Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এবং প্রধানমন্ত্রীর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকিকে নিয়ে কটুক্তি করায় মঙ্গলবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি এ্যাড. ইয়াসমিন সুলতানা রুমা মামলা দায়ের করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ‘ক’ অঞ্চলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শরিফুল ইসলাম মামলাটি গ্রহণ করার পরই এফআইআর হিসেবে মামলাটি নেয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় মাহমুদুর রহমানসহ আরো কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যাক্তিকে আসামী করা হয়েছে। আদালতের মামলা নম্বর-৮৫৭/২০১৭ (নবাব), তারিখ-১২-১২-২০১৭ খ্রি.। মামলা সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমান গত ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ডেমোক্রোডিটক কাউন্সিল বিডিসি কর্তৃক ঢাকাস্থ প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার গণ মাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে “ইংল্যান্ডে লেবার পার্টি একজন মেম্বর অব দ্য পার্লামেন্ট আছেন যার নাম টিউলিপ সিদ্দিকি। লন্ডেনের এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের গুম সম্পর্কে এক সাংবাদিক জানতে চাইলে তিনি সেই সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে বলেছেন, সাবধানে কথা বার্তা বলবেন। ওই সাংবাদিক ছিলেন মহিলা এবং সন্তান সম্ভবা। টিউলিপ সিদ্দিকি ওই মহিলা সাংবাদিককে হুমকী দিয়ে বলেন সন্তান জন্ম দেয়া খুব কঠিন কাজ। ওইদিকেই মনোযোগ দিবেন। সাবধানে থাকুন আর প্রাণের প্রতি হুমকি দেয়া হল। আবার সন্তান সম্ভাবা বলে সন্তানের প্রতি হুমকি দিয়েছেন। মামলায় আরো উল্লেখ্য করেন মাহমুদুর রহমান বলেছেন “ঘটনা চক্রে এই টিউলিপ সিদ্দিকি বর্তমানে বাংলাদেশের একজন শাসক গোষ্ঠির পরিবারের সদস্য। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি। কাজেই তার যেটি অভ্যাস, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম দলন করা এবং পরিবারের অভ্যাস সেখানে থেকেও মুক্তি পাননি। তিনি ইংল্যান্ডে বড় হয়েছেন, লেখাপড়া করেছেন। কিন্তু জ্বিন কোথায় যাবে। জ্বিন তো একই রকম। কাজেই জ্বিন থেকেই সাংবাদিকদের হুমকি দিয়েছেন।” এমন বক্তব্যটি সম্পূর্ণ রুপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে মানহানিকর অসত্য বক্তব্য দাবি করে মঙ্গলবার দুপুরে এই মামলা করেন এ্যাড. ইয়াসমিন সুলতানা রুমা। মামলায় আরো উল্লেখ্য করেন, মাহমুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, “রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভ থাকে চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম। আর অন্যান্য স্তম্ভ পার্লামেন্ট, জুডিসিয়ালী ও এক্সিকিউটিভ। বাংলাদেশের পার্লামেন্ট জুডিশিয়ারী এক্সিকিউটিভের তিনটি স্তরের কবর রচনা হয়েছে। গণমাধ্যমের খবরের কথা আগেই বলেছি। ফলে চারটি স্তম্ভেরই কবর হয়ে গেছে। অর্থাৎ স্তম্ভের কোন অস্তিত্ব নাই। কাজেই আমার বিবেচনায় বাংলাদেশ নামক কোন রাষ্ট্রর অস্তিত্ব নাই। কারণ এটাকে রাষ্ট্র বলার কোন সুযোগ নাই। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের সঙগায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র হতে পারে না। একটা জায়গায় জমি থাকলো, জনগণ থাকলো, তাহলে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে রাষ্ট্র বলা যাবে না। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে কিছু ব্যাপার স্যাপার আছে, আইন কানুন আছে, স্তম্ভ আছে। বাংলাদেশ ভারতের একটি কলোনী হতে পারে। বাংলাদেশ অবশ্যই কোন বিবেচনাতে রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।” তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশকে অস্বীকার করেছেন। তিনি বাংলাদেশীয় সর্বভৌমত্ব ও সীমানাকে অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্যে দেশের ভিতরে নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকারণ এবং দেশের জন্য বিপজ্জনক। তাঁর দেয়া বক্তব্যে যে কোন সময়, যে কোন মুুহুর্তে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব চরম ক্ষতির মধ্যে পড়তে পারে বলে দাবি করে দেশের দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে এই মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলার দাবি এ্যাড. ইয়াসমিন সুলতানা রুমা বলেন, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গত ১ ডিসেম্বর ঢাকাস্থ প্রেসক্লাবে যে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো প্রচার করে ভূল, মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত, স্কানিমূলক, ষড়যন্ত্রমুলক, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে নিয়ে এবং বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে কটুক্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা বাংলাদেশকে প্রতিফলিত সরকারের প্রতি বিদ্বেষ ঘৃণা প্রকাশ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশকে অস্বীকার করে সার্বভৌমত্বের ক্ষতিকারক ও দেশের জন্য বিপজ্জনক বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অসত্য ও মানহারিকর বক্তব্য দেয়ায় দন্ডবিধি আইনের ১২৩ক/১২৪ক/৫০৫/৫০০ ধারা মতে অপরাধীর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছি। মামলার আইনজীবী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমান জানান, ১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল আয়োজিত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। সেই বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধুর পরিবার সম্পর্কে মিথ্যাচার, কটূক্তি এবং মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে বাংলাদেশকে ভারতের কলোনী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন- ‘বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র নয়। যা রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের সামিল। পাশাপাশি তার ওই বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর মানহানি হয়েছে। একারণে দঃ বিঃ আইনের ১২৩ক/১২৪ক/৫০৫/৫০০ ধারায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *