Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের লাহারপুর গ্রামের এক নারী নির্যাতিত হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হলে পুলিশ সুপারের মামলা গ্রহণের নির্দেশের পরও ওই নারী নির্যাতন মামলা করতে বাদীর খরচ হয়েছে ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ১০ হাজার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই রজব আলী ৫ হাজার, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নারী নির্যাতন সেলের কর্মকর্তা এস.আই ইসমোতারা ৫ হাজার এবং থানায় কম্পিউটার কম্পোজ করে দেয়ার জন্য ২ কনস্টেবল ১ হাজার টাকা। মামলার এজাহার ও সালিস সুত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের লাহারপুর (কল্যানপাড়া) গ্রামের আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল মান্নান (টুনু)’র মেয়ে মোসাঃ সোনিয়া বেগম (২২) এর বিয়ে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রæয়ারী একই উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের পূর্ব চুনাখালীর মোঃ শাজাহান আলী (এলিজ মিয়া)’র ছেলে ফয়সাল কবিরের। বিয়ের সময় কোন যৌতুক বা লেনেদেনের চুক্তি না করলেও বিয়ের কলমা হওয়ার পরই সোনিয়ার স্বামী ফয়সাল ও তার বাবা চাকুরীর নামে ১৫ লক্ষ টাকা দাবী করে। সোনিয়ার পিতা আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল মান্নান মেয়ের সুখের কথা ভেবে চাকুরীর জন্য দাবীর টাকার অর্ধেক টাকা ৮ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়েই রাজি হয় এবং চাকুরীর ইন্টারভিউ এর কার্ড ফয়সালের কাছে পৌছলে ফয়সালের বাবা শাজাহানকে ৮ লক্ষ টাকা দেয়। কিন্তু ফয়সালের চাকুরী শেষ পর্যন্ত না হলেও চাকুরীর জন্য নেয়া টাকা ফেরত না দিয়ে আরও ৭ লক্ষ টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে সোনিয়াকে ¯^ামী ফয়সাল ও তার পরিবারের লোকজন। পরে রাজশাহীতে একটি বাড়ি কিনে দেয়ার জন্য সোনিয়ার মাধ্যমে তার বাবাকে চাপ দিতে থাকে। পরবর্তীতে আবারও টাকা বা বাড়ি কোনটায় না দেয়ার সোনিয়ার উপর ফয়সাল ও তার পরিবার মানষিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নির্যাতন চালায় ফয়সাল কবির। কিছুদিন থেকে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সোনিয়া বাবার বাড়িতে অবস্থান নেয়। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে সোনিয়া সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নারী নির্যাতন সেল এ পালিয়ে দেয়া হয় থানা থেকে। নারী নির্যাতন সেলের পক্ষ থেকে উভয়পক্ষকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের জন্য গত ৫ নভেম্বর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অভ্যর্থনা কক্ষে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। নির্ধারিত তারিখে ছেলে ও মেয়ে পক্ষ গণ্যামন্য লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়। ৫ নভেম্বর বেলা ১১টায় সেখানে উভয়পক্ষের শুনানী হয়। শুনানীতে সোনিয়া সংসার করতে চাইলেও অর্থালোভী ফয়সাল সোনিয়াকে নিয়ে সংসার করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেয়। সালিশে টাকার চাপ দিয়ে মেয়ের পিতাকে বাধ্য করার বিষয়টি ফয়সালের বাড়িতে সেসময় উপস্থিত থাকা ¯^াক্ষীরাও সাক্ষ্য দেয়। সালিশে “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” এর সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সালিসের মূল বিষয়বস্তু নারী নির্যাতন সেলের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও ইসমোতারা ৫ নভেম্বর দুপুরে পুলিশ সুপারের কাছে উপস্থাপন করলে ফয়সালকে সদর থানা হাজতে আটক রেখে আবারও ছেলে পক্ষ সমাধানে এগিয়ে আসার শর্তে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দেন এবং সমাধান না হলে মামলা রেকর্ড করে ফয়সালকে আদালতে সোপর্দ করার নির্দেশ দেন। থানার ওসি সাবের রেজা আহমেদ নিজে ফয়সালকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ফয়সাল বা তার পরিবারের লোকজন কোন সমাধানে না আসায় বাধ্য হয়েই মামলা করতে যায় সোনিয়া। সেখানে মামলা রেকর্ড করতে প্রথমে অফিসার ইনচার্জ সাবের রেজা আহমেদকে দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। পরে ওসি মামলা রেকর্ডের নির্দেশ দিলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই রজব আলী নেয় ৫ হাজার টাকা। মামলার খরচ হিসেবে আরও টাকা দিতে হবে বলেও জানায় এস.আই রজব আলী। শেষে কম্পিউটারে মামলার এজাহার কম্পোজ করে দেয়ার জন্য ২ কনস্টেবলকে দিতে হয় ১ হাজার। এদিকে, অভিযোগের শুনানী ও অন্যান্য কাজ পরিচালনার জন্য পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নারী নির্যাতন সেলের কর্মকর্তা এস.আই ইসমোতারা নেয় ৫ হাজার টাকা। একটি নির্যাতিত পরিবারকে প্রতিকার নিতে গিয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশের পরও মামলা দায়ের করতে ২১ হাজার টাকা খরচ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সুধীজন ও স্থানীয়দের মাঝে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। মামলা দায়ের করতে মোটা অংকের এই অর্থ খরচের বিষয়টি বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোনিয়ার পরিবার বললেন ঘটনার বিবরণ। প্রথমে সোনিয়ার ¯^ামীর কাছে নির্যাতন আবারও পুলিশের কাছেও আর্থিকভাবে নির্যাতন। কিন্তু কোন উপায় না দেখেই মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হয়েছে বলেও জানায় সোনিয়ার পরিবার। এবিষয়ে নারী নির্যাতন সেলের কর্মকর্তা এস.আই ইসমোতারা জানান, আমাদের সেলের মাধ্যমে নোটিশ, সালিশ ও মামলার সবকিছু প্রস্তুত করে আসামী ধরে থানায় দেয়ার পরও টাকা খরচ হওয়ার কোন প্রশ্নই উঠেনা। যদি বাদী টাকা খরচ করতে বাধ্য হয়ে থাকে তাহলে এটা অবশ্যই অমানবিক এবং কষ্টের। আমরা দাবীর পিতার কাছ থেকে কোন বকশিসও নিতে চাইনি। বাদীর পিতা আমাদের সামান্য কিছু বকশিস দিয়েছেন। এব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাবের রেজা আহমেদ জানান, মামলা রেকর্ড করতে টাকা নেয়ার কথা নয়, যদি এধরণের কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ সুপারের নির্দেশের পরও এমন ঘটনার বিষয়টির কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *