Sharing is caring!


স্টাফ রিপোর্টার \ “সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়” এ শ্লোগানে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বিষয়ক কর্মশালা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃহষ্পতিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শুদ্ধাচার কৌশল বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রীপরিষদের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীপরিষদের অতিরিক্ত সচিব সুলতান আহমদ, রাহশাহী বিভাগীয় কমিশনার নুর উর রহমান, মন্ত্রীপরিষদের উপ-সচিব আলতাব, হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার উদ্দিন শামীম এর সঞ্চালনায় এসময় উম্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম মনজুর রেজা, নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নজরুল ইসলাম, এনএসআই’র উপ-পরিচালক মোঃ শামসুজ্জোহা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুঞ্জুরুল হুদা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু, মনিম উদ দৌলা চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, পিপি জোবদুল হক, মসিউল করিম বাবু, অধ্যক্ষ আঃ রহিম, মুক্তমহোদলের মুসফিকুর রহমান, চেম্বারের পরিচালক শরিফুল ইসলাম, প্রয়াসের নির্বাহী পরিচালক মোঃ হাসিব হোসেন, আফসার আলী, সিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া, নবাবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তানজিলা সুলতানা, শাহনেয়মতুল্লাহ কলেজের শিক্ষিকা বিলকিস আরা মহুয়াসহ অন্যরা। এসময় বক্তারা বলেন, সাংস্কৃতি চর্চা নেই বলেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে। যারা আমাদের শিশুদের সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃণমূল থেকে উচ্চ পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক অঙ্গন জাগিয়ে তুলতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন অনিয়ম বা দূনীতির বিষয়গুলো তুলে ধরছেন সেজন্য তারা প্রশাংসার দাবিদার। প্রকাশিত সংবাদগুলো পর্যালোচনা অনেকটায় শুদ্ধাচরন হবে, সততা সংঘের মাধ্যমে শুদ্ধাচর্চা বিকাশিত হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনসচেতনার জন্য শুদ্ধাচার বিষয়ে প্রচারণা সভা-সমাবেশ করতে হবে। স্থানী কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমেও শুদ্ধাচার বিষয়ে প্রচারণা করা যেতে পারে। বক্তারা বলেন, বর্তমানে সময়ে আইনশৃক্সখলা নিয়ন্ত্রণের জন্য শুদ্ধাচার করছে না দেশের টেলিকম অপারেটরগুলো। বিশেষ করে গ্রামীণফোন এই শুদ্ধাচার শোভনীয় নয়। তাদের এই অশোভনীয় আচারণের কারণে অনেক অপরাধী ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। এই গ্রামীণফোনসহ সকল টেলিকম অপারেটরগুলোকে শোভনীয় আচারণ করে শুদ্ধাচার করার আহŸান জানান। অন্যদিকে, জেলা ¯^াস্থ্য বিভাগের অরাজকতা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকরা সঠিক চিকিৎসা সেবা না দিয়ে বাইরে ক্লিনিকে চিকিৎসার কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে রোগীদের সাথে শুদ্ধাচার করা জরুরী। রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে কমিশন নিচ্ছে এমনকি তারা চিকিৎসা ফি বার বার নিচ্ছে। এসব বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আহŸান মন্ত্রীপরিষদের সচিব মহোদয়কে। এছাড়াও বক্তারা বলেন, সরকারি চাকরী করে কোন ক্লিনিকে যেন চিকিৎসা করতে না পারে সেজন্য ¯^াস্থ্য বিভাগের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রয়ণের অনুরোধ জানান। পরে উম্মুক্ত বক্তাদের সকল প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রীপরিষদের সচিব মাহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বর্তমানে সরকার বিনা টাকাতে চাকরী দিচ্ছেন। কোন মামা-খালু ও চাচা লাগেনা এবং ¯^জনপ্রীতি হয়না। এখনও সরকারি অফিসে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না, এমন প্রথা থেকে বের হতে হবে। সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতন সৃষ্টি করতে হবে। কোন সরকারি কর্মকর্তা টাকা চাইলে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সচিব বলেন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বিষয়ক সভা-সমাবেশের মাধ্যমে শুদ্ধাচার ব্যস্তবায়ন করা সম্ভব। সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমেও শুদ্ধাচার করা যায়। এছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুদ্ধাচার করা, শিক্ষার মাধ্যমে শুদ্ধাচার প্রতিফলিত হয়। এতে শিক্ষকরাই অনেক কিছু পারে শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন করতে। শিক্ষকরা শুদ্ধাচার উপরে প্রতিটি ক্লাসের শুরুতেই অন্তত ১০ মিনিট করে যদি শুদ্ধাচার বিষয়ে আলোচনা করেন তাহলে, শিক্ষার্থীদের মাঝে শুদ্ধাচার প্রতিফলন হবে এবং সমাজে এর প্রতিক্রিয়া হবে। প্রধান অতিথি মন্ত্রীপরিষদের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম আরো বলেন, নিজেরা নিজেদের কাজকে বা পরিবারের সকলকে শুদ্ধাচার নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এতে নিজের পরিবারও শুদ্ধাচার বিষয়ে সচেতন হবে। উম্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বে সাথে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সমাজের নেতৃস্থানীয়দের মাধ্যমে শুদ্ধাচারের প্রচার ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে দূর্নীতি, অনিয়ম ও অনাচার দূর করে সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তৌফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজ¯^) সাইফুর রহমান খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল হক, সিভিল সার্জন ডাঃ কাজী শামিম আহম্মেদ, বিশিষ্টি ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক, আলহাজ্ব অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলি, গ্রীণ ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা আহমেদসহ জেলা বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিকর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *