Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী সংস্থার প্রতিনিধিদের

নিয়ে নাটাবের মতবিনিময়

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন নারী সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। “যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে” মঙ্গলবার দুপুরে শহরের কাঁঠাল বাগিচাস্থ শিশু শিক্ষা নিকতন মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা হয়। নাটাবের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মনিম উদ দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলহাজ্ব ডা. এম.এ মাতিন। নাটাবের সদস্য মো. আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় যক্ষ্মা রোগের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাসরিন সুলতানা। বক্তব্য রাখেন নারী সংগঠনের প্রতিনিধি মোস্তারী বেগম, শামসুন্নাহার বেগম, সালমা সুলতানা, সোনিয়া শীলসহ অন্যরা। যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার স্থানসহ বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, নাটাবের রাজশাহী জোনের মাঠ কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন নারী সংস্থার ৩০জন নারী অংশ নেয়। বক্তারা, যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধ করতে নারীদের বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সামাজিকভাবে সচেতনতার মাধ্যমে সঠিকভাবে ঔষধ সেবন করে য²া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মতামত ব্যক্ত করেন আলোচকগণ ও নাটাব নেতৃবৃন্দ। মতবিনিময় সভায় নাটাবের সাধারণ সম্পাদক ও আমার চ্যানেল আই দর্শক ফোরাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর সভাপতি ইকবাল মনোয়ার খান চান্না’র সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন হরিমোহন-গাবতলা মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মনিরুল ইসলাম। মতবিনিময়কালে বক্তারা বলেন, একটানা ৩ সপ্তাহের বেশী কাঁশি হলে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে হবে। হাঁচি ও কাঁশির মাধ্যমে যক্ষা রোগ সংক্রমন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়া মানুষদের আক্রান্ত করে ফেলে। সাধারণতঃ রোগ প্রতিরোধ কমে মানুষরা এই রোগে বেশী আক্রান্ত হয়। য²া রোগ দেখা দিলে নিয়মিত, পরিমিত ও ক্রমাগত এবং সঠিকভাবে ঔষধ সেবন করাতে হবে। সমাজ থেকে এই রোগ প্রতিরোধে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের সচেতনতায় পারে কঠিন রোগ য²া থেকে সমাজ তথা দেশকে রক্ষা করতে। বক্তারা আরও বলেন, মানুষের নখ ও চুল ছাড়া সব স্থানেই য²া রোগ হতে পারে। তাই সমস্যা হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিবি ক্লিনিকে আধুনিক মেশিনে মাত্র ১ ঘন্টায় যক্ষ্মা রোগ পরীক্ষা করা যায় এবং ফলাফল দেয়া হয়। কোন মানুষকে সন্দেহ হলেই টিবি ক্লিনিকে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে নেয়ার অনুরোধ জানান বক্তারা। বক্তারা আরও বলেন, ডটস্ এর মাধ্যমে সমাজের প্রতিনিধির তত্বাবধানে য²া রোগীকে সঠিকভাবে ঔষধ খাওয়ানো হচ্ছে। জেলার যক্ষèার চিকিৎসা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশের সকল জেলা সদর হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা টিবি ক্লিনিক, জেলা নাটাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা ব্র্যাক সেবা সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বক্ষব্যাধী ক্লিনিক ও বক্ষব্যাধী হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে। তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে, শরীরের ওজন ও ক্ষুধা কমে যাওয়া, সন্ধ্যায় বা রাতে জ্বর আসা, বুকে ব্যথা ও শাস কষ্ট হওয়া, কফের সাথে রক্ত যাওয়া, এসব লক্ষন দেখা দিলে তাৎক্ষনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে চিকিৎসা নেয়া জন্য যেতে হবে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার সেবা নিয়ে ঔষধ সেবন করলে য²া ভালো হয়। নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসা না নিলে পরিনতি ভয়াবহ যা এমডিআর রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলেও বক্তরা বলেন। নাটাব য²া রোগী শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে তোলার ¶েত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক কূসংস্কার, অজ্ঞতা, অবহেলা, অর্থনৈতিক সংকট ও তথ্যের অভাবে য²া রোগীরা চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে চান না, চিকিৎসা নিলেও নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং পূর্ণ সময় চিকিৎসাও গ্রহণ করেন না। নাটাব সরবারের ডটস্ কর্মসূচির অংশীদার হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ব্যাপারে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বছরে প্রায় ৮ শতাধিক যক্ষèা রোগীর পরীক্ষা করা হয়। এর আগেও জেলা নাটাবের উদ্যোগে ইমাম, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাংবাদিক, ক্রীড়া সংগঠক, এনজিও কর্মী, সুশীল সমাজ, পরিবহন শ্রমিক ও রিক্সাচালকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় য²া নিরোধ সমিতি (নাটাব) এর জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে। সেই থেকেই জনসচেতনার মাধ্যমে দেশব্যাপী যক্ষèা রোগ প্রতিরোধে কাজ করে আসছে নাটাব।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *