Sharing is caring!

SAM_0256চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা \ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এর উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার বশির আহম্মদ পিপিএম, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আলাউদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আমিনুল৮ ইসলামসহ অন্যরা। কর্মশালায় তামাকজাত দব্য ব্যবহারের কুফল ও করনীয় বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হাফিজুর রহমান চৌধুরী। তামাক ব্যবহারের কুফলের বিষয় তুলে ধরেন স্বাস্থ্ ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের প্রোগ্রাম অফিসার আলমগীর সিকদার, এ্যাড. নজরুল ইসলাম প্রমুখ। কর্মশালায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু, সিনিয়র সহকারী সচিব (অবঃ) মাহতাব উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মমতাজ মহল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দিলরুবা বেগম, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সফিকুল আলম, জেলা তথ্য অফিসার ওয়হেদুজ্জামান (জুয়েল), সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অফিসার কামরুন্নাহারসহ শিক্ষক, ইমাম, সাংবাদিক, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগনসহ ৩০ জন অংশ নেয়। কর্মশালায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে সভা-সেমিনারের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং আইনের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাবলিক প্লেসে ধুমপান নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ১৮ বছরের কম বয়সের কোন ব্যক্তির কাছে সিগারেট বা তামাক জাতীয় দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না এবং এটি একটি দন্ডনীয় অপরাধ। যদি কোন ব্যবসায়ী আইন ভঙ্গ করে ব্যবসা SAM_0259চালায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে কর্মশালায়। মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মসজিদে মসজিদে সিগারেট, গুল, জর্দ্দা, আলাপাতা ইত্যাদী ব্যবহার না করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির কথাও বলা হয়। কর্মশালায় পুলিশ সুপার বশির আহম্মদ সরসারি পুলিশের কাছে জরিমানা বা ক্ষমতা দেয়া হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে ধুমপান নিয়ন্ত্রণে অনেকটায় সহজ হবে বলে মতামত প্রদান করেন। কর্মশালায় আরও বলা হয়, সিগারেটের চাইতে জর্দ্দা, গুল এবং আলাপাতা খেলে সরাসরি তামাক সেবনের ফলে শরীরের আরও মারাত্মক ক্ষতি করে। কর্মশালায় তামাক চাষে চাষীদের অনাগ্রহ সৃষ্টি করে তামাক চাষ কমিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়। এসব তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করার ফলে মানব দেহে যে রোগের সৃষ্টি হয়, তাতেও আবার মোটা অংকের অর্থ খরচ করতে হয়। তাই এসব ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, থানা, পাবলিক প্লেস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, স্কুল-কলেজসহ সরকারী-আধাসরকারী ও স্বয়ত্বশাসিত অফিসে ধুমপান বিরোধী প্রচারণা বোর্ড লাগিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *