Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা টংপাড়ায় একটি লীজ নেয়া পুকুরের প্রায় ৩০ মন মাছ লুট এবং প্রায় ১০ মন মাছ নষ্ট করার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। স্থানীয় দূর্বৃত্তদের চাঁদা দাবী করা টাকা না দেয়ায় পুকুরের মাছ লুট ও ধ্বংস করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন সদর উপজেলার ঝিলিম মৌজার জে.এল নম্বর ৬৭ এর খতিয়ান নং-১৫৭, দাগ নং-৭২৬ ও ৭২৭ এর প্রায় ৩ একর পুকর লীজ নিয়ে মাছ চাষ করা চাষী মোঃ সাইদুর রহমান। ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষী সাইদুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বটতলাহাট শংকরবাটীর মোঃ ফজলুর রহমানের ছেলে। মামলায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দাবীকৃত ১ লক্ষ টাকা না দেয়ার পুকুরের মাছ লুট ও নষ্ট করা এবং মাছ ধরতে বাধা দেয়ায় তাঁর উপর হামলা এবং পুকুরের জোগানদারকে মারধরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর ভোররাত আনুমানিক ৪ টার দিকে স্থানীয় দূর্বৃত্তরা মাছ মেরে নিয়ে যাওয়ার সময় মাছ চাষী সাইদুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকীও দিয়ে যায়। এলাকায় মাছ চাষ করতে হলে তাঁদের দাবির চাদা দিয়েই ব্যবসা করতে হবে বলেও হুমকী দেয়া হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর ভোররাত আনুমানিক ৪ টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে অজ্ঞাত কারণে থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ, অবশেষে গত ২২ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ‘ক’ অঞ্চলে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মামলার বাদী সাইদুর রহমান। মামলা নং-সি.আর ৭০৭/১৭, তারিখ-২২-১০-২০১৭। মামলায় আসামী করা হয়েছে টংপাড়ার মৃত বাহার আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম, একই এলাকার মোঃ রফিকের ছেলে মোঃ রানা ও রহিম, আমনুরা কলেজপাড়ার খয়ের আলীর ছেলে মোঃ কালু ও মোঃ সাজু, নওগাঁর নিয়ামতপুরের বঙ্গপাল সরদার, শ্রী কাঞ্চন, শ্রী চন্দ্র, শ্রী চান সওদাগর, শ্রী আনু ঘোষ, শ্রী মানিক, শ্রী লখিন, শ্রী সচিন, শ্রী শ্যামলসহ মোট ২৮ জনকে। মামলা সুত্রে ও মামলার বাদী সাইদুর রহমান সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ তরিকুল ইসলাম (টি. ইসলাম) এর কাছ থেকে সদর উপজেলার ঝিলিম মৌজার জে.এল নম্বর ৬৭ এর খতিয়ান নং-১৫৭, দাগ নং-৭২৬ ও ৭২৭ এর প্রায় ৩ একর পুকর লীজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছি। কিন্তু কিছুদিন থেকেই টংপাড়ার স্থানীয় আনারুল ইসলাম, একই এলাকার মোঃ রানা, রহিম, আমনুরা কলেজপাড়ার মোঃ কালু ও মোঃ সাজু, নিয়ামতপুরের বঙ্গপাল সরদারের নেতৃত্বে স্থানীয় দূর্বৃত্তরা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। সেই চাঁদার টাকা না দেয়ায় গত ১৫ অক্টোবর ভোর রাত আনুমানিক ৪টার দিকে পুকুরের প্রায় ৩০ মন মাছ মেরে ভুটভুটিতে বোঝায় করে নিয়ে যায় এবং ১০মন মত মাছ নষ্ট করে চলে যায়। এসময় বাধা দিতে গেলে তাঁকে (সাইদুর) এলাপাথাড়ী মারধর করে এবং এক পর্যায়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এসময় সাইদুরের চিৎকারে পুকুরের পাহারাদার ও স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে দূর্বৃত্তরা মাছ বোঝায় ভুটভুটিতে পালিয়ে যায়। এঘটনায় আদালতে মামলায় বিষয়টির আইনগত ব্যবস্থা এবং পুকুরে মাছ চাষের নিরাপত্তা চেয়েছেন সাইদুর রহমান। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাবের রেজা আহমেদ জানান, থানায় কেউ মামলা করতে আসলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে মামলা এন্ট্রি করা হয়। টংপাড়া এলাকার জমি ও পুকুরের বিষয় নিয়ে আগেও বেশকিছু মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায়ও তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এঘটনা নিয়ে আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *