Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবীণ হিতৈষীদের

নিয়ে নাটাবের মতবিনিময়

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবীণ হিতৈষী ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় য²া নিরোধ সমিতি (নাটাব) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। “যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে” বৃহস্পাতবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা হয়। ‘নেতৃত্ব চাই যক্ষèা নির্মূলে, ইতিহাস গড়ি সবাই মিলে’ শ্লোগানে নাটাবের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মনিম উদ দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম.এ মাতিন। নাটাবের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মনোয়ার খান চান্নার সঞ্চালনায় সভায় য²া রোগের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাসরিন সুলতানা। বক্তব্য রাখেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হাসান, সদস্য আলহাজ্ব এ্যাড. শাজাহান আলী, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. লুৎফর রহমান। উপস্থিত ছিলেন নাটাবের রাজশাহী বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন নাটাব জেলা শাখার নির্বাহী সদস্য মো. আনিসুর রহমান। মতবিনিময় সভায় প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের ৩০জন নারী-পুুরুষ অংশ নেয়। এর মধ্যে ২১জন পুরুষ ও ৯জন মহিলা বক্তারা, য²া রোগ প্রতিরোধ করতে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সামাজিকভাবে সচেতনতার মাধ্যমে সঠিকভাবে ঔষধ সেবন করে য²া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মতামত ব্যক্ত করেন আলোচকগণ ও নাটাব নেতৃবৃন্দ। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মতবিনিময় করার পরামর্শ দেয়া হয় সভায়। বক্তারা বলেন, একটানা ৩ সপ্তাহের বেশী কাঁশি হলে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে হবে। হাঁচি কাঁশির মাধ্যমে য²া রোগ সংক্রমন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়া মানুষদের আক্রান্ত করে ফেলে। সাধারণতঃ ষাটোর্ধ্ব মানুষরা এবং দরিদ্র নারী-পুরুষরা এই রোগে বেশী আক্রান্ত হয়। য²া রোগ দেখা দিলে সঠিকভাবে ঔষধ সেবন করাতে হবে। সমাজ থেকে এই রোগ প্রতিরোধে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতনতায় পারে কঠিন রোগ য²া থেকে সমাজ তথা দেশকে র¶া করতে। একটি মানুষের নখ ও চুল ছাড়া সব স্থানেই যক্ষèা রোগ হতে পারে। তাই সমস্যা হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সমাজ থকে কু-সংস্কার দূর করে সচেতনতার মাধ্যমেই এই যক্ষèা রোগ প্রতিরোধ করতে হবে আমাদেরকেই। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিবি ক্লিনিকে আধুনিক মেশিনে মাত্র ১ ঘন্টায় যক্ষèা রোগ পরীক্ষা করা যায় এবং সঠিকভাবেই ফলাফল দেয়া হয়। কোন মানুষকে সন্দেহ হলেই টিবি ক্লিনিকে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে নেয়ার অনুরোধ জানান। বক্তারা আরও বলেন, আমরা অসচেতনতার কারণেই পিছিয়ে যাচ্ছি। ডটস্ এর মাধ্যমে সমাজের প্রতিনিধির তত্বাবধানে যক্ষèা রোগীকে সঠিকভাবে ঔষধ খাওয়ানো হচ্ছে। জেলার যেসব স্থানে যক্ষার চিকিৎসা পাওয়া যায়, সভায় সেগুলো তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, জেলা সিভিল সার্জন অফিস, জেলা টিবি ক্লিনিক, জেলা নাটাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা ব্র্যাক সেবা সেন্টার, জেলা সদর হাসপাতাল। তিন সপ্তাহের বেশি কাশি য²ার প্রধান লক্ষন, শরীরের ওজন ও ক্ষুধা কমে যাওয়া, সন্ধ্যায় বা রাতে জ্বর আসা, বুকে ব্যথা ও শাস কষ্ট হওয়া, কফের সাথে রক্ত যাওয়া। এসব লক্ষন দেখা দিলে তাৎক্ষনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়া জন্য যেতে হবে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার সেবা নিয়ে ঔষধ সেবন করলে যক্ষ্মা ভালো হয়। বক্তরা আরো বলেন, যক্ষ্মা একটি সংক্রমণজনিত রোগ। তিন সপ্তাহের বেশী কাশি থাকলে কফ পরীক্ষাকরতে হবে। কফ পরীক্ষায় রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। যক্ষ্মারোগীর হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় রুমাল ব্যবজার করতে হবে। নিয়মিত, ক্রমাগত, সঠিক মাত্রায় ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঔষধ সেবনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভাল হয়। সকল য²া আক্রান্ত রোগীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, য²ারোগের এসব লক্ষন দেখা দিলেই সকল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নির্দিষ্ট এনজিও ক্লিনিক, বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা ও যক্ষ্মা চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। সেখানে চিকিৎসার জন্য যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগের চিকিৎসা নিতে বলেন বক্তরা। এছাড়া নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসা না নিলে পরিনতি ভয়াবহ যা এমডিআর রোগীর সংখ্যা বাড়াবে বলেও বক্তরা বলেন। নাটাব য²া রোগী শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক কূসংস্কার, অজ্ঞতা, অবহেলা, অর্থনৈতিক সংকট ও তথ্যের অভাবে য²া রোগীরা চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে চান না, চিকিৎসা নিলেও নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং পূর্ণ সময় চিকিৎসাও গ্রহণ করেন না। নাটাব সরবারের ডটস্ কর্মসূচির অংশীদার হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা সম্পর্কে সজেতন করে তোলার ব্যাপারে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। দেশে সরকারের লক্ষ্য ডটস্ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০১৫ সালে য²া রোগীর সংখ্যা ও য²ায় মৃত্যুর হার ২০০০ সালের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বছরে প্রতিলাখে নতুনভাবে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয় ২,২২৫জন। প্রতি বছর যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ। এর আগেও জেলা নাটাবের উদ্যোগে ইমাম, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাংবাদিক, ক্রীড়া সংগঠক, এনজিও কর্মী, সুশীল সমাজ, পরিবহন শ্রমিক ও রিক্সাচালকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় য²া নিরোধ সমিতি (নাটাব) এর জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে। সেই থেকেই জনসচেতনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠনটি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *