Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পূন্যার্থীদের মহানন্দা স্নান

♦ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 

‘মহানন্দা স্নান’ উৎসব হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সদর উপজেলার গোহালবাড়ী ঘাটে উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘের আয়োজনে বৃহস্পতিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘মহানন্দা স্নান’ উৎসব হয়। উৎসবে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ হিন্দু স¤প্রদায়ের নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার পর হয় পূণ্যস্নান। গোহালবাড়ীতে উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘের নতুন শাখা বংশীবট শ্রীশ্রীরাধামাধব মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়। উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘের সভাপতি শ্রযিুক্ত মহন্ত হালদার এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শঙ্কর কুমার কুন্ড, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়রের প্রাক্তন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আমানুল হক, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মাযহারুল ইসলাম তরু, বালিয়াডাঙ্গা ইউপি’র ইউপি সদস্য রাজিব আহমেদ, সিপিবি নেতা ও সমাজ সেবক ইসরাইল সেন্টুসহ অন্যরা। উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল শ্যামকিশোর দাস গো¯স্বামী মহারাজজী জানান, জেলা শহরের হুজরাপুর এলাকায় উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘের আয়োজনে ‘মহানন্দা-নবমী’ তিথিতে মহানন্দা স্নান বিগত ২৫ বছর ধরে মহানন্দা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্থান সঙ্কুলান ও পরিবেশের কারণে এ বছর গোহালবাড়ী এলাকায় স্নানে বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ এখানে সমাবেত হন এবং তা প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, এ উপলক্ষে দিনব্যাপী মেলায় প্রসাধনী, হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন উপকরণ, মিষ্টি ও খাবারের দোকান এবং পূজা ও পালাক্রমে কীর্ত্তনের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, হিন্দু ধর্মালম্বীরা পাপমোচন ও পূর্ণ লাভের আশায় সপ্তমীর পর নবমী তিথিতে গঙ্গাস্নানে আসেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণ হতে নির্গত ‘শ্রীশ্রীগঙ্গামাতা’ কলিকালে পুত-পবিত্রতার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন ধরায়। সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল শ্রেণীর মানুষ গঙ্গস্নানের তৎপর গুরুত্ব রক্ষায়। পতিতপাবনী শ্রীশ্রীগঙ্গা অনেক অনেক নাম ধরে জন-সমাজে পরিচিতা। কোথাও স্থান অনুসারে, কোথাও বা নদীর নামে প্রবাহিতা। সেই সূত্রে মহানন্দা নদীও ‘মহানন্দা স্নান’ মহিমায় মহিমাšি^তা। আর সেই থেকে এখানে প্রতিবছর এই দিনে মহানন্দা স্নান হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ প্রতি বছর এখানে এসে স্নান করে পূণ্যার্জন করে থাকেন। তর্তিপুরের পর এটি আরেকটি র্তীর্থস্থান হওয়ায় রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া ও সুদূর রাজবাড়ীসহ অন্যান্য জেলা থেকে এখানে পুণ্যার্থীদের সমাগম ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *