Sharing is caring!

পুলিশ সুপারের নির্দেশনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপুল সম্পত্তি জালিয়াতের

হোতা এ্যাড. রহিম গ্রেফতার

♦ স্টাফ রিপোর্টার

মৃত দেওয়ান নাইমুল হকের ছেলে মো. দেওয়ান রফিকুল হাসান এবং মো. দেওয়ান রফিকুল হাসানের ছেলে মো. দেওয়ান নাভেদ হাসানের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিমতলা এলাকার কয়েককোটি টাকার সম্পত্তিসহ জেলার বিভিন্নস্থানের বিপুল পরিমান সম্পত্তি জালিয়াতির মূল হোতা এ্যাড. আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম’র নির্দেশে গত ৪ আগষ্ট জেলা পুলিশের একটি দল ঝটিকা অভিযান চালিয়ে জেলার এই কুখ্যাত জমি জালিয়াতকে গ্রেফতার করে। জালিয়াতির মূল হোতা এ্যাড. আব্দুর রহিমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শাহিবাগস্থ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর অপর সহযোগি রুবেল থাই’র মালিক মো. আব্বাস উদ্দীন রুবেলসহ অন্যান্য সহযোগিতরা পলাতক রয়েছে। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিমতলা এলাকার মো. দেওয়ান রফিকুল হাসান এবং মো. দেওয়ান নাভেদ হাসানের কয়েককোটি টাকার সম্পত্তিসহ বিভিন্ন স্থানের বিপুল পরিমান সম্পদ জালিয়াতি করে একটি জালিয়াতি গ্রæপ। মো. দেওয়ান রফিকুল হাসান এবং মো. দেওয়ান নাভেদ হাসানের নিজ¯^ সম্পত্তি জালিয়াতি করে দখল এবং বিক্রি করে সেখান থেকে কয়েককোটি হাতিয়ে নেয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছিলো ওই মহলটি। এঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর-সিআর-৫৬৪/১৯-নবাব, তারিখ-১৮-০৬-২০১৯। মামলা গ্রহণ করে আদালত এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানাকে। প্রেক্ষিতে সদর মডেল থানা এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা আদালতে প্রেরন করেন। থানার মামলা নম্বর-০৪/৪০৬, ২০-০৬-২০১৯। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিমতলা মোড়স্থ কয়েককোটি টাকার সম্পত্তিটি বর্তমানে ঢাকায় বসবাসরত মৃত দেওয়ান নাইমুল হকের ছেলে মো. দেওয়ান রফিকুল হাসান এবং মো. দেওয়ান রফিকুল হাসানের ছেলে মো. দেওয়ান নাভেদ হাসানের। এই সম্পত্তির উপর রয়েছে বাড়িঘর, দোকানপাট ও গাছপালা। জেলার বাইরে থাকায় সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য দায়িত্ব পালনকালে ষড়যন্ত্র করে এই সম্পত্তি জালিয়াতির সাথে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বটতলাহাট শাহীবাগ মহল্লার ডা. আজহারুল হকের ছেলে মো. রেজাউল আহসান (এ্যাড. আব্দুর রহিম)কে। জালিয়াতি করে গত ০৬/০৫/২০১৯ একটি আমমোক্তানামা ৫৬৭৫/১৯ নম্বর দলিল করেছেন শহরের মো. আব্বাস উদ্দীন রুবেলের নামে। বিষয়টি জানাজানি হলে লিগ্যাল নোটিশ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন জমির মালিক মো. দেওয়ান রফিকুল হাসান। বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও শিবগঞ্জ থানাতেও ৪.১১ একর (আম বাগান) সম্পত্তি জালিয়াতির একটি মামলা করেন সম্পত্তির মালিক মো. দেওয়ান রফিকুল হাসান ও মো. দেওয়ান নাভেদ হাসান। এই মামলার সি/আর-নম্বর-৪০৮/২০১৯ (শিব) তারিখ-২৭/০৭/২০১৯ এবং জিআর নম্বর-৪২৮/১৯(শিব)। তারিখ-১০-০৯-২০১৯। এই সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় আসামী করা হয়, সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর পালশা গ্রামের বাহার আলীর ছেলে মো. আব্বাস উদ্দীন রুবেল (৩৮), শহরের বটতলা হাটের শাহিবাগ মহল্লার ডা. আজহারুল হকের ছেলে রেজাউল আহসান (আইনজীবী আব্দুর রহিম) (৫৯), শহরের হুজরাপুর এলাকার মো. শরিফুল ইসলামের ছেলে মো. আব্দুল খালেক, একই এলাকার মো. মনিরুল ইসলামের ছেলে মো. মানিক, একই মহল্লার মৃত হাকিম আলীর ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম, দলিল লেখক মো. মিনহাজুল ইসলাম (লাইসেন্স নম্বর-২৩৪)। লিগ্যাল নোটিশ, মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মৃত দেওয়ান নাইমুল হকের ছেলে মো. দেওয়ান রফিকুল হাসান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকায় নিজ সম্পত্তি দূর সম্পর্কের আত্বীয় মো. রেজাউল আহসান (এ্যাড. আব্দুর রহিম), পিতা-ডা. আজহারুল হক, সাং-শাহীবাগ, পো: বটতলাহাট, থানা ও জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ওই সম্পত্তিসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকা আরও অন্যান্য সম্পত্তির দেখাশুনা, রক্ষনাবেক্ষনসহ যাবতীয় দায়-দায়িত্ব প্রদান করেন। কিন্তু মো. রেজাউল আহসান (আব্দুর রহিম) ষড়যন্ত্র করে জমির মালিকের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে জ্বাল ভূয়া কাগজ তৈরী করে কিছু সম্পত্তি বিভিন্নভাবে বিক্রি করে দেয়। এখানেই ক্ষান্ত না হয়ে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের খতিয়ান নম্বর-আর/এস-২৪০, হাল দাগ নম্বর-১২২৭, জমির পরিমান.২৯৯১ একর। প্রস্তাবিত খতিয়ান নম্বর ২৩৪৬ ও ৩৮২৫ এর সম্পুর্ণ সম্পত্তি মো. রেজাউল আহসান (এ্যাড. আব্দুর রহিম) ষড়যন্ত্র যোগসাজস করে আমমোক্তারনামা দলিলও করে ফেলে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর পালশা গ্রামের বাহার আলীর ছেলে মো. আব্বাস উদ্দীন রুবেল (৩৮) এর নামে। বিষয়টি জানতে পেরে জমির মালিক রেজাউল আহসান (এ্যাড. আব্দুর রহিম)কে জমি দেখাশোনার সকল দায় দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে দেন। এব্যাপারে মো. দেওয়ান রফিকুল হাসানের আইনজীবী জেলার বিশিষ্ট ও প্রবীন আইনজীবী মো. সোলাইমান বিশু জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি জাতিয়াত চক্র মো. দেওয়ান রফিকুল হাসান এবং মো. দেওয়ান নাভেদ হাসানের বিপুল পরিমান সম্পত্তি¡ জালিয়াতি করে বিক্রি করার চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। এই মামলায় জালিয়াতির মূল হোতা রেজাউল আহসান (এ্যাড. আব্দুর রহিম)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে রেজাউল আহসান (এ্যাড. আব্দুর রহিম) জেল-হাজতে রয়েছেন। জালিয়াতির সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এঘটনায় এলাকার মানুষ অনেকটায় হতবাক। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটিসহ অন্যান্য সম্পত্তি দেখাশোনার সুযোগ নিয়ে জালিয়াতি করে মালিকের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করায় এই জালিয়াত চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *