Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনে ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া কর্মীদের সাথে গোলটেবিল, টক-শোধর্মী অনুষ্ঠান, আলোচনা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার দুপুরে গোলটেবিল, টক-শো, আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান। দেশের উন্ন্য়নশীল মর্যাদায় উন্নীত হবার যোগ্যতা অর্জনের সাফল্য উদযাপনে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দু’ঘন্টাব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। সিনিয়র সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ হোসেন খান, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. প্রফেসর মাযহারুল ইসলাম তরু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান ফারুক মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক তসলিম উদ্দিন, জেলা ¯স্বাধীন প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ, গৌড় বাংলার সম্পাদক হাসিব হোসেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান, সাংবাদিক আজিজুর রহমান শিশির, সৈয়দ শাহজামাল, জাকির হোসেন  পিংকু, জমসেদ আলীসহ অন্যরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবুল হায়াত মো. রহমতুল্লাহ, ¯স্বাধীন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক তুফান, প্রবীন সাংবাদিক তালেবুন্নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” এর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জুসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা। গোলটেবিলে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন ও আগামী দিনে এই অর্জন ধরে রাখতে করনীয় বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় দেশ প্রকৃতপক্ষে যে সাফল্য অর্জন করেছে সে সম্পর্কে সকলের ধারণা থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এছাড়া এই অর্জনের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস, এর ধারবাবাহিকতা রক্ষা ও ভবিষ্যতে এই অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা সামাজিক সুরক্ষা, দারিদ্র বিমোচন, দূর্ণীতি রোধ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষার প্রসার, অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করেন। মিডিয়াদের গোলটেবিল চলাকালে মিডিয়াকর্মীীদের আলোচনা ও উন্নয়নশীল দেশের অর্জন বিষয় তুলে ধরতে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হতে হলে মানুষের মাথাপিছু আয় দরকার ১২০০ ডলার, সেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১৬০০ ডলার। জাতীয়ভাবে আমাদের সরকারের চাহিদা ও লক্ষ্য আরও উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার। বাংলাদেশে বর্তমানে ২২% মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। ৩৬% ৫ বছর বয়সী শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে। বস্তিবাসীরা অনেক ঝুঁকির মধ্যে বাস করছে। তিনি বলেন দেশের ৯৫% থেকে ৯৮% জনগোষ্ঠিকে সম্মানজনক স্থানে নিতে হবে। যে কোন দেশ ৪৫০০ ডলারের নিচে আয় হলে উন্নত দেশ হিসেবে ¯^ীকৃতি পায় না। এই ৪৫০০ ডলার মাথাপিছু আয় যেন আমাদের অর্জন হয় সেজন্য আমাদের সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে জিডিপি ২৫০ বিলিয়ন, লক্ষে পৌছতে হলে আমাদের প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারে আনতে হবে। জিডিপি’র একটি অংশ আসে আমাদের কৃষি খাত থেকে। কিন্তু কৃষি খাত থেকে আয় বাড়ানোর সুযোগ কম। আয় বৃদ্ধির সুযোগ গার্মেন্টস ও শিল্পখাত। শিল্পখাতে কাচামাল আমাদানী নির্ভর থেকে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই আমাদের চীন দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে হবে, আইসিটি খাতেও আয় বাড়ানো সম্ভব। দেশের ৭৫% কর্মী অদক্ষভাবে বিদেশে যায়। দেশের মানবসম্পদকে দক্ষভাবে গড়ে তুলে বিদেশে পাঠানো হলে আরও বেশী বেশী বৈদেশিক আয় বাড়বে। এদের আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা পার হতে হবে সামনের দিনে, অর্জনগুলো যেন থেমে না যায়। আমাদের দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে, ১০ বছর পর স্থিতিশীল হতে পারে। তাহলে ২০৩১ সালের মধ্যে অনেকে বার্ধক্যে পরিণত হবে। তখন রাষ্ট্রের ও পরিবারের ব্যয় বাড়বে, আয় কমে যাবে। তাই আমাদের এখন থেকেই ভাবতে হবে দেশের উন্নয়নে একসাথে কাজ করে যাওয়ার জন্য। এই সুযোগ সব সময়ই আসবে না। সাধারণ মানুষের কাছে এসব অর্জনগুলো প্রচারের ব্যবস্থা করতেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।  গণমাধ্যমকর্মীগণসহ সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় পারে সকল বাধা পেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের সফলতা নিয়ে আসতে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *