Sharing is caring!


স্টাফ রিপোর্টার (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) \ “প্রাণের স্পন্দনে, প্রকৃতির বন্ধন” এ শ্লোগানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তৌফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান। আলোচনা সভায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন বক্তারা। সভায় মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আই’র জেলা প্রতিনিধি ও “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” এর প্রকাশক ও সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ‘চাঁপাই দৃষ্টি’র প্রকাশক ও সম্পাদক এমরান ফারুক মাসুম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু, সাপ্তাহিক ‘সীমান্তের কাগজ’ এর সম্পাদক জাফরুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, জেলা পরিবার ও পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ আব্দুস সালাম, বরেন্দ্র দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ, ‘বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস ও রেডিও মহানন্দার নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন, মোহিত কুমার দাঁ, আঞ্চলিক উদ্যোনত্তত্ব গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. আশরাফুল আলম, সিয়াম শিক্ষা ও ¯^াস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা আব্দুস সালামসহ অন্যরা। সভায় বক্তারা বলেন, আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ইটভাটার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি আম ফলের চরম ক্ষতিও হচ্ছে। যা এই জেলা আম চাষি, ব্যবসায়ীরা প্রতিকার চান। এই ইটভাটাগুলো বন্ধ করা উচিৎ অথবা আম বাগান এলাকা থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে ফাঁকা এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা উচিৎ। এছাড়া বক্তারা বলেন, হাসপাতাল, বাড়ি, মাছ বাজার, মাংস বাজার, রাস্তা ফুটপাতে হোটেলে ব্যবহৃত বর্জ শহরে ড্রেন-রাস্তা-ঘাটে যত্র-ছত্র ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এসব থেকে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া রাস্তা-ঘাটে বেওয়ারিশ কুকুর ড্রেনে থাকা পানি খায়, সেই ড্রেনে পাশ দিয়ে পৌর পানি ব্যবস্থার পাইপ লাইনের পানি দূষণও হয়। সে বিষয়ে সচেতন হওয়ার দরকার। আমাদের পরিবেশ রক্ষার্থে আলাদাভাবে পশু-পাখিদের পানি খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এছাড়া এবছর বজ্রপাতে মানুষ মারা গেছে বেশি। আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য কম হওয়ায় বজ্রপাত বেশি হচ্ছে। আমাদের বজ্রপাতের মোকাবেলা করতে জেলা বিভিন্ন এলাকাতে তাল গাছ, খেঁজুর গাছ ও সোজনে গাছ লাগাতে হবে। এতে পরিবেশে ভারসাম্য অনেকটা রক্ষা পাবে। বক্তারা আরো বলেন, ডিজিটাল যুগে প্রতিমূহুর্ত আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছি। কিন্তু এই মোবাইল ফোনের টাওয়ার পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকি। কারণ, বজ্রপাত হলে তা নিচের দিকে নামিয়ে আনতে সাহায্য করে মোবাইল টাওয়ারগুলো। এই টাওয়ারগুলোতে ম্যাগনেট সার্চ থাকায় বজ্রপাতকে উপর থেকে টেনে নিচে নামাতে পারে। এছাড়া অটো রাইস মিলের ব্যবহৃত ধোঁয়া পরিবেশের ক্ষতি করছে। সে বিষয়েও আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। সভায় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্যের কারণে আমরা সম্প্রতি মোরা নামক ঘুর্ণি ঝড়ের হাত থেকে অনেকটা রক্ষা পেয়েছি। বড় ধরণের তেমন ক্ষতি হয়নি। পরিবেশ রক্ষার্থে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন হতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রের সেবা বা পৌর সেবা পেতে হলে আগে রাষ্ট্র ট্যাক্স বা পৌর ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে। তাহলেই আমরা সে সব সেবা পাবো। কেউ যদি মনে করেন, ট্যাক্স দিবেন না, তাহলে সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াটা ¯^াভাবিক। আপনাদের ট্যাক্সের টাকাতে রাষ্ট্র বা পৌরসভার উন্নয়নে কাজ চলে। ফলে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিবেশ রক্ষা পেয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, আমাদের পরিবেশ রক্ষার্থে জেলা প্রতিটি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তথা আমাদের ছেলে-মেয়েদের সাথে আলোচনা করতে হবে পরিবেশ কিভাবে রক্ষা করা যায়, সেসব বিষয়ে। হতে পারে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার প্রাচির সংলগ্ন বৃক্ষরোপন করা। এছাড়া বাড়ির আশপাশে নিম ও সোজনে গাছ লাগা। নিম ও সোজনে গাছ লাগালে কি উপকার সে বিষয়ে জ্ঞান দেয়া। প্রধান অতিথি বলেন, এবছর বজ্রপাতে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। বজ্রপাতের মোকাবেলার জন্য তাল গাছ একটি গুরুত্বপূর্ণ। জেলায় গত বছর বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ২৫ হাজার তাল বীজ রোপন করেছে এবং এবারও রোপন করবে বলে আশা করছি। আলোচনা সভায় অনেক শিল্পালয় পরিবেশ দূষণ করার বিষয় উঠেছে, তা আমরা সে সব বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা করছি। কিভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বৃদ্ধির করা যায় এবং কিভাবে এই পরিবেশ রক্ষা করা যায় সে সব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এতে মিডিয়াসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতা চান জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান। তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও কলকারখানা বজ্র যেখানে সেখাখে ফেলতে দেয়া যাবে না। এজন্য জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও ক্লিনিকের নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনায় বসা প্রয়োজন। সে সব বর্জ কোথায়-কিভাবে তা ফেলা হবে আলোচনা মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, কোন ধরণের দূষিত বর্জ্য মহানন্দা নদীতে ফেলতে দেয়া হবে না। এই দূষিত বর্জের কারণে নদীর পরিবেশ ও পানি দূষিত হচ্ছে। আর এই পানি সর্ব সাধারণ ব্যবহার করছে। সভায় পরিবেশ রক্ষার্থে বিভিন্ন বিষয়ের উপরে আলোচনা ও প্রত্যেকে সচেতন হওয়ার আহŸান জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *