Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত ভোলাহাট উপজেলায় নারীঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন গুলিবিদ্ধ হবার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় স্থানীয় জনতার ইটের আঘাতে ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৮ জন আহত ও পুলিশের পিকআপ ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। সোমবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার ঝাউবোনা এলাকায়  ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক শিশির চক্রবর্তী বাদী হয়ে  রাতেই ৩৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো অন্তত-৫০ জনের বিরুদ্ধে ভোলাহাট থানায় সরকারি কাজে বাধাদান, গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এরপর পুলিশ সারারাত ও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করেছে। এদিকে এই ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে পারভীন বেগম নামের এক নারী বাদি হয়ে ভোলাহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপর একটি মামলা দায়ের করেছে। এলাকাবাসীর তথ্যমতে গুলিবিদ্ধরা হচ্ছে, ভোলাহাট উপজেলার ঝাউবোনা গ্রামের মুসলিমের ছেলে রবু (৪০), মাহালোর ছেলে সাইফুদ্দীন (৫৫), গাজির ছেলে হানিফ (৩০), ইনতাজের ছেলে আনোয়ার (৩২) এবং জনতার ইটের আঘাতে আহত পুলিশ সদস্যরা হলো উপ-পরিদর্শক শিশির চক্রবর্তী, কনেস্টবল ইফতেখার, মাহবুব ও মঈনুদ্দীন। ভোলাহাট থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মুসলমান অধ্যূষ্যিত ঝাউবোনা  গ্রামের সুকুমার শীলের ছেলে বিজয় শীল (৪০) রাতে একই  গ্রামের এক মুসলিম বড়িতে ঢুকে এক বিবাহিতা নারীর (৩০) শ্লীলতাহানীর চেষ্ট চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এব্যাপারে পরের দিন সোমবার রাতে সামাজিকভাবে তার বিচারের সময় ঠিক করা হয়। এদিকে বিচারের দাবিতে স্থানীয় কয়েকশ লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে রাত দশটার দিকে  বিজয়কে তার বাড়ীতে  ঘিরে ফেললে সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে জনতাকে থানায় অভিযোগ দায়েরের জন্য বলে ও  অভিযুক্ত বিজয়কে উদ্ধার ও আটক করে গাড়ীতে তুলে থানায় নেবার চেষ্টা করে। এতে স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে এবং ঘিরে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলিবর্ষন করে। এতে রাবার বুলেটের আঘাতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় স্থানীয় জনতার ইট-পাটকেলের আঘাতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং জনতা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাংচুর করে। পরে গুলিবিদ্ধ ও আহত পুলিশ সদস্যদের ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও গুলিবিদ্ধ চারজনকে রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে। ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মহসিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজয় সহ আটক ১২ জনকে মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। ঘটনার পূর্নাঙ্গ তদন্ত চলছে বলেও তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *