Sharing is caring!

জেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রসব সেবা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে

র‌্যালী ও আলোচনা

♦ স্টাফ রিপোর্টার

“জনসংখ্যা ও উন্নয়নে আর্ন্তজাতিক সম্মেলনের ২৫ বছর, প্রতিশ্রæতির দ্রুত বাস্তবায়ন” শ্লেøাগানে বিভিন্ন আয়ে মধ্য দিয়ে বিশ্ব জনগসংখ্যা দিবস পালিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালী শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়। জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। সভায় সভাপতিত্ব করেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুস সালাম। সভায় বক্তব্য রাখেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রওশন আরা বেগম, জেলার বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দৈনিক চাঁপাই দর্পনের উপদেষ্টা ডা. ময়েজ উদ্দীন, ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি, বারোঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়েরসহ অন্যরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাজকির-উজ-জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন, শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, গার্ল গাইড নেতা ও সনাক সদস্য গৌরি চন্দ্র সেতু, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ও শিক্ষার্থীরা। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে প্রায় ১৭ কোটি। শুনতে একটু অবাক লাগলেও এটিই বাস্তবতা। বর্তমান সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও শিক্ষার হার বৃদ্ধির কারনে আগামী দিনে জনসংখ্যা আর বাড়বে না, তা এখন কমবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে, যেমন জাপানে প্রতিবছর জনসংখ্যা কমে। এটি সম্ভব হবে আমাদের দেশের সঠিক পরিকল্পনার জন্য, কারন এতে দেশের মানুষ আরও বেশি সচেতন ও উচ্চ শিক্ষত হচ্ছে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সোনার বাংলা গড়তে এখনকার শিক্ষার্থীদেরকেই ভূমিকা রাখতে হবে। তাই তাদেরকে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। তাদেরকে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই, আগামী দিনে বাংলাদেশ সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাতে ২০২১ সালের আগেই দেশের ব্যাপক পারবর্তন হবে। সে লক্ষ্য পূরনেই কাজ করছেন সকল সরকারি কর্মকর্তা। ২০৩০ সালের মধ্যে এদেশে কোন ছেলেমেয়ে এস.এস.সি পাস ছাড়া থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। সে লক্ষ্যে সারাদেশে ২ হাজার ৮’শ ৫৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সপ্তাহের ৭দিনেই ২৪ ঘন্টা স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তাই কেউ অসুস্থ হলে বা সন্তান প্রসব করার সময় উপজেলা বা জেলা সদরে আসবেন না। স্থানীয়ভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে সেবা পেতে ব্যর্থ হলেই আসবেন। কারন উপজেলা বা জেলা সদরে সবাই আসলে সংশ্লিষ্টরা সেবা দিতে পারেন না। এমনকি স্থানীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারীতা থাকে না। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুস সালাম বলেন, সারাবিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে ১৯৯৪ সালের ৫-১৩ সেপ্টেম্বর মিশরের কায়রোতে পৃথিবীর প্রায় সবগুলো দেশ মিলে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেয়। সেই সময় পযর্ন্ত সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় কোন বৈশ্বিক সম্মেলন। সেই সম্মেলনে পরিবার পরিকল্পনা, নিরাপদ মাতৃত্ব ও প্রসবসেবা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিধান্ত গ্রহণ করা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে সরকার দেশে স্যাটেলাইট ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, মা শিশু কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতালে বিভিন্ন সেবা প্রদান করছে। তিনি জানান, সারদেশের তুলনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়ের হার অনেক বেশি, এখানে ৬৬ শতাংশ বাল্যবিয়ে হয়, এর মধ্যে ৩০ শতাংশের প্রথম বাচ্চা হয় অল্প ও অপ্রাপ্ত বয়সে। তবে জেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণে পুরষদের অংশগ্রহণ অনেক কম বলেও জানান তিনি। শেষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উৎযাপন উপলক্ষে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *