Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে দেশী মদ বিক্রেতা, বিক্রয় সহকারী ও সেবনকারীসহ ১৬ জনকে গেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ দল। শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে সদর উপজেলার আতাহারে লাইসেন্সকৃত মদের দোকানে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে মদ বিক্রি, সেবন ও বিক্রয়ে সহায়তার অভিযোগে এই ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পুরাতন বাজার এলাকার মৃত নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী’র ছেলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদ বিক্রেতা মনোতোষ চক্রবর্তী ওরফে মনা ঠাকুর (৫২), তাঁকে সহয়ায়তাকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আজাইপুরের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩০) ও মসজিদপাড়ার লালচানের ছেলে নুরতাজ (২০)। অন্য ১৩ জনকে বেআইনিভাবে মদ সেবনের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের ১ জনের বাড়ি জেলার গোমস্তাপুর ও ১২ জনের বাড়ি সদর উপজেলায়। শনিবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এব্যাপারে প্রেস ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম। এসময় তিনি বলেন, মূল অভিযুক্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতা মনোতোষ চক্রবর্তী ওরফে মনা ঠাকুরকে লাইসেন্সের একাধিক শর্ত ভঙ্গ করে এই ব্যবসা পরিচালনার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। মনা ঠাকুরকে অবৈধ এই ব্যবসায় সহায়তার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে তরিকুল ইসলাম (৩০) ও নুরতাজকে। একই সময় বেআইনিভাবে মদ সেবনরত অবস্থায় মোনা ঠাকুরের মদের দোকান থেকে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ১৩ জনের মদ সেবনের মেডিক্যাল রিপোর্ট দিয়েছে সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। এব্যাপারে সদর থানায় শনিবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন থেকে আতাহার বুলনপুর শিল্প এলাকায় অবৈধভাবে মদ বিক্রি ও মদ সেবনকারীদের আড্ডায় পরিনত করেছে মনোতোষ কুমার চক্রবর্তী। সে প্রথমে মুদিখানার দোকান করার জন্য জেলা পরিষদের কাছ থেকে লীজ নিলেও বাস্তবে সে অবৈধভাবে মদের ব্যবসা করে আসছে সেখানে। মদের ব্যবসা ও সেবনকারীদের সহায়তা করায় এলাকার শিল্প কল কারখানার মালিকের পড়তে হয় বেকায়দায়। ওই এলাকার পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গত ২০০৫ সালে  এলাকা থেকে অবৈধ মদের আড্ডা বন্ধের জন্য এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা আবেদন করলে সদর মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়। যার নম্বর ৯৯৫, তারিখ ০৪-০৪-২০০৫। জিডিতে মনোতোষ সেখানে কোন মদের ব্যবসা বা দোকান চালানো হয় না এবং ভবিষ্যতে কোন বেআইনী কাজ তাঁর দ্বারা হবে না বলে অঙ্গীকার করে। কিন্তু সে অধ্যবধি সেখানে বাড়ির এবং দোকানের নামে অবাধে মদের ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। সেখানে মদ পান করতে যাওয়া লোকজন অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে থাকে বলেও এলাকার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন। এলাকার বাণিজ্যিক ও সামাজিক পরিবেশ ¯^াভাবিক রাখতে ওই এলাকা থেকে মদের ভাটি সমূলে অপসারণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *