Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার চারটি বাড়িতে জঙ্গী আস্তানা সন্দেহে বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি গানপাউডার, ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩ রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল ও ৩টি ম্যাগাজিন ও বোমা তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫। গ্রেফতারকৃতরা হলো, গোমস্তাপুর উপজেলার বালুগ্রাম রাজারামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দসের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), বালুগ্রাম শিমুলতলা গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে শাকুর ওরফে শুকুরুদ্দীন (৩৩) ও চকপুস্তম গ্রামের টুনু মোড়লের ছেলে সাইফুল আলম (৪৩)। র‌্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে গোমস্তাপুর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার একটি সড়ক থেকে অস্ত্র, গুলি ও গানপাউডারসহ জেএমবির তিন সদস্য জাহাঙ্গীর, শুকুরুদ্দীন ও সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর ৫টার দিকে নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চানপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ ও আলিসাপুর গ্রামে আফজাল এবং গোমস্তাপুর উপজেলার চকপুস্তম গ্রামে এজাবুল হক ও বালুগ্রাম শিমুলতলা এলাকার শুকুরুদ্দীনের বাড়ি ঘিরে ফেলে র‌্যাব। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ওই চার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল মাহবুবুল আলম জানান, চারটি বাড়ির মধ্যে তিনটি বাড়িতে কিছু পাওয়া না গেলেও বালুগ্রামের শাকুরুদ্দীনের বাড়ি থেকে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল ও ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে জানান তিনি। এর আগে মঙ্গলবার গোমন্তাপুর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকা থেকে একটি পিস্তল, ৩ কেজি গানপাউডার, ৪ রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিনসহ জেএমবির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তিনি জানান, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় ২টি করে ৪ বাড়ি ঘেরাও করে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হয়। বাড়িগুলি হচ্ছে গোমস্তাপুর উপজেলার বালুগ্রাম শিমুলতলা গ্রামের আব্দুস শুকুরের বাড়ি, চকপুস্তম এলাকার এজাবুল হকের বাড়ি,নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের বাড়ি ও আলিসাহাসপুর গ্রামের আফজালের বাড়ি। এর মধ্যে আব্দুস শুকুরের বাড়ি থেকে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য মতে সে জেএমবির পুরোনো সদস্য এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক বিষয়ে দক্ষ। সে বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষনও প্রদান করে। তল্লাশী চালানো অন্য বাড়ীগুলি থেকে কিছু মেলেনি। তিনি বলেন, লোকালয় থেকে দুরে প্রত্যন্ত এলাকায় আমবাগান ঘেরা এ অঞ্চলে জঙ্গিরা সংগঠিত হচ্ছে, তাঁরা প্রায়ই বৈঠক ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ করে এমন তথ্য র‌্যাবের নিকট দীর্ঘদিন যাবৎ ছিল। র‌্যাব এব্যাপারে নজরদারি অব্যহত রেখেছিল। দূর্গম এলাকাটি জঙ্গিদের কাজের জন্য সুবিধেজনক। কিন্তু ঘন ঘন বিভিন্ন আমবাগানে বৈঠকের স্থান পরিবর্তন ও সময় সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানায় এতদিন অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। বুধবার ভোররাতে জঙ্গি যাতায়াতের পথগুলিতে ফাঁদ পেতে প্রথমে ৩ জনকে ধরা হয়। র‌্যাব-৫ অধিনায়ক আরও জানান, ২০১৫ সালের পর জঙ্গি তৎপরতায় যুক্তদের নব্য জেএমবি আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু গ্রেপ্তারকৃতরা তামিম-সারোয়ার গ্রæপের পুরোনো জেএমবি সদস্য। এই সংগঠনটি বেশ বড় ও এদের অর্ধশতের বেশী সদস্য সক্রিয় রয়েছে বলে র‌্যাবের নিকট তথ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। গ্রেপ্তারকৃতদের নিকট অস্ত্র, বিস্ফোরক পাওয়ায় এদের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে।  তিনি আরো জানান, গোমস্তাপুর বাজার থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির ৩ সদস্যর বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় মামলা হয়েছে। এর আগে বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাব-৫ ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)  এনামুল করিম অস্ত্র, গান পাওডারসহ তিন জন আটক, জঙ্গি আস্তানার সন্ধান লাভ ও অস্ত্র, বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি জানান। গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *