Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ “সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পাট পণ্যের বাংলাদেশ” শ্লোগানে জাতীয় পাট দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। পাটজাত দ্রব্য ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ হোসেন খান এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুঞ্জুরুল হুদা, রাজশাহী পাট অফিসের কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, রাবেয়া জুট মিলসের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব রেজাউল করিম, এরফান গ্রæপের ব্যবস্থাপক ষ্টোর মেহেদী হাসান, কৃষক আব্দুল খালেক অন্যরা। এসময় বক্তারা বলেন, পাট আমাদের দেশের মূল্যবান সম্পদ। এক সময় পাটজাত দ্রব্য থেকে মোটা অংকের বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হতো। কালের পরিববর্তণের সাথে সাথে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার কমে যায় এবং বিভিন্ন প্লাষ্টিক সামগ্রী বা পলিথিন ব্যবহার শুরু হয়। এতে মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়ে পরিবেশ। সোনালী আঁশ হিসেবে পাট পণ্য বাজারজাত হয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, পাটদ্রব্য ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয়না বরং জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। আর পলিথিক পরিবেশ দূষণের সাথে সাথে জমির উর্বলতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে আমরা পাটসহ বিভিন্ন ফসল বেশি উৎপাদন করতে পারিনা। তাই বর্তমান সরকার আইন করে পলিথিন বন্ধের ঘোষণা ও পাট পণ্য ব্যবহারের জন্য কাজ করছে। বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় ১৫’শ থেকে ১৬’শ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হচ্ছে এবং প্রায় ৭’শ হেক্টর জমিতে পাট বীজ উৎপাদন হচ্ছে। পাট বীজ উৎপাদনের দিক থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সর্বোচ্চ। এই পাট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সকলের। বক্তারা আরো বলেন, পাট রক্ষণাবেক্ষন এবং পাট পণ্য উৎপাদনের জন্য দক্ষ শ্রমিককে কাজে লাগাতে হবে। প্রয়োজনে হাতে কলমে শিখিয়ে শ্রমিককে দক্ষতার সাথে গড়ে তুলে কাজে লাগাতে হবে। সারাদেশে ২১০টি জুট মিলের মধ্যে ২৬ জুট মিল সরকারী রয়েছে বলেও পাট কর্মকর্তা বলেন। পাটজাত দ্রব্য থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা আয় হয়েছে। পাশাপাশি পাট শাক উৎপাদন করে আয় বাড়ানোরও আহŸান জানান বক্তারা। এছাড়া প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা পাটকে আবার সোনালী আঁশ হিসেবে ফিরিয়ে আনতে চায়। পাট উৎপাদনের জন্য যা যা প্রয়োজন কৃষকদের সেই ভাবে দক্ষ করে কাজে লাগাতে হবে। পাট দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে এবং আগামীতে আরও বেশি বেশি পাটজাত ব্যবহার বৃদ্ধি করে দেশ ও জাতিকে বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া অটোরাইস মিল মালিকদের শতভাগ পাটের বস্তা ব্যবহার করার জন্য আহŸান জানান জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান। এর আগে র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখলেশুর রহমান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল লতিব, জেলা শিশু একাডেমির কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, এরফান গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হক, গ্রুপের প্রকৌশলী (সিভিল) আলমগীর হোসেন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের প্রধান অফিসার শামীম আখতার, একই বিভাগের জনিয়র অফিসার মোঃ আব্দুল কাদেরসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভায় পাটজাতদ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ বাঁচানোর জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহŸান জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *