম জানান, রিতা মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত শেষে রিতার পরিবারের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এঘটনায় ইউডি মামলাও হয়েছে। রিতার পিতা স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে অভিযোগ করলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সঠিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না, আসল রহস্য কি। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর কোন আলামত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *