Sharing is caring!

রিপন আলি রকি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিআরটিএ অফিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ ছাড়া মিলছে না মটরসাইকেলের ডিজিটাল নম্বরপ্লেট। যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। জানা গেছে, প্রতি মাসের শেষ সপ্তাহের দুই দিন মঙ্গলবার ও বুধবার ১৫০ থেকে ২০০টি মটরসাইকেলের ডিজিটাল নম্বরপ্লেট বিতরণ করা হয়। আর এই সুযোগে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বকভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিআরটিএ নম্বরপ্লেট শাখার ইনচার্জ আশাদুজ্জামান কিরণ-ই হচ্ছে ঘুষ বাণিজ্যের মুল হোতা। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রকাশ্যে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে নম্বরপ্লেট প্রতি ১৩০ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন তিনি। কেউ প্রতিবাদ করলে বা টাকা দিতে না চাইলে তাকে মাসের পর মাস নম্বরপ্লেট না দিয়ে হয়রানী করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, জরুরী ভিত্তিতে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট বানিয়ে দিবে বলে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শত শত সাধারণ ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে নাম ধরে ডেকে নম্বরপ্লেট প্রতি ১৩০ টাকা করে নিচ্ছে। তবে, কেন এই টাকা নিচ্ছে প্রশ্ন করলে তারা ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা না বলে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি এড়িয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী মামুনর রশিদ, রবিউল ইসলাম, আকবর আলীসহ অনেকেই জানান, টাকার ব্যাপারে আমাদের কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছি। তারা আরও বলেন, বিআরটিএ অফিসের এই বিভাগের পদে পদে টাকা গুনতে হয় আমাদের। গাড়ির ছবি উঠাতেও ১০০ টাকা করে নেয় তারা। এছাড়াও অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল নম্বরপ্লেট বিতরণে কোন প্রকার টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। এমনকি জরুরী ভিত্তিতে নম্বরপ্লেট দেওয়ার নামে যে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে সেটাও অবৈধ। এব্যাপারে অভিযুক্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিআরটিএ নম্বরপ্লেট শাখার ইনচার্জ আশাদুজ্জামান কিরণের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সত্যতা অস্বীকার বলেন, ডিজিটাল নম্বরপ্লেট বিতরণের ও জরুরী ভিত্তিতে করে দেওয়ার নামে কোন প্রকার টাকা নেওয়া হয়। তবে, তিনি ১৩০ টাকা করে নেওয়ার বিষয় স্বীকার করে বলেন, যে ব্যক্তি নম্বরপ্লেেেটর জন্য ষ্টিল প্রটেক্টরটি দেয় সে আমাদের অফিসের কেউ না। এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিআরটিএ মটরযান পরিদর্শক মোঃ ফয়সাল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নম্বরপ্লেটটি যাতে না ভেঙ্গে যায় তার জন্য একটি আলাদা ষ্টিল প্রটেক্টর দেওয়া হয়। হয়তো বা সেই জন্যই টাকাটা নেওয়া হয়। তবে এটি অফিসের দেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, আপনারা যদি বলেন তাহলে সেই শাখার প্রধান ইনচার্জকে বলে সেটি বন্ধ করে দিব এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অফিসকে অবগত করব। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিআরটিএ সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) শ্রী স্বদেশ কুমারের সাথে মুঠো ফোনে যোগযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *