Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৪টি পৌরসভায় পৌর নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী আওয়ামীলীগে বাছায় এ তৃণমূলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার শিবগঞ্জ, রহনপুর ও নাচোল পৌরসভায় তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি দলীয় ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী বাছায় কার্যক্রম সম্পন্ন করে আওয়ামী দলীয় পৌর মেয়র প্রার্থী মনোনীত করা হয়। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে একটি মহল তৃণমূলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ৪ পৌরসভার মেয়র পদে একাধিক আওয়ামীলীগ প্রার্থী মনোনয়ন চেয়েছেন। এতে দলের মধ্যে গণত্রান্ত্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে রহনপুর, শিবগঞ্জ ও নাচোল পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবমূল্যায়ন করে দলের দুঃসময়ে রাজপথে না থাকা একাধিক সুবিধাবাদী নেতা মেয়র পদে মনোনয়ন চেয়ে দৌড়ঝাঁপ করায় দলের মধ্যেই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রার্থী চুড়ান্ত করতে শনিবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মনোনয়ন চুড়ান্ত করতে জেলা আওয়ামীলীগ এক সভার আয়োজন করে। সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মঈনুদ্দিন মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক সাংসদ আব্দুল ওদুদ এমপিসহ জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমান ও ব্যবসায়ী সামিউল হক লিটন মনোনয়ন চেয়েছেন। এছাড়া শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারিবুল হক রাজিন এবং সুবিধাবাদী আওয়ামীলীগ নেতা ময়েন খান মনোনয়ন চেয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ে পৌর কমিটি, উপজেলা কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটির সমš^য়ে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের মতামতের ভিত্তিতে ইতিপূর্বে কানসাটস্থ শেখ রাশেল মিলনায়তনে এক সভায় মেয়র প্রার্থী হিসেবে পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারিবুল হক রাজিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। রহনপুর পৌরসভার ক্ষেত্রেও একইভাবে তৃণমুলদের মতামতের ভিত্তিতে বর্তমান রহনপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী বিশ্বাসের নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়। কিন্তু সভায় প্রার্থী হওয়ার জন্য অপর আওয়ামীলীগ নেতা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ মুক্তি মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে নাচোল পৌরসভায় তৃণমূলের কর্মীদের ভোটের মাধ্যমে আনোয়ারুল ইসলাম ঝাইটনকে চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ভোটে পরাজিত হলেও বর্তমানে রয়েল বিশ্বাস নামে এক যুবনেতা মনোনয়ন চেয়েছেন। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আওয়ামীলীগ নেতা জানান, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে দলের পরীক্ষিত নেতাদের দলীয় মনোনয়ন প্রদানের সিদ্ধান্ত হলেও কতিপয় সুবিধাবাদী নেতা দলের মধ্যে অসন্তোশ পুষে রাখার ষড়যন্ত্র করেই পৌরসভাগুলোতে একাধিক প্রার্থী দিয়েছেন। একাধিক প্রার্থী হওয়ায় ওই সভায় কোন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ধারণা, একাধিক প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়ে তারা কেন্দ্রেই তদবির করে নিজেদের প্রার্থীকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টা করবেন। ফলে তৃণমূলের সিদ্ধান্ত অবমূল্যায়ন হতে পারে। পৌর নির্বাচনে দলীয়ভাবে একাধিক মনোনয়ন প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ আসনের  আসনের সংসদ সদস্য ও শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহা. গোলাম রাব্বানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিবগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮জনের মধ্যে ১৭জনের সম্মতি ছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত এবং পৌরসভার মধ্যের দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সমর্থনের ভিত্তিতে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রসাীদের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হাত-পায়ের রগকাটার শিকার হয়ে দলের জন্য এক পা হারানো, দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ আওয়ামী কর্মী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারিবুল হক রাজিনের নাম ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রাজিন গত পৌর নির্বাচনে অল্প ভোটে বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে সব সময় মাঠে থেকেছেন। তাছাড়া তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠেই ছিলেন না, আত্মগোপন করে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, সুবিধাবাদী এমন একজন হঠাৎ করেই মনোনয়ন চাওয়ায় শিবগঞ্জ তৃণমূল আওয়ামীলীগে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই অভিযোগের কথা, গোমস্তাপুর-নাচোল-ভোলাহাট আসনের সংসদ সদস্য মোহা. গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস এর। তিনি জানান, তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে বর্তমান রহনপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী বিশ্বাসের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ অপর প্রার্থী দাঁড় করিয়ে আওয়ামীলীগের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এবিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলে, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।  তবে, সকলে মিলেমিশে, একসাথে সকল পরিস্থিতি বুঝে দলের দুঃসময়ের সাথী, ত্যাগী নেতাদের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মনোয়ন দিয়ে দলের মধ্যে গণতন্ত্রের ধারা বজায় রাখতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মতের মূল্য দেবেন দলের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ বলে আশাবাদ অনেকের।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *