Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ২৫ :

বৃদ্ধির আশংকা : নেই ডায়রিয়া স্যালাইন

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রবিবার ২৫জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। এসব রোগীদের ‘ডেঙ্গু কর্ণার’ এ আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সকলেই ঢাকা ফেরত এবং নির্মাণ শ্রমিক বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাস করাও একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ৫দিন ধরে ভর্তি রয়েছেন। এই রোগীর নাম আব্দুল কাদের। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুরে। সে আমিনুল হকের ছেলে। অন্যদিকে, জেলার একমাত্র আধুনিক হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য নেই কোন স্যালাইন। হাসপাতালে স্যালাইন না পেয়ে বাইরে থেকে কিনে রোগীদের দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরস্বজনরা। তবে স্যালাইন বরাদ্দ নেই, যা আছে, তাও অতি সামান্য বলে জানান সিলিভ সার্জন নিজেই। সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত সাধারণ বা দরিদ্র পরিবারের মানুষরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, খরচ করতে হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। হাসপাতালগুলোতে সেবা নিশ্চিত করার কথা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বললেও, বাস্তবে চিত্র উল্টো। রোগী নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটাছুটি করলেও সময়মত ডাক্তার না থাকায় রোগী ও রোগীর স্বজনদের হয়রানী ও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ অনেক রোগী ও রোগীর পরিবারের লোকজনের। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় গেলেও মিলছে না সঠিকভাবে চিকিৎসা। এভাবে অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়েই ছুটছেন ক্লিনিকে। আর ক্লিনিকে রোগী নিয়ে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অনেক বেশী বেশী টাকা। রোগীর পরিবারের ক্ষতি হলেও, এতে ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের অনেক বেশী উপকার হচ্ছে। এদিকে, সিভিল সার্জন অফিসের একজন কর্মকর্তা ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে। আগামীতে ডেঙ্গু রোগী আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করছেন ¯^াস্থ্য বিভাগ। ডেঙ্গু রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। এদিকে, রবিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতারের ডেঙ্গু কর্ণার পরিদর্শন ও রোগীদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মো. আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. আব্দুল কাদের (২১) জানান, বাসায় থাকা অবস্থায় ২৯ জুলাই আমার জ্বর হয় এবং পরেরদিনই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। পরীক্ষা করার পর গত শুক্রবার ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। খুবই খারাপ অবস্থায় ছিলাম, এখন একটু সুস্থ। পৌর এলাকার নতুনহাট এলাকার মো. বাসার (৩০) বলেন, চাকুরির পরীক্ষা দিতে রাজধানী ঢাকায় গেছিলাম। ৩ দিন থাকার পর অনেক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যায়। বাসায় ফিরে পরীক্ষা করার পর জানতে পারলাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছি। এখন অবস্থা একটু উন্নতির দিকে। প্রায় ১৫’শ টাকা খরচ হয়েছে পরীক্ষা করতে। শনিবার জেলা প্রশাসক মহোদয় পরিদর্শনে এসে পরীক্ষার ফি ফেরত দেয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু সেই টাকা কিভাবে ফেরত পাবো বুঝতে পারছিনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোসা. পাপিয়া খাতুন জানান, রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত কোন রোগী নতুনভাবে ভর্তি হয়নি। তবে কয়েকজনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তাপমাত্রা বেশি থাকায় রোগীদের মাথাব্যথা, পাতলা পায়খানা করছে। রবিবার বেশ কয়েকজন রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধূরী বলেন, বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি আছে ২৫ জন। ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীরা সকলেই ঢাকা ফেরত এবং সবাই নির্মাণ শ্রমিক। এসব শ্রমিকরা ঢাকা উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতো। জেলার সকল ডেঙ্গু রোগীকে এক স্থানে রাখার জন্য নতুন ভবনে আলাদাভাবে ডেঙ্গু কর্ণার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার ধারণা আগামী কোরবানী ঈদে সকলেই ঢাকা থেকে বাড়ি আসবে, এতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে জেলায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। আশংকাজনকও কেউ নেই। এদিকে, সিভিল সার্জন অফিসের ইপিআই সুপারভাইজার আমিরুল ইসলাম ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়, সেও ঢাকা গিয়ে ফেরত আসার পর আক্রান্ত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাতপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান সিভিল সার্জন। ডায়রিয়া স্যালাইন পাচ্ছে না রোগীরা প্রশ্নে সিভিল সার্জন বলেন, শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয়, সারাদেশেই সরকারী হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া স্যালাইনের চরম সংকট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারী হাসপাতালসহ জেলার সকল সরকারী ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ডায়রিয়া স্যালাইনের চরম সংকট চলছে। অনেক দেন দরবার করে মাত্র ২’শটি স্যালাইন জেলার জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১’শ স্যালাইন সদর হাসপাতালে এবং বাকি ১’শ স্যালাইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বার বার উর্ধ্বতন পর্যায়ে বলেও কোন ফল হচ্ছে না। চাহিদামত ডায়রিয়া স্যালাইন বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই না। ডায়রিয়া সাধারণতঃ দরিদ্র পরিবারের লোকজনদেরই বেশী হয়। কিন্তু, সরকারী বরাদ্দ না থাকলে, কিভাবে সাধারণ মানুষকে আমরা সরবরাহ করবো স্যালাইন এমন মন্তব্য করেন সিভিল সার্জন। তবে তিনি আবারও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *