Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জেলা ও উপজেলা শ্রেষ্ঠদের সম্মাননা ও সনদ প্রদান করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে। শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডাঃ কাজী শামীম হোসেন, ডাঃ ময়েজ উদ্দিন, চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসিসহ অন্যরা। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, জনসংখ্যা বিষ্ফোরণের কারণে সরকারের পক্ষে সঠিক এবং সফলভাবে সকল সেবা দেয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা অনেক হলেও দক্ষ জনশক্তির অভাবে বিদেশের শ্রমের সঠিক মুল্যায়ন হচ্ছেনা। দেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে হবে এবং দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশে সরকারীভাবে সন্তান ডেলিভারী হয় ৪২%। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হয় ৯০%। তারা এই ডেলিভারীর হারটি ৯৮% এ নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচেছ। তিনি বলেন, নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও শিক্ষায় বর্তমানে বাংলাদেশ এগিয়ে। তারপরও কাক্সিখত জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ হচ্ছেনা। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গড় আয়ু ৭২.১০ বছর। এর মধ্যে পুরুষের বয়স ৭১ বছর এবং নারীদের বয়স ৭৪ বছর। এভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার থাকলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২০ কোটি ২২ লক্ষ ৯ হাজার প্রায়। জরায়ু ক্যান্সার, নিরাপদ প্রজনন এবং নিরাপদ সন্তান জন্মদান ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ, জেলায় বাল্যবিবাহ বন্ধ, মানব পাচারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এসব নিয়ন্ত্রণে সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের সচেতন হতে হবে। দেশের মানুষ অনেকটায় সচেতন হয়েছে। নারীরা শিক্ষিত ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে সমাজের মানুষ আরও সচেতন হবে এবং সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে আরও সফলভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ, মাতৃমৃত্যুহার কমানো ও জনসংখ্যা বিষ্ফোরণ রোধ সম্ভব হবে। সভায় এবছর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ উপজেলা, ইউনিয়ন, পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা, পরিবার কল্যান সহকারী ও শ্রেষ্ঠ বেসরকারী ক্লিনিককে সম্মাননা পদক ও সনদ তুলে দেয়া হয়। এসময় জেলা ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *