Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন

♦ স্টাফ রিপোর্টার 

‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ স্লোগানে সারাদেশের ন্যায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মৎস্য অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে র‌্যালী শেষে উপজেলা পুকুরে মাছ অবমুক্তকরনের পর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এ.কে.এম. তাজকির-উজ-জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেশুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আমনুরা মৎস্য খামার ব্যবস্থাপক মো. আব্দুর রহিম। বক্তব্য রাখেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আমিমুল এহসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মাছ চাষে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মো. আকবর হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা, নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মনোয়ারা খাতুন, জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আনন্দ কুমার অধিকারী, যুবলীগ নেতা মেসবাহুল সাকের জ্যোতিসহ জেলার মাছ ব্যবসায়ী ও মাছ চাষীরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী বলেন, ছোটতে আমরা দেখেছি মহানন্দা নদীভরা পানি। অপেক্ষা করতাম কখন পানি শুকাবে, আর হেঁটে হেঁটে নদী পার হবো। কিন্তু অনেক সময় লাগতো নদী শুকাতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখন নদীভরা পানি অল্প কিছু দিন থাকে। বেশিরভাগ সময়ই পানিশূণ্য অবস্থায় থাকে মহানন্দা নদী। আর এতে প্রভাব পড়েছে মাছের উৎপাদনেও। আগের মতো এখন আর মাছ পাওয়া যায় না মহানন্দা নদীতে। আমাদের দেশ মাছ উৎপাদনে ব্যাপকভাবে সফল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবদ্ধ জলাশয়ে বর্তমানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষাবাদ হচ্ছে। জেলার অনেকেই মাছ চাষ করে আর্থিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করেছেন। সরকার তাদের পাশে সবসময় আছে। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদেরকে মাছ চাষে আরো আগ্রহী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ডিমওয়ালা মাছ না ধরার অনুরোধ জানিয়ে জেলেদের প্রতি পুলিশ সুপার পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া নিদিষ্ট সময়ে ডিমওয়ালা মাছ ধরবেন না। বর্তমান সরকার সেই সময়ে মাছ না ধরতে উদ্বুদ্ধ করতে জেলেদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। কিন্তু এই সহায়তার আশায় না থেকে, কর্মবিমুখভাবে বসে না থেকে অন্যান্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করবেন সেই সময়ে। জলাশয়গুলোকে মাছের উপযোগী করে রাখার আহব্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যানবহন ও ময়লা আর্বজনা ফেলে জলাশয়গুলোকে নষ্ট করবেন না। এতে মাছের ¯^াভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হয় এবং মাছ উৎপাদনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যারা নদীদখল করে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে তাদেরকে সমাজের কীট উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব মানুষকে সামজিকভাবে প্রতিহত করুন। কারন এতে আমাদের দেশের মাছের উৎপাদন কমছে এবং আমরা সবাই প্রোটিন সমৃদ্ধ মাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এ.কে.এম. তাজকির-উজ-জামান বলেন, পৃথিবীর আমরাই একমাত্র জাতি, যারা কৃষি কাজ করি, কিন্তু কৃষি নিয়ে গবেষণা করি না। এজন্য মাছের উৎপাদন বাড়লেও, জীববৈচিত্র বিনষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই জেনে বুঝে মাছ চাষ করার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি জানান, একটি ইলিশ মাছে প্রায় ২২ লক্ষ ডিম থাকে এবং আমার যদি ৩ বছর ইলিশ না ধরি, তা থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা দিয়ে একটি বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ করা যাবে। রুই, কাতলাসহ কার্প জাতীয় মাছে প্রোটিনের পরিমাণ ২৩ শতাংশ। কিন্তু কুঁচিয়াতে প্রায় ৬৪ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। আমাদের দেশে ধর্মীয় কারনে এই মাছের তেমন গুরুত্ব না থাকলেও বিদেশে, বিশেষ কওে চীন, জাপানে এই মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই মাছ থেকে বিপুল পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। তাই মাছ ব্যবসায়ীরা এটি চাষাবাদ করতে পারেন। উন্নত দেশের সুবিধা পেতে হলে সবাইকে নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সকলকে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে। ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো সোচ্চার হতে হবে। মানসিক পরিবর্তন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সবোর্চ্চ শক্তি প্রয়োগ করে দুর্নীতি রুখবো বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *